
এম এ মতিন, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়ন এর টিয়ারা গ্রামে গেলো উপজেলা পরিষদের নির্বাচন কে ঘিরে,পূর্ব শত্রুতার জেরকে কাজে লাগিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিটঘর ইউনিয়ন এর আহবায়ক মোঃ রাশেদুল ইসলাম কে রাতের আধারে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে।
গত শনিবার সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম এর সাথে। তিনি সারা শরীরে জখম নিয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছেন।
এ সময় তিনি বলেন, গেলো নবীনগর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে শিশুর পছন্দ বিরোধী প্রার্থীর এজেন্ট হিসেবে ও কেন্দ্রে ছিলাম যার কারণে আজ আমার এই দশা। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকে আমাদের একই এলাকার আতিকুর রহমান শিশু মিয়া তার পক্ষে নির্বাচন করার জন্য নানাভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে থাকেন। উনি আমাকে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে আমাকে তাহার পছন্দের প্রার্থীর বাহিরে নির্বাচন না করার কথা বলেন যদি তার কথা না শুনি তাহলে তা হবে ভয়াবহ। এর পর নির্বাচন শেষ হওয়ার চার দিন পর আমি টিয়ারা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে রহিছ মিয়া ও তার ছেলে আমাকে কথা আছে বলে একরাম মিয়ার বাড়ির চিপায় নিয়ে ঐ খানে আগে থেকেই আতিকুর রহমান শিশু মিয়া ও তার গুন্ডা বাহিনীরা আমাকে মারার জন্য অপেক্ষামাণ ছিলো। আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই চল্লিশ পঞ্চাশ জন লোক আমাকে এলোপাতাড়িভাবে লোহার রড, স্টিলের ফাইভ দিয়ে আঘাত করে আমাকে বেদম পেটাচ্ছিলেন। এরপর আমি জ্ঞান হারালে সন্ত্রাসীরা আমাকে মৃত্যু ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে আমার পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে আমাকে উদ্ধার করে প্রথমে নবীনগর ও পরে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসা করান। এরপর ঈদের এক দিন আগে আমি বাড়িতে আসছি। হামলাকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় নবীনগর থানায় মামলা নেয়নি। এরপর আমার স্ত্রী কাজল আক্তার বাদী হয়ে আতিকুর রহমান শিশু মিয়াকে ১ নম্বর আসামি করে মোট ৪০ জনকে আসামি করে কোর্টে মামলা করি। তা পিবিআই এর কাছে তদন্তে আছে।
মামলার বাদী মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলামের স্ত্রী মোছাম্মদ কাজল আক্তার বলেন, আমার স্বামীকে আতিকুর রহমান শিশু মেরে ফেলার জন্য আক্রমণ করেছে। আমি তার বিচার চাই।
রাশেদুল ইসলামের মেয়ে কলেজছাত্রী বলেন, আতিকুর রহমান শিশু মিয়া গংরা আমার আব্বুকে প্রাণে মেরে ফেলার জন্য রাতের আঁধারে আক্রমণ করেছে। আমার আব্বুর দোষ তিনি আওয়ামী লীগ করেন এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে কেন কাজ করেছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাই আমার বাবাকে যারা মেরেছেন তাদের যেন সঠিক বিচার হয়। আজ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় একজন হাইব্রিড আওয়ামী লীগের কাছে আমার বাবাকে মার খেতে হয়। আমার বাবার ওপর হামলাকারিদের বিচার চাই।
এ বিষয়ে বিটঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান হাজী আবুল হোসেনের জানান, মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম আওয়ামী লীগ নেতা। সে প্রকৃত আওয়ামী লীগার। তার অপরাধ সে আতিকুর রহমান শিশুর পছন্দের প্রার্থীর নির্বাচন না করা। ঘটনার রাতে সে আমার বাড়ি থেকে বাজারের ফার্মেসিতে যায়। ওষুধ নিয়ে বাড়িতে ফেরার পথে রহিছ মিয়া রাশেদকে ডেকে আতিকুর রহমান শিশুর কাছে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থানরত শিশু মিয়ার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা তাকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। আতিকুর রহমান শিশু মিয়া তার হাতে থাকা স্টিলের ফাইভ দিয়ে তাকে আঘাত করেছে বলে জানায় রাশেদ। এ ঘটনা যারা জড়িত তদন্ত করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাই।
এ বিষয় নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শ্রম বিষয়ক সম্পাদক কবির আহমেদ জানান, রাশেদুল ইসলাম খুবই ভালো একটি ছেলে নিরীহ মানুষ তাকে রাতের আঁধারে চল্লিশ পঞ্চাশ জনের একটি সন্ত্রাসী দল হামলা করে গুরুতরভাবে আহত করে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। আমি এমপিসহ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যেন তার ওপর হামলায় জড়িতদেরকে আইনের আওতায় আনা হয়।
নবীনগর উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক সালাউদ্দিন বাবু বলেন, রাশেদুল ইসলাম খুবই ভাল ছেলে তার ওপর হামলার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমি থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান বাদল এমপি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।










