

মো. এরশাদ আলী, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) : দেশের একমাত্র মিঠাপানির মাছের প্রজননক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদী। নানা কারণে এই নদী অনন্য। দখলের পাশাপাশি দূষণের মুখে হালদা তার জীববৈচিত্র্য হারাতে বসেছে। যখন প্রাকৃতিক উৎসের মাছ কমে যাচ্ছে, হালদা নদীকে দেশীয় মাছের প্রজননক্ষেত্র হিসেবে রক্ষা করা যখন খুবই জরুরি, ঠিক তখনই দূষণের বিষে ভারাক্রান্ত হচ্ছে নদীটি। অজস্র শিল্পকারখানার বর্জ্যই নদীটির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
হালদার তীরবর্তী বিভিন্ন কারখানা বর্জ্য সরাসরি হালদায় প্রবেশের কারণে জীববৈচিত্রের ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। গত ১১ দিনে ৫ টি বড় মা মাছ ও একটি ডলফিন মরে ভেসে উঠার পর থেকে হালদা নদী রক্ষা কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসন দূষণের কারণ খূঁজতে পরিদর্শনে নামেন।
হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বিগত এক সপ্তাহে হালদা নদী থেকে ৫টি মৃত মা মাছ ও ১ টি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে। যা হালদা নদীর জলজ বাস্তুতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। হালদায় বর্তমানে মনুষ্যসৃষ্ঠ ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড বিভিন্ন শাখা খালের মাধ্যমে হালদায় সরাসরি ফেলা হচ্ছে, ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য, অন্যান্য শিল্পকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য, পোল্ট্রি বর্জ্য, গৃহস্থালী ও মানববর্জ্য, হালদা ও শাখাখালে অবৈধভাবে জাল, বঁড়শি ও বিষ ব্যবহার করে মাছ নিধন। অবৈধ বালু উত্তোলন সমস্যা এবং দূষণের উৎসগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।
সরেজমিন পরিদর্শন করে দূষণের বিভিন্ন কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
গতকাল সোমবার হালদা দূষণের বিভিন্ন কারণ চিহ্নিত করতে পরিদর্শন করেন স্থানীয় প্রশাসন, পরিদর্শনে ছিলেন হাটহাজারী উপজেলা ইউএনও এ বি এম মশিউজ্জামান, রাউজানের ইউএনও, অংগ্যজাই মারমা, জেলা গবেষণা কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দিন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারুক মাইদুজ্জামান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোর্শেদ, শিকারপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল খালেক প্রমুখ।
সম্পাদক ও প্রকাশক :মোঃ আলামিনুল হক,নিবার্হী সম্পাদক :আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল
যোগাযোগ :ফোনঃ +৮৮০২৫৭১৬০৭০০,মোবাইলঃ ০১৭১২৯৪১১১৬,Emails:jaijaikalcv@gmail.com
সম্পাদকীয় কার্যালয় : ১২০/এ, আর. এস. ভবন, ৩য় তলা, মতিঝিল, ঢাকা