
সুমন আল-মামুন, হরিণাকুণ্ডু (ঝিনাইদহ): ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় জিকে প্রধান সেচ খালের ওপর নির্মিত দুইটি সেতু প্রায় দেড় যুগ ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সেতুটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবুও প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও ছোট যানবাহন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি ব্যবহার করছে। তবে ভারী যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।
উপজেলার ২নং জোড়াদহ, হরিশপুর ও কুলবাড়িয়া সংলগ্ন ব্রিজ ও ৬নং ফলসী ইউনিয়নের বেলতলা ও শড়াতালা গ্রামের মাঝামাঝি, বেলতলা–শড়াতালা প্রধান সড়কের ওপর আলমডাঙ্গা মেইন খালের ওপর সেতুটির অবস্থান। গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি দিয়ে অন্তত তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ১৫ টি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ নিয়মিত চলাচল করে।
এসময়ে দেখা পথচারী আবদুল কাদের বলেন, এই সেতু দীর্ঘদিনদিন ভাঙ্গা অবস্থায় আছে, তিনি কাজের উদ্দেশ্য প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজে যান। তিনি বলেন, ভাঙা পাটাতনের ওপর দিয়ে হাঁটতে খুব ভয় লাগে। বিকল্প রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়েই চলাচল করতে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ষাটের দশকে (১৯৬২) সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নির্মিত সেতুটির পাটাতন ২০০৯ সালের দিকে ভেঙে পড়তে শুরু করে। প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত পাটাতনের অধিকাংশ অংশ বর্তমানে নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয়রা বাঁশ ও চাটাই দিয়ে অস্থায়ীভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না।
বর্তমানে সেতু দুটির রেলিংয়ের সিংহভাগ সেচ খালের মধ্যে পড়ে রয়েছে। এতে চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়েছে। মাঝেমধ্যে এখানে দুর্ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় আশপাশের দোকানিরা উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন।
এই সড়ক ব্যবহার করে কৃষকেরা কুলবাড়িয়া বাজার, ঐতিহ্যবাহী মান্দিয়াবাজার ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলা সদরের বাজারে কৃষিপণ্য পরিবহন করেন। ভারী যান চলাচল বন্ধ থাকায় পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। বেলতলা ও শড়াতালা এলাকায় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম বাবু মিয়া বলেন, এটি তার নিজ গ্রামের সেতু। বহুবার পানি উন্নয়ন বোর্ডে যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তিনি দ্রুত নতুন একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস দৈনিক যায়যায়কালকে বলেন, এই সেতুসহ আরও কয়েকটি সেতু মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে। একটি রিহ্যাবিলিটেশন প্রকল্পে সব ভাঙা সেতুর তালিকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে পর্যায়ক্রমে কাজ শুরু করা হবে।
তিনি আরো বলেন, হরিণাকুণ্ডু উপজেলার সকল জরাজীর্ণ ব্রিজগুলোর বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ব্রিজটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছি।
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি পোকৌশলী রুহুল ইসলাম জানান, “রামনগর ২আর মেইন জিকে সেচ প্রকল্পের উপর নির্মিত দুটি ব্রিজের অবস্থা নাজুক। জনগণের যাতায়াতের সুবিধার্থে দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজন।” তিনি আরও জানিয়েছেন, এই ব্রিজ দুটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। কার্যকর বরাদ্দ পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজ পূর্ণনির্মাণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক :মোঃ আলামিনুল হক,নিবার্হী সম্পাদক :আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল
যোগাযোগ :ফোনঃ +৮৮০২৫৭১৬০৭০০,মোবাইলঃ ০১৭১২৯৪১১১৬,Emails:jaijaikalcv@gmail.com
সম্পাদকীয় কার্যালয় : ১২০/এ, আর. এস. ভবন, ৩য় তলা, মতিঝিল, ঢাকা