
নুরুল ইসলাম, গাইবান্ধা: গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় কোনো অনুমোদন ছাড়াই চলছে ৩টি ইটভাটা।
জানা গেছে, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মাঠেরহাট গ্রামে মের্সাস আরএন্ডবি-২ ও ধর্মপুর বাজারের পূর্ব দিকে দুলাল ভরট গ্রামে মের্সাস আরএন্ডবি নামে ২টি জিগজ্যাগ ইটভাটা অনুমোদন ছাড়া চালাচ্ছেন মো. রাজিব রহমান। একই উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের,পশ্চিম রামজীবন গ্রামে মের্সাস অর্নব ব্রিকস, নামে একটি জিগজ্যাগ ইটভাটা চালাচ্ছেন মো. খয়বর হোসেন সরকার। আইনের তোয়াক্কা না করে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই পরিচালনা করে আসছেন। ফলে একদিকে যেমন সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।
আইনে আছে, পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া কোনো ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না (৪ ধারা)। কিন্তু গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার এ ইটভাটা ৩টি চলছে কোন খুঁটির জোরে? ভাটা ৩টিই প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে কৃষি জমির উপর এবং ব্যস্ততম পাকা সড়কের পাশে। ফলে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের বয়োবৃদ্ধ, রাস্তায় যাতায়াতকারী পথচারী ও স্কুলের শিশু-কিশোররা বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
আইনে আছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি ইট তৈরির জন্য কৃষিজমি, পাহাড়, টিলা, মজা পুকুর, খাল, বিল, খাঁড়ি, দিঘি, নদ-নদী, বা পতিত জায়গা থেকে মাটি কেটে ইট ভাটায় আনতে পারবে না। অথচ এ ভাটা ৩টিসহ উপজেলার অধিকাংশ ইটভাটায় তা করা হচ্ছে। যা ইউনিয়ন বা গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করে, ভারি যানবাহন দ্বারা ইট বা ইটের কাঁচামাল পরিবহন করা আইনের (৫ ধারা) লংঘনের শামিল।
আইনানুযায়ী আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যেক এলাকা, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা সদর, সরকারি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন বন, অভয়ারণ্য, বাগান বা জলাভূমি. কৃষি জমি ও প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় কোনো ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। কিন্তু এ ভাটা ৩টি তার বিপরীত। তাই অননুমোদিত স্থানে ইটভাটা স্থাপন করার দায়ে বিধি মোতাবেক ২ লক্ষ টাকা জরিমানা ও ২ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেয়া দরকার বলে এলাকার সচেতন মহল মনে করেন। বিষয়টি সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন এটাই ভুক্তভোগী জনসাধারণের প্রত্যাশা।
সম্পাদক ও প্রকাশক :মোঃ আলামিনুল হক,নিবার্হী সম্পাদক :আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল
যোগাযোগ :ফোনঃ +৮৮০২৫৭১৬০৭০০,মোবাইলঃ ০১৭১২৯৪১১১৬,Emails:jaijaikalcv@gmail.com
সম্পাদকীয় কার্যালয় : ১২০/এ, আর. এস. ভবন, ৩য় তলা, মতিঝিল, ঢাকা