
বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে পাঁচটি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন, পাঁচটি সম্ভাব্য ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) ও বিপুল পরিমাণ দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে এসব অভিযান চালানো হয়।
শুক্রবার রাতে বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজিবির নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) অধীন টারগুপাড়া বিওপির একটি টহল দল বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ৫৩ ও ৫৪ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী ছায়াপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়।
এ সময় চার-পাঁচজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখে বিজিবির টহল দল চ্যালেঞ্জ করে। তখন তারা কয়েকটি ব্যাগ ফেলে পাশের পাহাড়ি জঙ্গলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচটি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন, পাঁচটি সম্ভাব্য আইইডি, একটি মেটাল ডিটেক্টর, একটি সোলার প্যানেল, কিছু শুকনা খাদ্যসামগ্রী, একটি মুঠোফোন, পাওয়ার ব্যাংক ও কিছু সাধারণ পোশাক উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উদ্ধার হওয়া মাইন ও আইইডিগুলো বালুর বস্তা দিয়ে সুরক্ষিত করে লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে টহল জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়করণ দল মোতায়েনের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে। এ ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে বিদ্যমান বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় আইইডি ও অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন স্থাপনের ঝুঁকি এবং দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ চোরাচালানের প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে, যা দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এই প্রেক্ষাপটে বিজিবি গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার, নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
বিজিবি আরও জানায়, একই দিন দুপুরে বিজিবির কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধীন বাইশফাঁড়ী বিওপির একটি টহল দল ৩৭/২-এস নম্বর পিলারের সংলগ্ন আমবাগান এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় তিন কেজি দাহ্য পাউডার, তিন কেজি মেপোক্স (মিথাইল ইথাইল কিটোন পারক্সাইড), তিন রোল নাইলন কাপড় এবং তিন লিটার দাহ্য রাসায়নিক তরল উদ্ধার করা হয়। পরীক্ষার জন্য এগুলো চট্টগ্রাম বিভাগীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানোর কার্যক্রম চলছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক :মোঃ আলামিনুল হক,নিবার্হী সম্পাদক :আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল
যোগাযোগ :ফোনঃ +৮৮০২৫৭১৬০৭০০,মোবাইলঃ ০১৭১২৯৪১১১৬,Emails:jaijaikalcv@gmail.com
সম্পাদকীয় কার্যালয় : ১২০/এ, আর. এস. ভবন, ৩য় তলা, মতিঝিল, ঢাকা