
উত্তরবঙ্গ প্রধান প্রতিবেদক: রাজশাহীতে সশস্ত্র হামলায় একই পরিবারের চার সদস্য গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং ঘটনার সময় ঢাকায় অবস্থানকারী মনিরুল ইসলাম শরীফকে প্রধান আসামি করার অভিযোগ উঠেছে বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মোঃ মনিরুল ইসলাম শরীফ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ১ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে মোঃ রফিকুল (৪৫), মোঃ জাহাঙ্গীর শেখ (৫০), রবিউল (৪২), মোঃ সুলু (৬৫)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৭ জন ব্যক্তি বোয়ালিয়া থানাধীন ভদ্রা সেরিকালচার মসজিদের বিপরীতে অবস্থিত তাদের ভাঙারি দোকানে দেশীয় অস্ত্রসহ সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে তার বাবা-মা,বোন ও বোনজামাই গুরুতর আহত হন।
এসময় হামলাকারীরা দোকান থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা লুট করে নেয়।
মনিরুল ইসলাম শরীফ বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হন।
তার দাবি, ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টায় বনলতা ট্রেনে ঢাকায় পৌঁছান এবং ঘটনার সংবাদ পেয়ে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে দেশ ট্রাভেলসযোগে রাজশাহীতে ফেরেন। তার যাতায়াতের টিকিট ও মোবাইল লোকেশন যাচাই করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিনই তার পরিবার বোয়ালিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও দুই দিনেও থানার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মামলা দায়ের করতে গেলে এসআই মাসুদ রানা (আয়ু) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দিয়ে নিজেদের বক্তব্য সংযুক্ত করে এজাহারে স্বাক্ষর দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। আপত্তি জানালে ওসি বলেন, এভাবে না লিখলে থানায় মামলা গ্রহণ করা হবে না।
মনিরুলের অভিযোগ, এজাহার প্রস্তুতের সময় থানার কম্পিউটার রুমে ওসি নিজে উপস্থিত থেকে লুট হওয়া টাকার বিষয়টি বাদ দিতে নির্দেশ দেন এবং নিজের ইচ্ছামতো এজাহার প্রস্তুত করেন। এ সময় একজন আসামির নাম ও লুট হওয়া ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার তথ্য বাদ দেওয়া হয়।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, যেখানে আমার পরিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, সেখানে কীভাবে আমাকে প্রধান আসামি করা হলো? তার অভিযোগ, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে প্রকৃত আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশ করেই এজাহার পরিবর্তন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে আমরা এমন তথ্য পেয়েছি যে মনিরুল ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। তবে তিনি ঢাকায় ছিলেন এমনটি দাবি করতে পারেন। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন হাতে এলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ প্রসঙ্গে বোয়ালিয়া জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নাসিদ ফরহাদ বলেন,প্রাথমিক তদন্তে অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদনে যা উঠে আসবে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।











