

জিয়াউল হক (খোকন), নিজস্ব প্রতিবেদক: কুষ্টিয়া জেলার তিনটি উপজেলা থেকে ২০২১-২২ অর্থবছরে বছরে গড়ে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার পান রপ্তানি হচ্ছে।
মিরপুর উপজেলা থেকে ২০ টন পান লন্ডনসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে রপ্তানি হয়েছে। কুষ্টিয়া সদর থেকে একই সময়ে রপ্তানি হয়েছে ২২ টন ও ভেড়ামারা উপজেলা থেকে ২৭ টন পান। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য জানিয়েছেন।
একসময় লোকসানের কারণে পান চাষে বিমুখ হয়ে পড়েন চাষিরা। তবে গত তিন অর্থবছরে পান চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন জেলার কৃষকরা। ফলে অনেক চাষি আবারও ঝুঁকছেন পান চাষে। ঐতিহ্যবাহী জেলা কুষ্টিয়ায় ২০২১-২২ অর্থবছরে ২ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে পান চাষ করা হয়েছে।
ভেড়ামারা উপজেলার পানচাষি শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রথমবার পানের বরজ করতে একটু বেশি খরচ হয়। কিন্তু পরের বার চাষ করতে খরচ কম। স্থানীয় বাজার, কুষ্টিয়া, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলা পানের চাহিদা বেশি।
উপজেলার আরেক পানচাষি আব্দুর রহমান দীর্ঘদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে পান পাঠান। ব্যয়বহুল ও দুর্গম যোগাযোগের কারণে লাভ হতো কম। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর তিনি নিজেই দুই চালান পান ঢাকা, চট্টগ্রামে নিয়ে বিক্রি করেছেন।
বাংলা পান, মিঠা পান, দেশি পান, ঝালি পান, সাচি পান, কর্পূরী পান, গ্যাচ পান, মাঘি পান, উজানি পান, নাতিয়াবাসুত পান, বরিশাল পান ও উচ্চফলনশীল এবং রোগ প্রতিরোধে সক্ষম বারি পান-১, ২ এবং ৩ ছাড়াও বেশ কয়েক জাতের পান চাষ হয় এই জেলায়।
কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, কুষ্টিয়ার পানচাষিরা পান উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ বিষমুক্ত প্রযুক্তি জৈব বালাইনাশক পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এ পদ্ধতি ব্যবহার করে পানচাষিরা ভালো ফল পেতে শুরু করেছেন।
আর্থিকভাবেও বেশ লাভবান হচ্ছেন। এ জৈব বালাইনাশক পদ্ধতিতে পান চাষ করে একদিকে যেমন স্বাস্থ্যসম্মত পান উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে, তেমনি আগের তুলনায় পানের ফলনও বেড়েছে। এ জৈব বালাইনাশক পদ্ধতির আওতায় হলুদ আঠালো ফাঁদ, তুঁতে, চুন ও পানির সংমিশ্রণ ইত্যাদি ব্যবহার করা হচ্ছে। জৈব বালাইনাশক ট্রাইকোডার্মা ফিজি মাইট, পোকা দমনে ইয়েলো স্টিকি ট্যাপ ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়। এ প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার করে এখন পানচাষিরা সম্পূর্ণ নিরাপদ পান উৎপাদন করছেন।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পানচাষি সাইদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন এ অঞ্চলের পান চাষিরা প্রচলিত কীটনাশক ব্যবহার করে বালাই দমন করে আসছিলেন। তিনি ও তার এলাকার অনেক কৃষক এ বালাইনাশক পদ্ধতি ব্যবহার করে ভালো ফল পেয়েছেন।
যশোর অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিচালক রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, পান চাষ করে অধিক লাভবান হচ্ছেন কুষ্টিয়ার কৃষকরা। আধুনিক উপায়ে বাংলা জাতের পান চাষ করে বিঘাপ্রতি ১ থেকে দেড় লাখ টাকা লাভ করছেন তারা।
তিনি জানান, কয়েক বছর আগেও যেখানে অধিক লাভের আশায় কৃষক তামাক চাষে ঝুঁকেছিলেন, এখন তারা পান চাষ শুরু করেছেন। কুষ্টিয়ার পান চাষে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। জেলার পান চাষিদের জন্য বড় কোনো প্রকল্প হাতে নেয়া যায় কিনা ভেবে দেখা যেতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক :মোঃ আলামিনুল হক,নিবার্হী সম্পাদক :আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল
যোগাযোগ :ফোনঃ +৮৮০২৫৭১৬০৭০০,মোবাইলঃ ০১৭১২৯৪১১১৬,Emails:jaijaikalcv@gmail.com
সম্পাদকীয় কার্যালয় : ১২০/এ, আর. এস. ভবন, ৩য় তলা, মতিঝিল, ঢাকা