
কেফায়েতুল্লাহ কায়সার, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরীর কয়েকটি বড় কিচেন মার্কেটের মধ্যে অন্যতম ফইল্যাতলী কিচেন মার্কেট। ১৯৮২ সাল থেকে নগরীর দক্ষিণ কাট্টলী ও হালিশহর এলাকার জনসাধারণের প্রতিদিনের কাঁচা বাজারের একমাত্র কিচেন মার্কেট ফইল্যাতলী বাজার। দৈনিক সকাল-বিকাল হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগম ঘটে।
অবকাঠামোগত অনুন্নত ও অপরিকল্পিত বাজার ব্যবস্থাপনার ফলে জলাবদ্ধতাসহ ফইল্যাতলী বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দুর্ভোগের শেষ ছিল না।
চসিকের তালিকাভুক্ত বাজারটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিকল্পিত বাজার ব্যবস্থাপনা, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন, বাজারের মানোন্নয়ন এবং সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই ফইল্যাতলী কিচেন মার্কেটের নির্মাণকাজ শুরু হয়।
বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশ মিউনিসিপাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অর্থায়নে মিউনিসিপাল গভর্নেন্স এন্ড সার্ভিস প্রকল্পের আওতায় ১৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৮ মাসে নির্মিত হয় ফইল্যাতলী কিচেন মার্কেট। নির্মাণ শেষে প্রায় দুই বছর পর নির্মাণকারী সংস্থা বাজারটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে বুঝিয়ে দেয়।
আধুনিক ও শৈল্পিক নকশায় নির্মিত মার্কেটটিতে পরবর্তীতে বরাদ্দ নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। ব্যবসায়ীদের সাথে চসিকের নতুন বরাদ্দ নিয়ে চলে অসন্তোষ-টানাপোড়েন। ফলে দুই বছরের মধ্যে মার্কেট নির্মিত হলেও আরো তিন বছর অলস দাঁড়িয়ে থাকে ফইল্যাতলী কিচেন মার্কেট।
পরে বিষয়টি সমাধানে চসিক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়। ফলে ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার কয়েকদিন আগে আজ বিকালে মার্কেট উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র।
এ সময় মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, এ মার্কেটের কারণে নাগরিকরা যেমন সুবিধা পাবেন, তেমনি এখানে কয়েকশ ব্যবসায়ীর কর্মসংস্থান হলো ঐতিহ্যবাহী ফইল্যাতলী বাজারকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আধুনিক কিচেন মার্কেটে রূপান্তর করেছে। মার্কেটটির ফলে চসিকের রাজস্ব আয়ও বাড়বে এর ফলে চসিকের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে এই আয়বর্ধক প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে জনগণের আপত্তি ছিল। আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য ৬টি রিভিউ বোর্ড গঠন করে উক্ত রিভিউ বোর্ডে আমি নিজে উপস্থিত থেকে ৮টি স্থানে গণশুনানির মাধ্যমে করদাতাদের চাহিদা মতে সহনীয় পর্যায়ে কর মূল্যায়ন করি। এতে নগরবাসীর গৃহকর নিয়ে যে অসন্তোষ ছিল তা প্রশমিত হয়েছে। আমার এ উদ্যোগের ফলে জনগণ খুশিমনে গৃহকর দেয়ায় চসিকের রাজস্ব আয় বেড়েছে।
চসিক মেয়র আরো বলেন, চট্টগ্রামের বাণিজ্য সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে অবকাঠামো খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ হচ্ছে। আড়াই হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে পুরো শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসণে চলছে দশ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প।
এই ব্যাপক বিনিয়োগের ফলে চট্টগ্রাম বৈদেশিক বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখন নিচু এলাকাগুলোতে আগের মতো জলাবদ্ধতা মোকাবিলা করতে হবে না।
১১ নং দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইসমাইলের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ২৬ নং উত্তর হালিশহর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইলিয়াছ, ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী, নুরুল আমিন, মহিলা কাউন্সিলর হুরে আরা বেগম বিউটি, স্টেট অফিসার রেজাউল করিম, প্রধান প্রকৌশলী শাহীন-উল-ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এরশাদুল আমিন, ফয়সাল আমিন, আসলাম সওদাগর। ফইল্যাতলী কিচেন মার্কেট মালিক সমিতির সদস্য সচিব মো. মাসুদ রায়হানের সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন মার্কেটের আহবায়ক ওমর ফারুক সওদাগর, নজরুল ইসলাম সোহেল, জহরুল হক বাবুল, মো. কফিল ঊদ্দিন প্রমুখ।











