
মোঃ আশরাফুল ইসলাম, গাজীপুর: গাজীপুর মহানগরীর গাছা এলাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে মো. আব্দুর রহিম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পরে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন রাত ৮টার দিকে বাসন থানার মালেকের বাড়ি ছয়দানা এলাকার অনিতা ডেকোরেটর নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে অভিযোগের ভিত্তিতে আব্দুর রহিমকে আটক করা হয়। পরে তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল এবং গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খানের সঙ্গে আব্দুর রহিমের কয়েকটি পুরোনো ছবি ছড়িয়ে দিয়ে তাকে আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে দাবি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে দায়ের হওয়া একটি বৈষম্যবিরোধী মামলায়ও তার নাম রয়েছে।
তবে স্থানীয় বিএনপির নেতাদের দাবি, আব্দুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ২০০৯ সালে দলের সাধারণ সদস্য হন এবং ২০২৫ সালে সদস্যপদ নবায়ন করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলনেও তিনি অংশ নিয়েছেন বলে তারা দাবি করেন।
আব্দুর রহিম বলেন, মালেকের বাড়ি মার্কেট কমিটির নির্বাচনে তিনি আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নির্বাচন শেষে নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য তৎকালীন সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেলের বাসভবনে গেলে আহ্বায়ক হিসেবে তিনিও সেখানে যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ছবিগুলো ওই সময়ের বলে তিনি দাবি করেন।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ভোট চাইতে এলে এলাকার একজন সামাজিক ব্যক্তি হিসেবে তাদের অনুরোধে অল্প সময়ের জন্য সঙ্গে যান। সে সময়ই ছবিগুলো তোলা হয় বলে তার দাবি।
নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ে আব্দুর রহিম বলেন, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তার নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন এবং মামলাগুলো তদন্তাধীন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আব্দুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে মালেকের বাড়ি এলাকায় "অনিতা ডেকোরেটর" নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত।
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম রাব্বানী বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে। স্থানীয় বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তার রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করা হয়। তদন্তে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কোনো প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে তথ্য পাওয়া যায়। বিষয়টি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থে একটি মহল আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে তাকে হয়রানির চেষ্টা করছে।
তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক :মোঃ আলামিনুল হক,নিবার্হী সম্পাদক :আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল
যোগাযোগ :ফোনঃ +৮৮০২৫৭১৬০৭০০,মোবাইলঃ ০১৭১২৯৪১১১৬,Emails:jaijaikalcv@gmail.com
সম্পাদকীয় কার্যালয় : ১২০/এ, আর. এস. ভবন, ৩য় তলা, মতিঝিল, ঢাকা