

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে অবৈধভাবে গাছ কাটা ও কাঠ পাচারের অভিযোগে বন বিভাগের দায়ের করা মামলায় বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ কৃষক লীগের স্থানীয় নেতাসহ ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার ১৯২৭ সালের বন আইনে (২০০০ সালে সংশোধিত) চুনারুঘাট থানায় মামলাটি করেন সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বছরের ১২ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১৫ মে পর্যন্ত চুনারুঘাটের পাইকপাড়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটা হয়। পরে কেটে নেওয়া গাছ চুরি করে বিক্রি ও কেনাবেচা করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন বলেন, একটি গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলাটি করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে সংরক্ষিত বন থেকে গাছ কাটা, কাঠ চুরি এবং চুরিকৃত কাঠের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ২০ জনকে চিহ্নিত করার কথা বলা হয়েছে।
মামলায় চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মারুফ মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মাধবপুরের শাহজাহানপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল, চুনারুঘাট উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিক মিয়া মহলদার, উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর খান এবং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক করিম সরকার।
এ ছাড়া মিরাশি ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। মামলায় কয়েকজন কাঠ ব্যবসায়ীকেও আসামি করা হয়েছে।
রেঞ্জ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় মামলাটি করা হয়েছে। তার অভিযোগ, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গাছ কেটে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ক্ষতি করে আসছিলেন।
মামলার অন্যতম আসামি শফিকুল ইসলাম আবুল গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, তার সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এ অভিযোগ আনা হয়েছে। গাছ কাটার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি প্রকৃতিপ্রেমী এবং প্রায় ২০ বছর ধরে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করছি।’
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানান তিনি।
মামলার প্রধান আসামি মারুফ মিয়া এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত অন্য আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) হবিগঞ্জ ইউনিটের সহসভাপতি তোফাজ্জল সোহেল বলেন, বনের ক্ষতি করার সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, তার রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে আইনের আওতায় আনা উচিত।
সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বন থেকে গাছ চুরির বিষয়ে বন বিভাগের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক :মোঃ আলামিনুল হক,নিবার্হী সম্পাদক :আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল
যোগাযোগ :ফোনঃ +৮৮০২৫৭১৬০৭০০,মোবাইলঃ ০১৭১২৯৪১১১৬,Emails:jaijaikalcv@gmail.com
সম্পাদকীয় কার্যালয় : ১২০/এ, আর. এস. ভবন, ৩য় তলা, মতিঝিল, ঢাকা