মঙ্গলবার, ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জুলাই আন্দোলনে চাটখিলে থানার অস্ত্র লুট করতে গিয়ে নিহত ইমতিয়াজের লাশ উত্তোলন

আলমগীর হোসেন হিরু, চাটখিল (নোয়াখালী): নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার হাটপুকুরিয়া-ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের পশ্চিম গোবিন্দপুর গ্রামের ওয়ালী ব্যাপারী বাড়ীর হাবিবুর রহমানের ছেলে জুলাই আন্দোলনের বিতর্কিত শহীদ ইমতিয়াজ হোসেন (২২) এর লা’শ দেড় বছর পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শাহাদাত হোসেন এর নেতৃত্বে বুধবার দুপুরে লাশটি উত্তোলন করা হয়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন বিকেলে চাটখিল থানার লুঠ হওয়া অস্ত্র বহন করতে গিয়ে আত্মঘাতী গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয় ইমতিয়াজ হোসেন। তাকে প্রথমে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। পরে ঢাকায় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তির পরের দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। ইমতিয়াজের বাবা সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান তার ছেলের নাম জুলাই আন্দোলনে শহিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন এবং বিভিন্নভাবে কিছু সহযোগিতাও পান। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতারা নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে ভুয়া শহীদ ইমতিয়াজ এর নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করেন। এ আবেদনের পর ঘটনার তদন্ত শুরু করেন সরকারের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা।

এ দিকে ইমতিয়াজ মারা যাওয়ার প্রায় ১ বছর পর ইমতিয়াজের বাবা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে নোয়াখালী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাবেক এমপি এইচ এম ইব্রাহিম সহ জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ৫৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৭০/৮০ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

এ মামলার কপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চাটখিলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি ও চাঁদাবাজি ছিল তার মূল উদ্দেশ্য। তখন থেকে এলাকাবাসী হাবিবুর রহমানের বিচার দাবি করে আসছেন। তখন এ বিষয় নিয়ে সাংবাদিকরা জাতীয় ও আঞ্চলিত পত্রিকাতে ইমতিয়াজ মারা যাওয়ার প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার পর মামলাটির কার্যক্রম অনেকটা স্থগিত হয়ে যায়। সরকারিভাবে সারাদেশে এ জাতীয় জুলাই আন্দোলনের বিতর্কিত শহীদদের লাশ কবর থেকে উত্তোলনের অংশ হিসেবে বুধবার চাটখিলেও ইমতিয়াজের লাশ উত্তোলন করা হয়।

লাশ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে বলে এলাকাবাসী আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং ইমতিয়াজের বাবা হাবিবুর রহমান মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকাবাসীকে হয়রানি করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এলাকার লোকজন হাবিবুর রহমানের বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে ইমতিয়াজের হাবিবুর রহমানের সাথে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *