

যায়যায়কাল প্রতিবেদক: দেশের মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করতে হবে। মানুষের জন্য কাজ করা এবং দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস। একটি শিশু জন্মের পর হাঁটতে শিখতেই প্রায় ১৮ মাস সময় নেয়। সে তুলনায় সরকারের ছয় মাসের পথচলায় দেশের মানুষের উন্নয়নে সরকার কীভাবে কাজ করছে, তা জনগণ দেখেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিগত সরকারের সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষি ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেগা প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় এবং অর্থ পাচারের অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।
তার ভাষায়, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল করে তোলা হয়েছিল। একইভাবে শিক্ষা ও কৃষি ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, এসব পরিস্থিতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ আন্দোলন করেছে এবং গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ওই সরকারের পতন ঘটিয়েছে। পরে জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের পছন্দের সরকার নির্বাচিত করেছে।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপির পক্ষ থেকে জনগণের সামনে ৩১ দফা উপস্থাপন করা হয়েছিল। এতে দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন, শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল।
তিনি বলেন, নির্বাচনের পর সরকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ এবং খাল খনন কর্মসূচি এর অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রায় ১৩ লাখ কৃষকের কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে খাল খনন কর্মসূচিও পুনরায় শুরু করা হয়েছে। সরকারের দাবি অনুযায়ী, গত ছয় মাসে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শিশু পড়াশোনা করছে। এসব শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে বছরে একটি করে নতুন স্কুল ড্রেস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে শিশুদের স্কুল ব্যাগ দেওয়ার কথাও জানান তিনি। শহর ও গ্রাম—উভয় এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ সুবিধার আওতায় থাকবে। আগামী এক মাসের মধ্যে এ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দেশের উপজেলা হাসপাতালগুলোকে আধুনিকায়নের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রথমে উপজেলা হাসপাতালগুলো ৫০ থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তিন দিন আগে তা পরিবর্তন করে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলা হাসপাতালে এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
দেশের সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি দাবি করেন, বিগত সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা দেনা রেখে যাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের গ্যাস খাতের উন্নয়ন ও নতুন গ্যাসকূপ খননে গত ১৭ বছরে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার দেশের মাটিতে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম দ্রুত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের মানুষের হাতে থাকে।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে দেশের চাহিদার একটি বড় অংশের গ্যাস বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এলএনজি সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য দেশে দুটি জাহাজ রয়েছে। এর একটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ায় সাম্প্রতিক গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, এরই মধ্যে কারিগরি ত্রুটি সারানোর কাজ হয়েছে। আল্লাহর রহমত থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গ্যাস সংকট অনেকাংশে কমে আসবে।
দেশের মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের যে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দ্রুত এ সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তৃতীয় এলএনজি জাহাজ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের জাহাজ তৈরি করতে দীর্ঘ সময় এবং বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত জাহাজ তৈরি করে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা চলছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গেও গ্যাস সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির জনগণের জন্য পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী সংসদে আগামী ১০ বছরে দেশের জ্বালানি সমস্যা সমাধানে পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট সমাধানে সরকারের চেয়ে ভালো পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে কোনো দল এ সমস্যা সমাধানের কার্যকর পরিকল্পনা দিতে পারলে তা বাস্তবায়নের কথাও বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। এরপর দেশে গণতন্ত্র বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কার্যকর থাকলে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং জনগণের জন্য ভালো কাজ করা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, জবাবদিহিতা থাকলে সরকার এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়, যা দেশের মানুষের উপকারে আসে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কী পেলেন সেটি বড় বিষয় নয়; বরং দেশ ও দেশের মানুষকে কী দিতে পারলেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
দেশ গঠনে শহীদ জিয়ার দেখানো পথ এবং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে বেগম খালেদা জিয়ার অনুসৃত পথ ধরে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিনে দেশ গঠনের নতুন শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশকে উন্নতি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন অঞ্চলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধি ও প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানীসহ অন্যরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক :মোঃ আলামিনুল হক,নিবার্হী সম্পাদক :আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসমাইল
যোগাযোগ :ফোনঃ +৮৮০২৫৭১৬০৭০০,মোবাইলঃ ০১৭১২৯৪১১১৬,Emails:jaijaikalcv@gmail.com
সম্পাদকীয় কার্যালয় : ১২০/এ, আর. এস. ভবন, ৩য় তলা, মতিঝিল, ঢাকা