বৃহস্পতিবার, ৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,১৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এর সর্বশেষ সংবাদ

কুষ্টিয়ায় নির্মাণাধীন বিদ্যালয়ে ভবনে বাঁশ-টিনের বেড়া দিয়ে চলছে পাঠদান

জিয়াউল হক (খোকন), নিজেস্ব প্রতিবেদক: ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। চুক্তি মতে, ওই বছরের ২৭ অক্টোবর কাজ শেষ করার কথা। দুই বছরের বেশি অতিবাহিত হলেও শেষ হয়নি কাজ। বাধ্য হয়েই নির্মাণাধীন ভবনে বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে চলছে পাঠদান। এতে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কর্মসূচি। এ চিত্র কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পান্টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স সাগর কনস্ট্রাকশন। ব্যয় ধরা হয় ৮৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা। তবে বর্ধিত কাজের মেয়াদও গত বছরের জুন মাসে শেষ হয়েছে।

গত শনিবার বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, তিনতলা নির্মাণাধীন ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। ভবনের সামনে ও দ্বিতীয় তলার মেঝেতে ইট, বাঁশ, কাঠসহ নির্মাণ সামগ্রী রাখা রয়েছে। প্রথম তলার মেঝে বালু দিয়ে ভরাট করা। দক্ষিণ পাশের দেয়ালে বাঁশের চাটাই ও টিন দিয়ে বেড়া দেওয়া। বালুর মেঝেতে বেঞ্চ পেতে গণিত ক্লাস করছে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। শীতল বাতাসে জীর্ণ শিক্ষার্থীরা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাউকে দেখা যায়নি।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ৩৩০ জন। শিক্ষক সাতজন। বিদ্যালয়ে দুই কক্ষ বিশিষ্ট দুটি একতলা ভবন ছিল। একটিতে এক কক্ষে শিক্ষকরা বসেন এবং অপরটিতে পাঠদান চলে। অন্য ভবনটি ভেঙে সেখানে তিন তলা ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহিন মানাজি অনন্য বলে, বালুর মধ্যে বেঞ্চ থাকায় লেখা যায় না। খোলা রুমে ঠান্ডা বাতাস লাগে। তাদের খুব সমস্যা হচ্ছে। শিক্ষার্থী শামীম ইয়াসি বলে, নোংরা পরিবেশে ক্লাসে মন বসে না।

অভিভাবক শাহাদত হোসেন বলেন, ভবনের ছাদ ও সামনে নির্মাণ সামগ্রী রাখা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা ছাদে উঠে দৌড়াদৌড়ি করে। কখন যে দুর্ঘটনা ঘটে, সে ভয়ে থাকি।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আমিরুল ইসলাম টুকু বলেন, বালুর মধ্যে বেঞ্চ দেবে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা লিখতে পারছে না। শিক্ষার্থীরা বালু ছোড়াছুড়ি করে। পাঠদানে খুব সমস্যা হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ে মানসম্মত শ্রেণিকক্ষ রয়েছে মাত্র একটি। নির্দিষ্ট সময়ের অতিরিক্ত দুই বছর পার হলেও কাজ শেষ হয়নি। বাধ্য হয়েই নির্মাণাধীন ভবনে বালু ফেলে, বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে পাঠদান অব্যাহত রেখেছেন। এতে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কাজ শেষ করার জন্য উপজেলা প্রশাসন, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারকে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিক জানিয়ে কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে কাজের ঠিকাদার মো. আবু বক্কর সিদ্দিকী মুঠোফোনে বলেন, পুরাতন ভবন অপসারণে ১৩ – ১৪ মাস সময় নষ্ট হয়েছিল। তারপর মহামারি করোনা ও মালামালের অতিরিক্ত দাম বেড়ে যাওয়ায় কাজে বিলম্ব হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। তিনি পুনরায় কাজের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছেন। আগামী দুইমাসের মধ্যে কাজ করবেন বলে আশা করছেন তিনি।

উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ দিয়ে সুফল পাওয়া যায়নি। তাই চরম ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান শুরু করেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যের কাজের সমাপ্তির দাবি জানান তিনি।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহিম বলেন, প্রায় ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নানান তালবাহানায় ঠিকাদার কাজ না করে সময় কাটান। দ্রুত সময়ে কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাতারকে বারবার লিখিত তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। তাকে আর নতুন করে সময় বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবেনা এবং কাজে বিলম্ব হওয়ায় জরিমানা ফি কাটা হবে বলে জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিতান কুমার মন্ডল বলেন, তিনি শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদার ও প্রকৌশলীকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ