শনিবার, ২৪শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেরপুরে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ: উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারি নিহত

এ এম আব্দুল ওয়াদুদ, শেরপুর: শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এর আগে বুধবার দুপুরে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। পাশাপাশি কয়েকটি মোটরসাইকেল ও শতাধিক চেয়ার ভাঙচুর করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পূর্বঘোষিতভাবে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও সমর্থকরা মাঠে জড়ো হন। অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেলসহ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মঞ্চে বসেন। এ সময় মঞ্চে চেয়ার বসানোকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থকের মধ্যে প্রথমে হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে তা কথাকাটাকাটি থেকে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে মঞ্চের সামনে রাখা কয়েকশ’ চেয়ার ভাঙচুর করা হয় এবং অনুষ্ঠানস্থলে থাকা একাধিক মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহতদের উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত মাওলানা রেজাউল করিম পরে মারা যান।

এ ঘটনায় জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে তাদের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল দাবি করেন, জামায়াত পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইশতেহার অনুষ্ঠান শুরুর আগেই পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে হামলা চালানো হয় এবং এতে বিএনপির বহু নেতাকর্মী আহত হন।

এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল জানান, সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। বসাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ