
ওয়াহেদুজ্জামান দিপু, ইতালি থেকে : যুক্তরাষ্ট্রের পথ ধরে এবার ইউরোপেও জোরালো হতে শুরু করেছে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ। আর এ বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছে নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন, অস্ট্রিয়া,ইতালি গ্রিসসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে তারা প্রতিষ্ঠা করেছে মুক্তাঞ্চল। দাবি তুলেছে ইসরাইলের সঙ্গে যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্নের। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্সের।
দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বিক্ষোভ দমনে ইতিমধ্যে তৎপর হয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকার। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও শহরে পুলিশ এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং গ্রেফতারের তথ্যও জানা গেছে। মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যেমন করে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পাশাপাশি ইসরাইলি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যাবতীয় চুক্তি বাতিলের প্রশ্নকে সামনে এনেছেন, তেমন করেই ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরাও একই দাবি সামনে আনছে।
শনিবার ইতালির রাজধানী রোমে’র গুরুত্বপূর্ন পিয়েজ্জা ভিত্তোরিও এলাকায় রোমে অবস্থিত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। আন্দোলন কারীদের চারপাশ ঘিরে রাখেন রোমে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।এছাড়াও বিক্ষোভ মিছিলের চারপাশে ব্যাপক পরিমান আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দেখা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের পর বর্তমানে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের বিরুদ্ধে দুর্নাম রটাতে নানা মিথের আশ্রয় নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অনেকে এ বিক্ষোভকে ‘ছাত্র ইন্তিফাদা’ ও ‘আমেকিান বসন্ত’ বলে উল্লেখ করছেন। তবে বিভিন্ন ভাষ্যকররা ফিলিস্তিনিদের পক্ষের এই ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন বিক্ষোভ আন্দোলনকে নানাভাবে অভিহিত করার চেষ্টা করছেন। এই বিক্ষোভ এখন বিশ্বের নজর কেড়েছে।
গত ১৭ এপ্রিল নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে এবং গাজার জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে তাঁবুর শিবির স্থাপন করে বিক্ষোভ শুরু করে। এরপর বিশ্বের ৫০টি দেশের শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিক্ষোভের বিস্তার ঘটেছে। এমনকি ভারতের নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ চলছে। গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৩৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যার মধ্যে ১৩ হাজারই শিশু।