শুক্রবার, ১৩ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এর সর্বশেষ সংবাদ

পানি সংকটে পাটচাষিরা

সুমন আল-মামুন, হরিণাকুণ্ডু(ঝিনাইদহ) : হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে পাটের বাম্পার ফলন হলেও পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন উপজেলার ২ হাজার ৭১২ হেক্টর জমির পাট। এতে লোকশানের আশঙ্কা করছেন পাটচাষিরা। যদিও উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে কেটে এই শঙ্কা।

দেখা যায় আষাড় মাসের মাঝামাঝি পাটকাটা লেগে যায়। কিন্তু এইদিকে শ্রাবণ মাস অতিবাহিত হলেও পানির অভাবে পাট কাটছেন না চাষিরা। যার ফলে রোদের উচ্চ তাপমাত্রা বৃদ্ধি থাকায় পাট ক্ষেত শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে।

গত বছরের তুলনায় এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে পাটের বীজ বপন করা হয়েছে। সঠিক পরিচর্যা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছিল। কিন্তু অনাবৃষ্টির কারণে চাষের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চাষিদের চরম ভোগান্তি ও কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি সঠিক সময়ে পাট পচাতে না পারলে আঁশের মান এবারও নিম্নমুখী হওয়ার শঙ্কায় আছে।

এদিকে প্রচণ্ড তাপদাহ ও বৃষ্টি না থাকায় খাল-বিল জলাশয় ও পুকুরের পানি কমে গেছে। পর্যাপ্ত পানির অভাবে পাট জাগ দিতে না পারায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন পাটচাষিরা। হেক্টরের পর হেক্টর জমিতে দাঁড়িয়ে আছে পাটগাছ। অথচ পানির অভাবে কাটতে পারছেন না কৃষকরা। এক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিকতা ও সহযোগিতা না পাওয়া গেলে বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কা চাষিদের।

এ বিষয়ে এলাকার বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, গত বছর পাটের দাম ভালো পাওয়ায় এবার পাট আবাদ বেশি হয়েছে। তবে প্রখর রোদ, অনাবৃষ্টির কারণে পাট চাষের বিভিন্ন এলাকায় আছে পানির সংকট। প্রতি বিঘায় পাট চাষে কমপক্ষে ১০-১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলন যদি ভালো হয় তাহলে প্রতি বিঘায় ৯-১২ মণ পাটের ফলন পাওয়া যায়। তবে এত সমস্যার পর যদি কাঙ্ক্ষিত দাম না মেলে, তাহলে বিপদ।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলায় বেশিরভাগই কৃষি সেবায়ন, মহারাষ্ট্র ও তোষা জাতের পাট চাষ হয়েছে। উপজেলায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ হাজার ৭১২ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এবারও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পাট চাষ করেছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা পাট কেটে জমির পাশে বা রাস্তার ধারে, খাল-বিল বা জলাশয়ের পাশে স্তূপ করে রেখেছেন। কেউ আবার অল্প পানিতেই পাটের ওপর মাটিচাপা দিয়ে পাট জাগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কৃষকরা পাট জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছেন না। ফলে অনেকের পাট এখনো ক্ষেতেই পড়ে রয়েছে। অনেকে আবার মাটি গর্ত করে, পুকুরে-রাস্তার খাদে শ্যালোমেশিন দিয়ে পানি জমিয়ে পাট জাগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে অতিরিক্ত খরচ বাড়ছে পাটচাষিদের।

উপজেলার জোড়াদহ ইউনিয়নের হরিশপুর গ্রামের কৃষক শাজাহান মণ্ডল বলেন, বৃষ্টি নেই। নদী-খাল- বিল ও পুকুরে পানি নেই। অতিরিক্ত খরার কারণে পাট পুড়ে লাল হয়ে গেছে। পাট কেটে কোথায় জাগ দেব। বেশি দামে শ্রমিক নিয়ে ট্রলি বা মহিষের গাড়ি দিয়ে প্রায় চার পাঁচ কিলোমিটার দূরে নিয়ে রাস্তার পাশে খাদের পানিতে নিয়ে পাট জাগ দিতে হচ্ছে।

লাবলু মণ্ডল নামে আরেক চাষি বলেন, এবার পাট নিয়ে খুব চিন্তাই আছি। কারণ পানি না থাকার কারণে পাট কেটে অন্য জায়গায় নিতে লেবার খরচও লাগছে। এত টাকা খরচ করেও আমরা পাটের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছি না। যে মূল্য পাইকাররা বলেন এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হবে। এমন যদি চলতে থাকে তাহলে আগামীতে আমরা পাট চাষ বন্ধ করে দেব।

পাটচাষি হাসান বলেন, গত বছর তিন বিঘা জমিতে পাটের চাষ করেছিলাম। দাম ভালো পাওয়ায় এবার পাঁচ বিঘা জমিতে পাটবীজ বপন করেছি। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পাট কাটতে পারছি না। আমাদের কৃষি অফিস থেকে ‘রিবন রেটিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু শ্রমিক সংকটের মধ্যে এত কাঁচা পাট রিবন মেশিন দিয়ে ছিলতে অনেক সময়ের ব্যাপার।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীর যায়যায় কালকে বলেন, পানির অভাবে পাট জাগ দিতে কৃষকদের কষ্ট হচ্ছে। চাষিরা বিপাকে পড়েছেন এটা ঠিক। চাষিদের রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাটের আঁশ ছাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছি। এ পদ্ধতিতে পাট পচালে আঁশের মান ভালো থাকে।

তিনি আরও বলেন, সামনে বৃষ্টি-বর্ষায় নদনদী-খালে পানি বাড়লে হয়তো এ সমস্যা কিছুটা কেটে যাবে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা আশা করছি উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ