
উত্তরবঙ্গ প্রধান প্রতিবেদক: ইমারত বিধিমালা (বিল্ডিং কোড) লঙ্ঘনে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) দফতরে প্রায় প্রতিদিন অভিযোগপত্র জমা পড়ছে।
নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের কারণে আশপাশের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় একটার পর একটা অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মিলছে না। ফলে নগরীতে নকশাবহির্ভূত বহুতল ভবনের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
ভুক্তভোগী নগরবাসীদের অভিযোগ, পাঁচতলার অনুমোদন নিয়ে সাততলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। সাততলার অনুমোদন নিয়ে ১০ তলা ভবনও বানানো হচ্ছে।
ইমারত বিধিমালা উপেক্ষা করে সড়ক ঘেঁষে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ভবনের উচ্চতা অনুযায়ী রাস্তা ও ফাঁকা জায়গা ছাড়ার নির্দিষ্ট বিধি থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। ঠিক এভাবেই রাজশাহী নগরীর কাজলা সুইটের মোড় এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে গোলাম মুস্তফা তালিকদারের স্ত্রী শামসুল নাহার নামে।
শামসুল নাহার রাজশাহী নগরীর মতিহার থানার কাজলা এলাকার গোলাম মুস্তফার স্ত্রী। বর্তমানে তারা নগরীর মতিহার থানাধীন কাজলা সুইটের। মোড় এলাকায় একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। তবে এই নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগের পেক্ষিতে গত ২০ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন খোঁজ-খবর ও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শামসুল নাহার এর বিল্ডিং সংলগ্ন দক্ষিণ পূর্ব দিকের গলির বসতিতে প্রায় শত শত মানুষের বসবাস। এই রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করে থাকেন সবাই।
স্থানীয়দের দাবি, তাদের একমাত্র যাতায়াতের রাস্তার বহুতল বিল্ডিং নির্মাণ করছে শামসুল নাহার। কিন্তু তিনি নিজের জমি বাদে অতিরিক্ত রাস্তার জায়গা দখল করে বিল্ডিং নির্মান করছেন। শুধু তাই নয় বিল্ডিং- এর উপরে কার্নিস বাড়িয়ে দিয়েছেন রাস্তার উপরে। ফলে রাস্তার প্রবেশ মুখ সরু হয়ে গেছে। যার ফলে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা, যেমন অগ্নিকাণ্ড বা প্রকৃতিক দুর্যোগের মতো ঘটনা ঘটলে এই বসতিতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রবেশ করতে পারবেন না। আর তাই শামসুল নাহার
এর নিয়ম বহির্ভূত বিল্ডিং নির্মাণ কাজ বন্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের দাবি স্থানীয়দের।
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী বহুতল ভবন নির্মাণের সময় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ করা হয়নি। ভবনের উচ্চতা অনুযায়ী রাস্তা ও ফাঁকা জায়গা ছাড়ার নির্দিষ্ট বিধি থাকলেও তা করেননি তারা। এমনকি এই স্থাপনার অধিকাংশেরই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে জায়গার মালিকেরা কোনো ধরনের জমি ছাড় দেননি। একটি ভবনের সঙ্গে আরেকটি ভবন প্রায় লেগে আছে। এ কারণে অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনায় এসব ভবনে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সহ জরুরী সেবা কর্মীরা সহজে পৌঁছাতে পারবেন না।
ভবনের আগুন নেভানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। এ কারণে বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক। উঁচু উঁচু ভবন গড়ে তোলা হচ্ছে। অথচ এসব ভবনের ভেতরে যাঁরা বসবাস করবেন, তাদের নিরাপত্তা নিয়ে কারও কোনো চিন্তা নেই?
ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় বলা হয়েছে,সাততলার চেয়ে উঁচু ভবনের ক্ষেত্রে আগুন শনাক্তকরণ যন্ত্র, ধোঁয়া শনাক্ত করণ যন্ত্র, পানি ছিটানোর ব্যবস্থা ও কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই বহুতল ভবন নির্মাণে এসবের তোয়াক্কা করা হচ্ছে না।
আরডিএর বিধি না মেনে বহুতল ভবন নির্মাণ এমন বিষয়ে জানতে প্রতিবেদক শামসুল নাহার সাথে কথা বলতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি ফলে মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ নিয়ে ওই এলাকার ভুক্তভোগী মমেনা বেগমের নাতি পাভেল ইসলাম মিমুল বলেন, শামসুল নাহারের মেয়ের জামাই নাহিদ হাসানকে একাধিকবার অনুরোধ করেও কাজ হয়নি। তার দাম্ভিকতা হলো তিনি একজন বিত্তবান মানুষ। প্রভাবশালী মহল ও থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে পুলিশের ভয় দেখাচ্ছেন। কাজ বন্ধ হলো দেখে নেওয়ার হুমকি এবং টাকা দিয়ে সবাইকে ম্যানেজ করেই প্রকাশ্যে কাজ করছেন। কিন্তু শামসুল নাহারের মেয়ের জামাই নাহিদ হাসান অপ্রতিরোধ্য। তিনি এলাকাবাসীকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে তার নির্মাণ করা অব্যাহত রেখেছেন।
পাভেল ইসলাম মিমুল আরো বলেন, শামসুল নাহার তার মেয়ে জামাই দিয়ে আমাকে বিভিন্ন ভাবে ম্যানেজের চেষ্টা করেছে। আমি তাদের কথায় রাজি না হলে তারা আমার মামাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে নাহিদ হাসান শিমুলকে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জানতে চাইলে আরডিএ’র অর্থরাইজড অফিসার আব্দুল্লাহ আল তারিক বলেন, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অমান্য ও আইন উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। আর আপনাদের এমন কোনো বহুতল ভবনের বিষয়ে অভিযোগ থাকে তবে আপনারা লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো বলে জানান তিনি।











