

যায়যায়কাল ডেস্ক: অধিকৃত পশ্চিম তীরে বড় ধরনের নতুন ইসরায়েলি বসতি নির্মাণের পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ ও কানাডা। সমালোচকদের আশঙ্কা, এই বসতি নির্মাণ করা হলে পশ্চিম তীর কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে।
বৃহস্পতিবার দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও নরওয়ে ইসরায়েলের E1 বসতি প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২০০টির বেশি আবাসিক ইউনিট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বানকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে।
দেশগুলো বলেছে, এই পরিকল্পনা ‘ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভৌগোলিক সংযোগ’ ক্ষতিগ্রস্ত করবে। একই সঙ্গে প্রকল্পে অংশ নেওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ‘আইনি ও সুনামগত পরিণতি’ হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বিবৃতিতে ইসরায়েলকে পরিকল্পনাটি অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। এতে বলা হয়, এসব পদক্ষেপ শুধু শান্তির সম্ভাবনাকেই আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের অবস্থানকেও আরও দুর্বল করছে।
মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতিকে স্থায়ী করার যেকোনো প্রচেষ্টার ‘সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান’ জানিয়েছে। একই সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ‘গুরুতর পদক্ষেপ’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, এই পরিকল্পনা একটি সংযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল ‘শান্তি চাওয়ার কিংবা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ইচ্ছাকে সম্মান করার ভানও’ পরিত্যাগ করেছে।
জাতিসংঘও পরিকল্পনাটির নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন ইসরায়েলি বসতি ও আউটপোস্ট নির্মাণের খবর, যার মধ্যে নতুন দরপত্রও রয়েছে, মহাসচিবকে ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’ করেছে।
আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি ও বসতি-আউটপোস্টকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এসব বসতি সম্প্রসারণের গতি আরও বেড়েছে।
প্রস্তাবিত ই১ প্রকল্পে অন্তত ৩ হাজার ৪০০টি আবাসিক ইউনিট নির্মাণের কথা রয়েছে। প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর এ বসতি নির্মাণের মাধ্যমে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের সঙ্গে মালে আদুমিম বসতি এলাকার সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর উত্তর থেকে দক্ষিণে কার্যত দ্বিখণ্ডিত হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরের সঙ্গে পূর্ব জেরুজালেমের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছেন।
গত বছরের আগস্টে ইসরায়েল E1 প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। সে সময় দেশটির কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ এটিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
তিনি দাবি করেছিলেন, ‘স্লোগানের মাধ্যমে নয়, কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণাকে মুছে ফেলা হচ্ছে।’
সে সময় অন্তত ২১টি দেশ এই পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছিল।
এদিকে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বৃদ্ধি এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, বাড়িঘর ধ্বংস ও উচ্ছেদের কারণে যত ফিলিস্তিনি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, তা পুরো ২০২৫ সালের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, পশ্চিম তীরের কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় এখন বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
ইসরায়েলের আগামী অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে বসতি সম্প্রসারণের এই তৎপরতার সঙ্গে রাজনৈতিক স্বার্থের যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক :মোঃ আলামিনুল হক,নিবার্হী সম্পাদক :আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল
যোগাযোগ :ফোনঃ +৮৮০২৫৭১৬০৭০০,মোবাইলঃ ০১৭১২৯৪১১১৬,Emails:jaijaikalcv@gmail.com
সম্পাদকীয় কার্যালয় : ১২০/এ, আর. এস. ভবন, ৩য় তলা, মতিঝিল, ঢাকা