

মো.শফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়ালাইসিসের খরচ বৃদ্ধির প্রতিবাদে ১০ই জানুয়ারি গ্রেফতার হওয়া, নেতৃত্ব দানকারী মুস্তাকিম ১৫ই জানুয়ারি জামিনে মুক্তিলাভ করেন। এদিকে মুস্তাকিমের মা সন্তানকে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা।
গত ১০ই জানুয়ারি চমেকের স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সেন্টারের ডায়ালাইসিস ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদের আন্দোলনে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে সড়ক অবরোধ করে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের হাতাহাতিকে বিভিন্ন গনমাধ্যম ঢালাওভাবে সংবাদ প্রকাশ করে। যেখানে ঘটনাস্থলে দ্বায়িত্ব পালনকারী পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে একতরফা দোষী করা হয়েছিল। তবে, হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ওসি নাজিম উদ্দিন ছবি নেওয়ার জন্য মোবাইল ধরলে আসামী মোস্তাকিম ওসির গায়ে সজোরে আঘাত করে। এতে ওসির মোবাইলটি হাত থেকে পড়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়াই ঘটনাস্থল থেকে সুন্নিয়া মাদ্রাসার ছাত্র মুস্তাকিম কে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছিল।
সিসিটিভি ফুটেজটিতে দেখা যায়, ওসি নাজিম উদ্দিন ছবি তুলতে গেলে অভিযুক্ত মোস্তাকিম ইচ্ছাকৃত ভাবেই তার উপর হামলা করে। এসময় অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা থামাতে এলে চারিদিকে হট্টগোল লেগে যায়৷ এক পর্যায়ে মোস্তাকিমকে পাশের ইপিক হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে, তার সহযোগীরা সেই হাসপাতালে ডুকে পুলিশের উপর হামলা করে । এতে ওসিসহ পাঁচলাইশ থানার দায়িত্বগত ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে দর্শকদের মনোযোগ পেতে কিছু গনমাধ্যম পুলিশের উপরই দায় চাপিয়ে দেয়।
মাদ্রাসার ছাত্র মুস্তাকিম জামিনে মুক্তি লাভ করে আমাদের প্রতিবেদককে বলেন, আজ ১৫ই জানুয়ারি আদালত থেকে আমি জামিনে মুক্তি পাই। ১০ই জানুয়ারি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ চলাকালীন অবস্থায় পাঁচলাইশ থানা পুলিশ আমার উপর কোন নির্যাতন করেনি, মারধর করেনি বরং আমি পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধা প্রদান করেছিলাম । তাই পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করেছে। এতে পাঁচলাইশ থানা পুলিশের কোন দোষ ছিল না।
মুস্তাকিমের মা ছেলে জামিনে মুক্তিলাভ করায় আনন্দে আত্মহারা। তিনি বলেন, আমার ছেলে গ্রেফতার হওয়ার পর বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে আমার ছেলেকে পুলিশ মেরেছে এ কথাটি শুনে আমি দিশেহারা হয়েছিলাম। তখন,আমি কখন যে কি বলেছিলাম নিজেও জানিনা। প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে মুস্তাকিমের মা বলেন, পাঁচলাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ আমাকে সেই দিন লাথি মারেনি। আমি অসুস্থ রোগী আমার মুস্তাকিম আমার একমাত্র সম্বল। তার বাবা নেই।
সম্পাদক ও প্রকাশক :মোঃ আলামিনুল হক,নিবার্হী সম্পাদক :আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল
যোগাযোগ :ফোনঃ +৮৮০২৫৭১৬০৭০০,মোবাইলঃ ০১৭১২৯৪১১১৬,Emails:jaijaikalcv@gmail.com
সম্পাদকীয় কার্যালয় : ১২০/এ, আর. এস. ভবন, ৩য় তলা, মতিঝিল, ঢাকা