

মফিজুর রহমান, পেকুয়া(কক্সবাজার): কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার প্রধান ফটকের চৌমুহনী থেকে পেকুয়া বাজার পর্যন্ত ব্যস্থতম এই সড়কে প্রতিদিন চলছে হাজার হাজার গাড়ি। দূর পাল্লার বাসসহ স্থানীয় বিভিন্ন ছোট বড় যানবাহনের বেপরোয়া গতিতে অতিষ্ট এলাকাবাসী।
অদক্ষ ড্রাইভার, এবং কম বয়সী চালকের হাতে রয়েছে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে তিন হাজারের বেশী বেটারী চালিত অটো টমটম গাড়ি। ফলে, দ্রুত গতির এই সড়কে কোনও গতিরোধক না থাকায়, দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছে সাত আটটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারী।
পেকুয়ার বৃহত্তর বানিজ্যিক কেন্দ্র আলহাজ্ব কবির আহাম্মদ চৌধুরী পেকুয়া বাজার থেকে চৌমুহনীর দুরত্ব এক কিলোমিটার। এই পথ অতিক্রম করতে একজন যাত্রীর ভাড়া গুনতে হয় পাঁচ টাকা। পাঁচ টাকার ভাড়ায় চালিত গাড়ির সংখ্যা আনুমানিক চার হাজারের বেশি। যানচলাচলে কোনও ধরনের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা নাই বললেই চলে। গতিরোধক না থাকায় অদক্ষ চালকের বেপরোয়া গতিতে দুর্বিষহ জনজীবন।
এদিকে সড়কের মাঝামাঝি পেকুয়ার বহুল পরিচিত পেকুয়া ইসলামিয়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসা হেফজখানা ও এতিমখানা। ছুটির পরে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকের রাস্তা পারাপারে প্রতিনিয়ত জীবন ঝুঁকি। তাছাড়া এই সড়কের পাশে রয়েছে পেকুয়া আর্দশ মহিলা মাদ্রাসা, দারুত তাকওয়া মহিলা হিফযখানা, দারুর রহমান হিফযখানা, তাজবীদুল করআন হিফজখানা, দারুন নাজাত মহিলা মাদ্রাসা, আল মা'আরিফ মাদ্রাসা, তাবলীগ মার খাঁজ জামে মসজিদ ও হিফজখানা, প্রি ক্যাডেট স্কুল এন্ড কলেজসহ লাইফ কেয়ার হাসপাতাল,নুর ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ব্রাক অফিস, পল্লী বিদ্যুৎ সাব জোনাল অফিস ও বাংলাদেশ ইসলামি ব্যাংক।
সচেতন মহলের দাবি, জনগুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক এই সড়কের পাশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় গতিরোধক দরকার। গতিরোধক না থাকায় প্রতিদিন ঘটছে অনাকাঙ্ক্ষিত অহরহ ছোট বড় দুর্ঘটনা। "একটি দুরঘর্টনা সারা জীবনের কান্না" এই সষ্কায় দিন কাটছে সড়কের পাশে বসবাসকারী, সাধারণ পথচারীসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত কোমলময় শিশুদের। এছাড়া দ্রুত গতির এই সড়কে গতিরোধক না থাকায় প্রাণ হারিয়েছেন ইতোমধ্যে চার পাঁচজন মানুষ। আহত হয়েছেন অনেকেই।
এই বিষয়ে পেকুয়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসা'র পরিচালক মাওলানা আবুল বাশার ও দারুত তাকওয়া মহিলা হিফজখানার পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, মাদরাসা ছুটির পর আমরা অনেক টেনশনে থাকি, রাস্তায় টমটমের অভাব নেই। পনেরো বছরের কম বয়সী ছেলে ও টমটম চালায়। মাদ্রাসায় আসা যাওয়ার পথে একটা ছাত্রের অঘটন ঘটলে দায়ভার কে নিবে। সড়কে দূর্ঘটনা কমাতে অনেক গুলো পদক্ষেপ রয়েছে তার মধ্যে গতিরোধক অন্যতম। তাদের দাবী, দুর্ঘটনা এড়াতে চৌমুহনী থেকে পেকুয়া বাজার পর্যন্ত সড়কে দুইটা স্পীড ব্রেকার (গতিরোধক) দেওয়া হউক।
এই বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী আসিফ মাহমুদ জানান এই সড়কে সব সময় প্রচুর জ্যাম থাকে এবং এটা আরসিসি ঢালায় রোড় বিধায়, এখানে গতিরোধক দিলে আরো সমস্যা সৃষ্টি হবে।
এ বিষয়ে পেকুয়ার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা সাইফুল ইসলাম জানান, চৌমুহনী থেকে পেকুয়া বাজার সড়কে দূর্ঘটনা নিরসন করতে গতিরোধকের বিষয়ে আগামী আইন শৃংখলা কমিটির মিটিং ও উন্নয়ন সভার আলোচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক :মোঃ আলামিনুল হক,নিবার্হী সম্পাদক :আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল
যোগাযোগ :ফোনঃ +৮৮০২৫৭১৬০৭০০,মোবাইলঃ ০১৭১২৯৪১১১৬,Emails:jaijaikalcv@gmail.com
সম্পাদকীয় কার্যালয় : ১২০/এ, আর. এস. ভবন, ৩য় তলা, মতিঝিল, ঢাকা