
মোঃ আবুল খায়ের, পীরগঞ্জ (রংপুর): রংপুরের পীরগগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর মাহতাবিয়া দ্বি-মুখী স্কুল এন্ড কলেজে সরকারী বিধি বিধান উপেক্ষা করে জুনিয়র শিক্ষক ও ফৌজদারী মামলার আসামিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দেয়ায় অবিভাবক ও এলাকাবাসীর মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছে এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে প্রকাশ,রসুলপুর মাহতাবিয়া স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত (অধ্যক্ষ)আবেদুল ইসলাম গত ৮ জুন চাকুরীর মেয়াদ শেষ হবার কারনে অবসরে যাবার প্রাক্কালে বিধি অনুযায়ী জ্যোষ্ঠ শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম(ইনডেক্স-২৯৬০৭৩) কর্মরত থাকার পরেও তাকে দায়িত্ব না দিয়ে বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলে ওই বিদ্যালয়ের জুনিয়র কম্পিউটার শিক্ষক, ফৌজদারী মামলার আসামি মোস্তাফিজার রহমান(ইনডেক্স-৫৬২০৮০) কে তড়িঘড়ি করে দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয় থেকে দ্রুত সটকে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য যে,ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে যে জুনিয়র শিক্ষক মোঃ মোস্তাফিজার রহমানকে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে আমলী আদালত পীরগঞ্জ এ জিআর-১৩৩/২০২২ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে। উক্ত মামলায় তিনি ১৩(তের) দিন হাজতবাস করেন।
বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিধি অনুযায়ী আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব পাবার কথা অথচ আমাকে না দিয়ে মোটা অংকের বিনিময়ে অনিয়মের মাধ্যমে জুনিয়র শিক্ষককে দায়িত্ব দিয়েছেনে বিদায়ী প্রধান শিক্ষক। আমি এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পাওয়া জুনয়ির শিক্ষক মোস্তাফিজার রহমান বলেন, বিদায়ী প্রধান শিক্ষক আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন , আমি তা পালন করছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক বলেন, বিদায়ী প্রধান শিক্ষক কাজটি সঠকি করেননি। তিনি সরকারী বিধি লংঘন করেছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “সিনিয়র শিক্ষক থাকতে একজন জুনিয়রকে দায়িত্ব দেয়ার কোন বিধান নেই। অভিযোগ পাবার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আমি তদন্ত করে রির্পোট দিব।”
এদিকে অবসরে যাবার পুর্ব মুহূর্তে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম রাতের আঁধারে খুলে নিয়ে গেছেন।
এ নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যপারে আবেদুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে মালামাল খুলে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,“ মালামাল আমি খুলে নিয়ে এসেছি, কিন্তু তা আমার বাড়িতে নেই।”
সম্পাদক ও প্রকাশক :মোঃ আলামিনুল হক,নিবার্হী সম্পাদক :আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল
যোগাযোগ :ফোনঃ +৮৮০২৫৭১৬০৭০০,মোবাইলঃ ০১৭১২৯৪১১১৬,Emails:jaijaikalcv@gmail.com
সম্পাদকীয় কার্যালয় : ১২০/এ, আর. এস. ভবন, ৩য় তলা, মতিঝিল, ঢাকা