
যায়যায়কাল প্রতিবেদক: ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বাসের ছবিসংবলিত একটি পোস্টে ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিলো, শুধু একটা স্নাইপার এর অভাব ছিলো’ মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. আবু বকর সিদ্দিককে (২২) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমনএ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
এর আগে আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপপরিদর্শক মো. ইয়াছিন পাইক।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং এজাহারে উল্লেখ করা অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আসামিকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করেছেন।
মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে হত্যার চক্রান্তে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার, এ ঘটনার নেপথ্যে কোনো সুসংগঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, স্নাইপার বা অস্ত্র সরবরাহকারী চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া গ্রেপ্তার আসামি কোনো সুসংগঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, চক্র বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য কি না এবং ঘটনার সঙ্গে কোনো চক্র বা মাস্টারমাইন্ডের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আবেদনে আরও বলা হয়, আসামির কাছ থেকে জব্দ করা আলামতের পাশাপাশি অন্য কোনো ডিভাইস বা ডিজিটাল আলামত রয়েছে কি না, তা শনাক্ত, উদ্ধার ও জব্দ করা এবং বাংলাদেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
এসব বিষয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার আসামিকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।
আদালতে শুনানিতে আসামির রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, ঘটনার সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। আসামি কেন এমন করেছিলেন? কোন কোন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত, কে এর পেছনে রয়েছে, তা তদন্তের জন্য আসামির সর্বোচ্চ সাত দিনের রিমান্ডের প্রার্থনা করছেন।
এ সময় বিচারক আসামিকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনার পক্ষে কোনো আইনজীবী আছেন?’ তখন আসামি চারিদিকে তাকিয়ে বলেন, ‘না, কেউ নেই।’ এরপর বিচারক বলেন, ‘কেন আপনি এমন করেছেন?’ তখন আসামি বলেন, ‘এমনি করেছিলাম। কোনো উদ্দেশ্য ছিল না, মজা করেছিলাম। এটা আমার ভুল হয়েছে।’ বিচারক শুনানি শেষে আসামির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ২৩ অক্টোবর আবু বকর সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২১ অক্টোবর ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী একটি বাসের তিনটি ছবি পোস্ট করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসের পরিবর্তে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বাস ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিলো, শুধু একটা স্নাইপার এর অভাব ছিলো’ বলে মন্তব্য করা হয়।
পরবর্তী সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই আইডির ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করে রাজশাহীর পবা থানার ঘোলহাড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তার বাবা মো. আয়নাল হককেও আটক করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তে তার বাবার সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর আবু বকর সিদ্দিকের ব্যবহৃত মুঠোফোন জব্দ করা হয়।
ফোনটি পর্যালোচনা করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে আপত্তিকর মন্তব্যের তথ্য পাওয়া গেছে বলে আবেদনে বলা হয়।
এ ঘটনায় ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের এসআই মো. মানিক হোসেন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক :মোঃ আলামিনুল হক,নিবার্হী সম্পাদক :আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল
যোগাযোগ :ফোনঃ +৮৮০২৫৭১৬০৭০০,মোবাইলঃ ০১৭১২৯৪১১১৬,Emails:jaijaikalcv@gmail.com
সম্পাদকীয় কার্যালয় : ১২০/এ, আর. এস. ভবন, ৩য় তলা, মতিঝিল, ঢাকা