

সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারী শহরের কালিতলা থেকে পুলিশ লাইন্স পর্যন্ত ৭ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার বাইপাস সড়কটি যান চলাচলে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এ সড়কে বাঁক রয়েছে ৪০ থেকে ৪২টি।
সূত্র জানায়, কালিতলা ও মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজ থেকে ৪২ মোড়ের দু’পাশে রয়েছে দোকান ও বসতবাড়ি। এতে দুর্ভোগে পড়ে বাস, ট্রাক ও নাইট কোচসহ দূরপাল্লার ভারী যানবাহন। সড়কে প্রায়ই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা।
জেলা শহরটি সড়কের ওপরে হওয়ায় যানজট নিরসনের জন্য স্থানীয় পর্যায় অনেক আন্দোলনের পর বাইপাস সড়কটির কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর। শেষ হয় ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রয়ারি।
অপরদিকে, সড়কটি ২১ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে উদ্বোধন করা হয়। তিন বছর আগে সড়ক ও জনপদ বিভাগের অর্থায়নে ২৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি নির্মাণ করা হয়। তবে তার সুফল থেকে বঞ্চিত জনগণ।
জেলা শহরের বড় বাজার এলাকার মুদি ব্যবসায়ী আবু সাইদ মিলন জানান, ‘কালিতলা মোড় থেকে ওই সড়কটি চালু হলে (মূল) প্রধান শহরটি যানজট মুক্ত হবে।বিশেষ করে সকাল ও বিকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ঢাকাগামি নাইটকোচ বিআরটিসিসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচলে সড়কটি ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এই সময় জরুরি রোগী পরিবহনকারী ভ্যান, মাইক্রো ও অ্যাম্বুলেন্স শহরের মাঝপথে আটকা পড়ে যায়। আর দুর্ঘটনাতো আছেই।’
একই শহরের মুদি ব্যবসায়ী তাপস কুমার ভৌমিক জানান, ‘নীলফামারী শহরে একটি মাত্র রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করতে হয়। এছাড়াও স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী, মূমূর্ষ রোগী ও উত্তরা ইপিজেডের হাজার হাজার চাকুরিজীবি ছেলে মেয়ে ও বাস ট্রাক সকাল বিকাল একই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। এতে প্রতি মাসে প্রায়ই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। তাই বাইপাস সড়কটির চালুর অনুরোধ জানান তিনি।’
জেলা শহরের নিউবাবু পাড়ার ট্রাকচালক মো. খতিবর রহমান খোকন জানান, ‘কালিতলা থেকে পুলিশ লাইন্স পর্যন্ত ৪০ থেকে ৪২টি বাগ বা মোড় অতিক্রম (পার) করতে হয়। বিশেষ করে বড় ট্রাক (১০ চাকা) ও কোচ (বাস) বাইপাস সড়কের বাকগুলোতে ঘোরানো যায় না। মানুষের দোকানে ও বাসাবাড়িতে ঢুকে যায়। তাই সড়কটি সোজা করলে যানবাহন চলাচল সহজ হবে ও শহরের লোক চলাচলের ঝুঁকি কমে আসবে।’
নীলফামারী সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের বাদিয়ার মোড় এলাকার পান দোকানদার খাঁন জাহান আলী বলেন, ‘বাইপাশ সড়কটি তৈরি করার অনেক দিন হলো, তবে বাস ট্রাক চলে না কারণ কি জানি না। তবে সড়কটির পিছনে নাকি সরকার অনেক টাকা খরচ করছে, তাতে লাভ কি হলো। সড়কটি চালু হলে ব্যবসাসহ মানুষের উপকারে আসতো।
এদিকে, রিকশা, ভ্যান, অটোভ্যান, পিকআপ, বাস, ট্রাক ও নাইটকোচের যন্ত্রনায় শহরে ঢুকা যায় না।
জেলা শহরের তোহা ক্লাসিক পরিবহণ মালিক মো. আবু তাহের বলেন, ‘আমরাও চাই শহরটি যানজটমুক্ত হোক। তবে বাইপাস সড়কের যতগুলো বাঁক পার হতে হয়, এতে বড় গাড়ির চলাচল কোনো মতেই সম্ভব না। তাই দ্রুত সড়কটি প্রশস্ত করার আহ্বান জানান তিনি।’
জানতে চাইলে নীলফামারী সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান, ‘৭ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার সড়কে বাক বা মোড় (আঁকা বাঁকা) পড়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৪২টি। এটি সোজা করার কাজ প্রক্রিয়াধীন।বাইপাস সড়কটি চালু বা সোজা করতে গেলে প্রায় ৮ দশমিক ৪ একর জমির প্রয়োজন। এটি নিয়ে উর্দ্ধতন কতৃপক্ষসহ স্থানীয় এমপির সঙ্গে কথা চলমান রয়েছে। আশা করি, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে। তাহলেই মূল শহর যানজোট মুক্ত হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক :মোঃ আলামিনুল হক,নিবার্হী সম্পাদক :আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল
যোগাযোগ :ফোনঃ +৮৮০২৫৭১৬০৭০০,মোবাইলঃ ০১৭১২৯৪১১১৬,Emails:jaijaikalcv@gmail.com
সম্পাদকীয় কার্যালয় : ১২০/এ, আর. এস. ভবন, ৩য় তলা, মতিঝিল, ঢাকা