সোমবার, ১২ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,২৬শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কাঁচামরিচের ঝালে নাভিশ্বাস কুড়িগ্রামবাসীর

আতিকুর রহমান, কুড়িগ্রাম উত্তর : কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন বাজারে কয়েক দিনের ব্যবধানে কাঁচামরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে মরিচের দাম ২০০ থেকে ২২০ টাকা থাকলেও গত দুই তিন ধরে হঠাৎ করে কাঁচামরিচের দাম আকাশচুম্বিতে পৌঁছেছে।

দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের পক্ষে কাঁচামরিচ কেনা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কাঁচামরিচ ছাড়াও করলা, বেগুন, আলুসহ সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে গেছে।

কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক দুই সপ্তাহে আগেও ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারীসহ অধিকাংশ বাজারগুলোতে কাঁচামরিচের কেজি ১৫০-২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

কিন্তু গত দুই তিনদিনের ব্যবধানে কাঁচামরিচের কেজি ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।

কাঁচামরিচের সঙ্গে আলু ৬০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, পটোল ৪০ টাকা, ঝিঙ্গা ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, চাল কুমড়া প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, রসুন ২০০ টাকা, পেঁয়াজ ১০০ টাকা, আদা ২০০ টাকা, কচু ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে চরম বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষজন।

কাঁচামরিচ ও আলুসহ সবধরণের সবজির দাম দ্বিগুন বেড়ে যাওয়ায় বাজার মনিটরিংয়ের জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষজন। কাঁচামরিচের দাম বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি দোকানে কাঁচামরিচ থাকলেও অধিকাংশ দোকানে কাঁচামরিচ পাওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পুরাতন রেজিস্ট্রি পাড়া নিবাসী মোঃ আবু মুসা বলেন, কুড়িগ্রাম পুরাতন জিয়া বাজারে কাঁচামরিচের দাম ক্রেতার নাগালের বাইরে। খুচরা বিক্রেতারা কাঁচা মরিচ ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তা ছাড়া আলু, বেগুন, পটোল করলাসহ সব ধরনের সবজির দাম দ্বিগুণ বেড়েছে। এ অবস্থায় আমরা নিম্ন আয়ের মানুষজন চরম বিপাকে পড়েছি।

কুড়িগ্রাম পুরাতন জিয়া বাজারের সবজি বিক্রেতা মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, বৃষ্টি ও বন্যার কারণে বাজারে কাঁচামরিচের আমদানি কমে গেছে। আমরা প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ৩২০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকায় ক্রয় করে ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করছি। আমদানি কমে যাওয়ায় মরিচ, আলুসহ সবধরণের সবজির দাম বেড়েছে। স্থানীয়ভাবে কাঁচামরিচ পাওয়া যায় না। এগুলো এলসির। এ ছাড়াও ঠাকুরগাঁও, কুষ্টিয়া, নিলফামারী, দেবিগঞ্জ, পঞ্চগড় থেকে এসব মরিচের সরবরাহ আসে।

কুড়িগ্রাম ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এস এম মাসুম দৌল্ল্যা বলেন, জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে আমাদের বাজার মনিটরিং অভিযান চলমান রয়েছে। তবে কাঁচা মরিচের সরবরাহ কম থাকায় দামটা দ্বিগুন বেড়েছে। সেই সঙ্গে পেঁয়াজসহ অন্যান্য সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আশা করছি দুয়েকদিনের মধ্যে কাঁচামরিচের দামও কমে যাবে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *