

খন্দকার শাহ নেওয়াজ, রায়পুরা: নরসিংদীর রায়পুরায় মানহানিকর তথ্য প্রদান ও প্রকাশের প্রতিবাদে সাংবাদ সম্মেলন করেছেন রায়পুরা পৌর সভার সাবেক মেয়র আব্দুল কুদ্দুস মিয়া।
রোববার বিকেলে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সাবেক মেয়র আব্দুল কুদ্দুস মিয়ার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাবেক মেয়র আব্দুল কুদ্দুস মিয়া।
লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, গত শনিবার কতিপয় আওয়ামী দালাল, স্বৈরাচারের দোসর, চিহ্নিত সন্ত্রাসী দানা মিয়া, হান্নান মোল্লা, রমিজ ফকির গং আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা, বানোয়াট, মানহানিকর সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তারই প্রতিবাদ স্বরূপ আজকের এই সংবাদ সম্মেলন। আমি আব্দুল কুদ্দুস মিয়া, বিএনপি মনোনীত সাবেক দুইবারের জনগণ দ্বারা নির্বাচিত রায়পুরা পৌরসভার মেয়র। রায়পুরা পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক, সাবেক সহ সভাপতি, রায়পুরা আর কে আর এম উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ, সাবেক সভাপতি, রায়পুরা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ ও সাবেক সভাপতি রায়পুরা হাফিজিয়া মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদ।
গত ৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রায়পুরা বাজার জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটি নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। আওয়ামী লীগ সমর্থিত রায়পুরা পৌরসভার বিনা ভোটের মেয়র জামাল মোল্লা। তার বড় ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি, রায়পুরা বাজার মসজিদের স্বঘোষিত সভাপতি আব্দুল লতিফ মোল্লা। তিনি প্রায় ১৫/১৬ বছর যাবত দলীয় প্রভাবে ও ক্ষমতার বলে কোন মুসল্লী বা কাউকে তুয়াক্কা না করে আধিপত্য বিস্তার করে বিনা রশিদে মুসল্লিদের কাছ থেকে টাকা গ্রহন করেন। মুসল্লীরা জানতে পেরেছে আব্দুল লতিফ মোল্লা রায়পুরা বাজার মসজিদের ফান্ড থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্বসাৎ করেছেন। কেউ কোন হিসাব নিকাশ সংক্রান্ত প্রশ্ন করলে তাকে মামলার ভয় ও তাদের গ্যাং দ্বারা হুমকি ধমকি দিয়ে থামিয়ে দিতেন ।
গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচার হাসিনা সরকার পতনের পর মসজিদের মুসল্লিগণ বিগত দিনের হিসাব নেয়ার ও নতুন কমিটি করার প্রস্তাব করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জুম্মার নামাজে রায়পুরা পৌর বিএনপি সভাপতি ইদ্রিস আলী মুন্সি ও আমিসহ এলাকার অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিগণসহ উপস্থিত ছিলাম।
মসজিদে উপস্থিত মুসল্লিগণের উদ্দেশ্যে নতুন কমিটি করার জন্য ইদ্রিস আলী মুন্সি প্রস্তাব করেন। কিছু সংখ্যক মুসল্লি নতুন কমিটি করার আগে পূর্বের হিসাব নিকাশ প্রদানের দাবি করেন। তৎক্ষণাৎ আওয়ামী লীগের দালাল দানা মিয়া, হান্নান মোল্লা, রমিজ গংরা সমস্বরে চিৎকার করে বলতে থাকেন আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ মোল্লাকে ছাড়া কোনো কমিটি করতে দেয়া হবে না এবং কাউকে কোনো হিসাব দেয়া হবে না। এতে সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। আমি ও ইদ্রিস আলী মুন্সি আপ্রাণ চেষ্টা করে হট্টগোল থামিয়ে দেই ।
উল্লেখ থাকে যে, আমি যখন বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ মার্কা নিয়ে মেয়র নির্বাচন করি তখনও উক্ত দানা মিয়া, হান্নান মোল্লা, রমিজ ফকির সহ কতিপয় সুবিধাবাদীরা বিএনপির হয়েও আওয়ামী লীগের দালালি করে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী জামাল মোল্লার পক্ষে মিছিল মিটিং ও বিভিন্ন বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে টাকা বিতরণ করে। ষড়যন্ত্রকারী হান্নান মোল্লা, দানা মিয়া, রমিজ গ্যাংরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে গত শনিবার বিকালে আমার সুনাম নষ্ট করার জন্য একটি মানহানিকর সংবাদ সম্মেলন করেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করছি।
সাংবাদিক সম্মেলনে সাবেক মেয়র ছাড়াও উপস্থিত থেকে যুবদল নেতা আলফাজ উদ্দিন মিঠু ও বিএনপি নেতা আবুবকর সিদ্দিক বক্তব্য রাখেন। তারা সাবেক মেয়র, আওয়ামী লীগ নেতা জামাল মোল্লার বিভিন্ন প্রকল্পে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির বিষয় তুলে ধরেন। সম্মেলনে রায়পুরা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক :মোঃ আলামিনুল হক,নিবার্হী সম্পাদক :আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল
যোগাযোগ :ফোনঃ +৮৮০২৫৭১৬০৭০০,মোবাইলঃ ০১৭১২৯৪১১১৬,Emails:jaijaikalcv@gmail.com
সম্পাদকীয় কার্যালয় : ১২০/এ, আর. এস. ভবন, ৩য় তলা, মতিঝিল, ঢাকা