
নুরুল ইসলাম, গাইবান্ধা : গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলাধীন পাঁচপীরের দরগাহ দাখিল মাদ্রাসার নৈশপ্রহরী আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ।
জানা গেছে, উক্ত মাদ্রাসার নৈশপ্রহরী মো. আব্দুল মজিদ মিয়ার জন্ম তারিখ গড়মিলের কারণে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি গত ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর তারিখে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক একই বছরে ২১ নভেম্বর থেকে সরকারি বেতন/ভাতা স্থগিত রেখে বয়স সংশোধনসহ কারন দর্শানো নোটিশ প্রদান করেন। উক্ত নোটিশের জবাব প্রদান না করায় আবারও গত ২০১৮ সালের ১৭ মে তারিখে বেসরকারি চাকরি আচরণবিধি লংঘনের দায়ে কেন তাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানো হয়।
পরবর্তীতে উক্ত মাদ্রাসার সুপার মো. আফছার আলী তার অধীনস্থ নৈশপ্রহরী আব্দুল মজিদের সাথে যোগসাজশ করে স্থগিতকৃত বেতন/ভাতা ছাড়করণ করলে অদ্যাবধি পর্যন্ত চাকরি করে আসছেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত আব্দুল মজিদের জাতীয় পরিচয়পত্র নং-২৩১৬৭৪৭২৬৬৩৬২, জন্ম তারিখ ২১/১১/১৯৫৭ ইং। সে মোতাবেক তার ১ম কন্যা মোছাঃ শেফালী বেগমের ভোটার আইডি কার্ডে জন্ম তারিখ ১৫/১০/১৯৮০ ইং, ২য় কন্যা শিমুলী আকতারের জন্ম তারিখ ১৫/১০/১৯৯০ ইং, ৩য় কন্যা খাতিজা খাতুনের জন্ম তারিখ ২/১১/১৯৯৭ ইং ও ৫ম সন্তান আয়শা আকতারের জন্ম তারিখ ২৫/১/২০০৮ ইং সঠিক আছে বলে জানা যায়। অথচ অভিযুক্ত সুচতুর নৈশ্য প্রহরী আব্দুল মজিদ তার ৮ম শ্রেণি পাশের সনদে বয়স দেখিয়েছেন ৯/২/১৯৮০ ইং। বলাবাহল্য যে, তিনি কত বছরে চাকরিতে ঢুকলেন। তিনি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৮ম শ্রেণি পাশ করেছেন সে প্রতিষ্ঠানের ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি বই, হাজিরা খাতা ও ফলাফল বই যাচাই করলেই বয়সের তথ্য-উপাত্ত গোপনের বিষয়টি ধরা পড়বে।
বিজ্ঞ মহলের প্রশ্ন, যদি পিতা আব্দুল মজিদের জন্ম তারিখ ১৯৮০ ইং সাল হয়, তাহলে তার ৫ (পাচঁ) সন্তানের বয়স কার কত? আর প্রতিটি সন্তানের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধনেও কি ভুল হয়েছে। নৈশপ্রহরী আব্দুল মজিদের চাকরির বয়সসীমা অতিক্রমের পরও কেন তাকে বেতন বা ভাতা দেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে সুপার মো. আফছার আলী ও বর্তমান সভাপতি আতোয়ার রহমান জবাব না দিয়ে এড়িয়ে যান।
এ সংক্রান্ত একটি খবর দৈনিক যায়যায় কাল ও জাতীয় সাপ্তাহিক জয়ভিশন পত্রিকায় প্রকাশ হলে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুলের দৃষ্টিগোচর হয়। তিনি গত ৮ জুলাই তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা অফিসারকে পত্র মারফত নির্দেশ দেন।
এরই প্রেক্ষিতে গত ১০ জুলাই জেলা শিক্ষা অফিসার, গাইবান্ধার রোকসানা বেগমের স্বাক্ষরিত ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। যার আহবায়ক গাইবান্ধা সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার খান মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সহকারী পরিদর্শক (সদস্য) সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিস মো. আকমল হোসেন, ও পলাশবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস মো. আলমগীর হোসেন (সদস্য)। উক্ত তদন্ত কমিটিকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।











