
যায়যায়কাল ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুগপৎ হামলার আজ অষ্টম দিন। এই দিনটিতে গণমাধ্যমের অনলাইন পেজজুড়ে ছিল জ্বলন্ত তেহরানের ছবি।
এই পত্রিকার দুইটি সংবাদের শিরোনাম ছিল ‘ইসরায়েলের হামলায় তেহরানে ‘আগুনের নদী’ ও ‘তেহরান ও আশপাশের ৫ তেল স্থাপনায় হামলা’ যা থেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল অন্যান্য হামলার মতো ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপরও ওয়াশিংটন ও তেল আবিব সমন্বিত হামলা চালাচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকেও এমন দাবি আসে।
তবে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জানিয়েছে, তেল অবকাঠামোর হামলার জন্য মূলত তেল আবিবই দায়ী।
রোববার এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, ইরানের সব ধরনের জ্বালানি অবকাঠামো মার্কিন হামলার আওতার বাইরে থাকবে।
মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনকে তিনি আরও জানান, সাময়িকভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে থাকলেও পেট্রোলিয়াম ও গ্যাস খাতের এই অস্থিরতা খুব বেশিদিন স্থায়ী হবে না।
‘সবচেয়ে খারাপ অবস্থাতেও এটা কয়েক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হবে না। কয়েক মাসে গড়ানোর তো প্রশ্নই ওঠে না’, যোগ করেন তিনি।
শনিবার তেহরান ও আশেপাশের এলাকাগুলোতে তেল সংরক্ষণাগারে হামলা চালায় ইসরায়েল। গত সপ্তাহে যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে এটাই প্রথম হামলার ঘটনা। এসব হামলায় তেহরানে রাতভর আগুনের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। রোববার সকালেও পুরো শহর ধোঁয়ার অন্ধকারে ঢেকে ছিল।
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট নিশ্চিত করেন, ‘এগুলো ইসরায়েলের হামলা। তারা স্থানীয় তেলের ডিপোতে হামলা চালিয়েছে। এগুলো থেকে গ্যাস ট্যাংক ভরানো হোত।’
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে একবারও হামলা চালায়নি। ইরানের তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস বা জ্বালানি সংক্রান্ত কোনো ধরনের অবকাঠামোর বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই আমাদের।’
আট দিনে ধরে চলতে থাকা সংঘাতের শুরুর দিকেই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির ২০ শতাংশ ওই কৌশলগত নৌপথ দিয়ে যায়।
এই ঘটনায় সারা বিশ্বে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। বেড়েছে তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মানদণ্ড হলো ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট। এক দিনের ব্যবধানেই এই সূচকের মান ১২ শতাংশ বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে, এ সপ্তাহে এটি ৩৬ শতাংশ বেড়েছে।
মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসন দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, বৈশ্বিক তেল উৎপাদনের চার শতাংশ ইরান থেকে আসে।
ইরানের তেল রপ্তানির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও একে পাশ কাটিয়ে চীনসহ আরো কয়েকটি দেশে এই তেল রপ্তানি করে থাকে তেহরান।
সম্পাদক ও প্রকাশক :মোঃ আলামিনুল হক,নিবার্হী সম্পাদক :আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল
যোগাযোগ :ফোনঃ +৮৮০২৫৭১৬০৭০০,মোবাইলঃ ০১৭১২৯৪১১১৬,Emails:jaijaikalcv@gmail.com
সম্পাদকীয় কার্যালয় : ১২০/এ, আর. এস. ভবন, ৩য় তলা, মতিঝিল, ঢাকা