

যায়যায় কাল প্রতিবেদক : বিদ্যুতের মিটার নিয়ে নানা অভিযোগের মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে একটি প্রিপেইড মিটার নিয়ে হাজির হয়েছেন সিরাজগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয়।
বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াই এই মিটারে লাল বাতি জ্বলে থাকে এবং এই সংসদ সদস্যের নির্বানি এলাকার বাসিন্দারা এ বিষয়ে তার কাছে বেশ কিছু অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তাদের ধারণা, বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলেও এই মিটারে বিল উঠতে থাকে।
জয়ের বক্তব্য শোনার পর নিম্নমানের প্রিপেইড মিটার কেনা হয়েছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
কমিটি প্রিপেইড মিটারে গ্রাহকের আস্থা অর্জনের কথাও বলেছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে কমিটির সভাপতি মু: জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকটি হয়।
বৈঠক শেষে সংসদ সদস্য জয় বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকার কিছু গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, বিদ্যুতের সংযোগ না থাকলেও মিটারে লাল বাতি জ্বলে। এটি নিয়ে তাদের বিভ্রান্তি ছড়ায় বা তাদের ধারণা তৈরি হয়েছে ব্যবহার না করলেও এই মিটারে বিল ওঠে। এ বিষয়টি আমি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাছে জানতে চাই, তারাও পরিষ্কারভাবে কিছু বলতে পারে নাই। তাদেরও একটু বিভ্রান্তি আছে। তখন তারা একটি মিটার আমাকে দেখায়, যেটিতে সংযোগ ছাড়াই লাল বাতি জ্বলছে। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মিটারটি নিয়ে আসি।
মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে অনেক সময় এমনটি হতে পারে। তবে এতে অতিরিক্ত বিল আসবে না। কমিটি এ বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করে দেখে আগামী বৈঠকে জানাতে বলেছে। এটি নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ায়, সে বিষয়েও মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। যদি ত্রুটির কারণে বাতি জ্বলে কিন্তু বিল না ওঠে থাকে, তাহলে তা গ্রাহকদের জানাতে হবে।
দেশে বর্তমানে ছয় বিতরণ কোম্পানির বিদ্যুৎ গ্রাহক ৪ কোটি ৭১ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৫২ লাখ প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করেন। বাকিদের ক্রমান্বয়ে এর আওতায় আনার কাজ চলছে।
প্রিপেইড মিটারের বহু গ্রাহক অস্বাভাবিক বিল উঠার অভিযোগ করছেন। তাদের ধারণা, প্রিপেইড মিটারে অতিরিক্ত টাকা কাটা হচ্ছে।
অভিযোগ জমা পড়ছে স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসেও। বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা বিক্ষোভও করছেন, বিষয়টি আদালতেও গড়িয়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
সংসদ সচিবালয়ের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে ভারত, নেপাল, ভূটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি পরিস্থিতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অবহিতকরণ ও বাস্তবায়ন কৌশল পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যেও পরিবেশবান্ধব বিকল্প মাধ্যম ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়।
স্থায়ী কমিটির পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এবং বোর্ডের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে টেকসই সমাধানের জন্য কমিটি গুরুত্বারোপ করে।
বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য সেলিম মাহমুদ বলেন, ভারত, নেপাল, ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমদানির সর্বশেষ অবস্থা মন্ত্রণালয় আমাদেরকে জানিয়েছে। এ বিষয়ে অগ্রগতিতে সংসদীয় কমিটি সন্তুষ্ট। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আমাদের অবহিত করা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের কৌশল কমিটির বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।
সংসদ সদস্য মো. আবু জাহির, সেলিম মাহমুদ, আব্দুর রউফ , মো. ওমর ফারুক এবং কানন আরা বেগমও বৈঠকে অংশ নেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক :মোঃ আলামিনুল হক,নিবার্হী সম্পাদক :আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল
যোগাযোগ :ফোনঃ +৮৮০২৫৭১৬০৭০০,মোবাইলঃ ০১৭১২৯৪১১১৬,Emails:jaijaikalcv@gmail.com
সম্পাদকীয় কার্যালয় : ১২০/এ, আর. এস. ভবন, ৩য় তলা, মতিঝিল, ঢাকা