

আব্দুল মোমিন, শেরপুর (বগুড়া) : পানিবৃদ্ধির সাথে সাথে বগুড়া শেরপুর উপজেলার করতোয়া নদীর সাতটি পয়েন্টে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে ফসলি জমি, বসতবাড়ি, গাছপালা ও ভিটা জমি ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আরো বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করছে। শেষ সম্বল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণে সরকারি সহযোগিতা চেয়েছেন ভাঙন কবলিত এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় নদীতে জমি হারানো জামিল উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি জানান, নদী তীরের একখণ্ড জমি থেকে সারা মাসের খাবারের জোগার আসে তার পরিবারের। সর্বনাশা ভাঙনে শেষ সম্বল হারানোর আতঙ্ক তার চোখে মুখে। শুধু তার নয়, জমি, ভিটামাটি হারানোর তালিকায় মির্জাপুর ইউনিয়নের কাশিয়াবালা, কবরস্থান ও খানপুর ইউনিয়নের কয়ের খালি, খানপুর দক্ষিণ পাড়া এবং সুঘাট ইউনিয়নের বিনোদপুর উত্তর পাড়া, মাওনা, বিনোদপুর পূর্ব পাড়া করতোয়া নদী পাড়ের মানুষ। ফলে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে গাছপালার বসতবাড়ি ও আবাদী ফসলি জমি। তীব্র ভাঙনে দিশাহারা হয়ে পড়েছে কৃষক ও নদীপাড়ের মানুষ।
বসতবাড়ী নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া আব্দুল মোমিন জানান, নদীর পাড়ে কয়েক শতক জমি এই জমিতে বাড়ি করে আছি। এটাই আমার একমাত্র সম্বল। সেই জমিটি ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আমি থাকব কোথায়? আমার পরিবার নিয়ে কোথায় উঠব?
বসতবাড়ী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া বেলাল হোসেন জানান, বাড়ী ভেঙ্গে নদীর মধ্যে চলে যাচ্ছে। গাছ, বাঁশ ও বস্তা দিয়েও ভাঙ্গন রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি। এখন অন্যের জায়গায় হয়তো আশ্রয় নিতে হবে।
জামিল উদ্দিন আমার শুধু দুই বিঘা জমি। এর মধ্যে প্রায় দেড়বিঘা এবার নদী ভাঙনে নদীর মধ্যে চলে গেছে। এই জমিতে চাষ করেই আমার সংসার চলতো। এখন আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছি। হাফ বিঘাও যদি নদীতে চলে যায়, পথের ফকির হওয়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই।
চান মিয়া জানান, আমার বাড়ির পাশে ভিটা-জমি। সেগুলো নদীতে পানি বৃদ্ধি হওয়ার সাথে সাথে ব্যাপক ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে গাছপালাসহ আমার ভিটা মাটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
তোফায়েল আহম্মেদ জানান, আমার বয়সে করতোয়া নদী এত ভাঙ্গতে দেখিনি। এবার নদীটি ব্যাপক আগ্রাসী হয়েছে। এতে আমার দুই বিঘা আঁখ, এক বিঘা পাট, ঘাস ও সবজির চাষ করেছিলাম সব নদী ভাঙ্গনে ভেসে গেল। আমি ব্যপক ক্ষতির মধ্যে পড়লাম। কামাল হোসেন জানান, প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে এমন ভাঙ্গন দেখিনি। এবার ভাঙ্গনে বাপদাদার ভিটাসহ প্রায় ১ লক্ষ টাকার দামি গাছ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
ভাঙনরোধে সমন্বিত উদ্দ্যোগের আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন জিহাদী। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। দ্রুত তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মজিবর রহমান মজনু বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা ও ভাঙনরোধে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক :মোঃ আলামিনুল হক,নিবার্হী সম্পাদক :আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল
যোগাযোগ :ফোনঃ +৮৮০২৫৭১৬০৭০০,মোবাইলঃ ০১৭১২৯৪১১১৬,Emails:jaijaikalcv@gmail.com
সম্পাদকীয় কার্যালয় : ১২০/এ, আর. এস. ভবন, ৩য় তলা, মতিঝিল, ঢাকা