

ব্রাহ্মনবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আল মামুন সরকারের ছেলে মাহি মোহাম্মদ আল মামুনকে ৭ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তার ২ সহযোগীকেও আটক করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে আটক তিনজনকে আসামি করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় মাদক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে মাহি মোহাম্মদ আল মামুনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মুন্সেফপাড়া এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম।
স্থানীয়রা জানান, সকাল ১১টার দিকে মাহি মোহাম্মদ আল মামুন শহরের মৌলভী পাড়ায় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বর এলাকায় তার বাবার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে গিয়ে টাকা দাবি করে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি তার বাবার ব্যক্তিগত কর্মচারীকে মারধর করে কার্যালয়ে তালা দিয়ে আটকে রাখেন। সেখান থেকে তিনি শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে গিয়ে সোনালী ব্যাংকের একটি গাড়িতে গুলি করে চলে যান। এই ঘটনার খবর পেয়ে মুন্সেফপাড়ায় তার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ।
অভিযানের সময় উপস্থিত স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ মাহি মোহাম্মদ আল মামুন এবং তার দুই সহযোগীদেরকে ফেন্সডিল ও পিস্তলসহ আটক করে। কিন্তু অভিযানে নেতৃত্বদানকারী পুলিশের কর্মকর্তারা পিস্তল উদ্ধারের বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে অস্বীকার করেন। এই ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম জানান, আল মামুন সরকার তার ছেলের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। মাদকাসক্ত ছেলের হাত থেকে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা এবং তাকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠাতে সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সাত বোতল ফেনসিডিল এবং ২ সহযোগীসহ তাকে আটক করে।
তাদের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) সাফায়েত উল্লাহ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামীরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আল মামুন সরকারের ছেলে মাহি মোহাম্মদ আল মামুন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজ পাড়ার গোলাম মোস্তফার ছেলে মাহজারুল মোস্তফা মিথিল ও ব্রাহ্মনবাড়িয়া পৌরসভা ৩নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর আক্তার হোসেন চৌধুরীর ছেলে আরিয়ান চৌধুরী।
আসামিদের বিকালে আদালত কারাগারে প্রেরণ করে। এই ব্যাপারে ব্রাহ্মনবাড়িয়া পৌরসভা ৩নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর আক্তার হোসেন চৌধুরী জানান ঘটনার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। খোঁজ খবর নিচ্ছি। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আল মামুন সরকার সাংবাদিকদের জানান আমার জিডির পরিপেক্ষিতে আমি তাকে পুলিশ দিয়ে আটক করেছি। উল্লেখ্য: ২০২০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পূর্ব মেড্ডাস্থ বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এলাকার এক বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে এক তরুণীকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল মাহি মোহাম্মদ আল মামুন ও তার সহযোগীরা।
ঘটনার পর মামলা করায় মাহির হুমকি-ধামকিতে ওই তরুণীর মা বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। এর আগে, ২০১৯ সালের ২৫ জানুয়ারি রাতে আখাউড়া শহরের মসজিদপাড়া এলাকায় একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলিসহ মাহি মোহাম্মদ আল মামুন এবং তার তিন সহযোগীকে ধরে থানায় দিয়েছিল স্থানীয় জনতা। সে সময় পুলিশ একটি ব্যক্তিগত গাড়িও জব্দ করে। পরে পুলিশ মাহিকে বাদ দিয়ে অন্য সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক :মোঃ আলামিনুল হক,নিবার্হী সম্পাদক :আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল
যোগাযোগ :ফোনঃ +৮৮০২৫৭১৬০৭০০,মোবাইলঃ ০১৭১২৯৪১১১৬,Emails:jaijaikalcv@gmail.com
সম্পাদকীয় কার্যালয় : ১২০/এ, আর. এস. ভবন, ৩য় তলা, মতিঝিল, ঢাকা