
যায়যায়কাল প্রতিবেদক: নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, ভোটকেন্দ্রে কেউ বিশৃঙ্খলা করতে পারবে না। কেন্দ্রে প্রভাব খাটানো, অযথা ভিড় জমানো কিংবা আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ থাকবে না। আচরণবিধি যেভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, তা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও জনগণের কাছে আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে- ভোট নিরাপদ আমাদের হাতেই।’
সোমবার দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন কমিশনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। ভোটারদের মধ্যে কোনো ভয়ভীতি কাজ করতে দেওয়া হবে না। ভোটকেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে, যাতে ভয় দেখানো ব্যক্তিরাই ভয় পায়। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ভোটারদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন তিনি।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় প্রায় ১০ জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এসব টিম তিনটি ভাগে কাজ করবে। এর মধ্যে দুটি টিম ইতোমধ্যে মাঠে কাজ করছে এবং আরেকটি টিম নির্বাচনকালীন চার দিন দায়িত্ব পালন করবে। যারা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকবেন, তাদের মধ্যে তিনটি গুণ অবশ্যই থাকতে হবে-স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা। কোনো বিষয় গোপন করা যাবে না। সক্ষমতা না থাকলেও তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। সরকার বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কর্মকর্তাদের কোনো একপেশে নির্দেশনা দেওয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সানাউল্লাহ বলেন, এবারের নির্বাচনে কর্মকর্তারা বিভিন্ন নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ করছেন, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ ভোট’ নিয়েও প্রচার কার্যক্রম চলছে, তবে ভোটারদের এটি সম্পর্কে স্পষ্টভাবে বোঝাতে হবে এবং এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
পোস্টাল ভোট যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি বলেন, ‘যার ভোট, তাকেই ভোট দিতে হবে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। স্ক্যানিংয়ে কোনো পোস্টাল ভোট বাদ পড়লে সেটি গণনায় আসবে না।’
ভোটগ্রহণ পদ্ধতি প্রসঙ্গে সানাউল্লাহ বলেন, ভোটকেন্দ্রে কলম ব্যবহার করা যাবে না, কারণ এতে ইচ্ছাকৃতভাবে ভোট নষ্ট করার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে কলমের পরিবর্তে পেন্সিল ব্যবহার করা হবে। এসব বিষয়ে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, জাতি হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সবকিছুই একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গণতন্ত্রের ঘাটতি থাকলে একটি দেশের কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে, তা আমরা ইতোমধ্যেই প্রত্যক্ষ করেছি।
তিনি বলেন, ‘আমরা আর সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখতে চাই না। আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ দেখতে চাই।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের কাজে বিএনসিসির সদস্যরাও সহযোগিতা করবেন বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নাজমুল ইসলাম সরকার। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফা।
সভায় চাঁদপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এতে জানানো হয়, প্রবাসী ভোটারের সংখ্যার দিক থেকে চাঁদপুর জেলা দেশব্যাপী পঞ্চম স্থানে রয়েছে এবং জেলায় নিবন্ধিত পোস্টাল ভোটারের সংখ্যা ৪৬ হাজার ৪৩৬ জন।
সম্পাদক ও প্রকাশক :মোঃ আলামিনুল হক,নিবার্হী সম্পাদক :আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল
যোগাযোগ :ফোনঃ +৮৮০২৫৭১৬০৭০০,মোবাইলঃ ০১৭১২৯৪১১১৬,Emails:jaijaikalcv@gmail.com
সম্পাদকীয় কার্যালয় : ১২০/এ, আর. এস. ভবন, ৩য় তলা, মতিঝিল, ঢাকা