
ম.ব.হোসাইন নাঈম, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকে হোল্ডিং করসহ অন্যান্য পৌরকর পরিশোধ করে এলেও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত পৌরবাসী। অথচ ভাঙ্গা রাস্তাঘাট, সুপেয় পানির অভাব, ভক্সগুর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন নেই, সুয়ারেজ লাইন নেই, পর্যাপ্ত লাইটিং এর ব্যবস্থা নেই, এলাকা ভিত্তিক নাইটগার্ড নেই, সিসি ক্যামেরা নেই, সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও পয় নিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছে করদাতা হাজার হাজার পৌর নাগরিক। তারা এখন হতাস ও ক্ষুদ্ধ।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে, নামেই মাত্র শুধু প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা। যেখানে জাতীয় সনদপত্র, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদপত্র পেতে সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেবার পরিবর্তে উপরন্তু বেড়েছে জমি ও বাড়ীর কর। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার নাগরিকরা ১০ থেকে ১২ ধরণের সেবা পাওয়ার কথা। কিন্তু কাগজে কলমে পৌর নাগরিক হলেও সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত হয়নি পৌরবাসীর।
বিভিন্ন এলাকার পৌর নাগরিকদের অভিযোগ, সোনাইমুড়ী পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হওয়ার আগে সোনাইমুড়ী ইউনিয়ন থাকাকালীন সময়ে নাগরিকরা যে সকল সেবা পেয়েছে, পৌরসভা হওয়ার পরেও শুধুমাত্র করদান, জন্ম নিবন্ধন ও মৃত্যুসনদ ব্যতিত আর তেমন কোন সেবা পাচ্ছেনা। সোনাইমুড়ী পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত পৌর চেয়ারম্যান (বর্তমানে মেয়র) মোতাহের হোসেন মানিক তার ১৫ বছর দায়িত্ব পালনকালে পৌর এলাকার বেশ কয়েকটি কাঁচা রাস্তাকে জন চলাচলের উপযোগী, পাকা, কার্পেটিং, সলিং করণসহ স্ট্রিট লাইট স্থাপন করেছিল। কিন্তু সেগুলো এখন বিলীন হওয়ার পথে! বর্তমান মেয়র ভিপি নুরুল হক চৌধুরী গত ২ বছর ধরে মেয়র হিসেবে ক্ষমতায় থাকলেও পৌরবাসী প্রকৃত নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছে। কেবল পৌরসভার গ্রেড (অটো পাশ, গ থেকে খ, খ থেকে ক শ্রেণি) উত্তীর্ণ হওয়া ছাড়া কিছুই হয়নি। ২০০৭ সাল থেকে পৌর ভবন নির্মাণের উদ্যেগ থাকলেও কালক্রমে তা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এতে করে অদ্যাবধি পৌরসভার নিজস্ব কোন কার্যালয় ভবন সৃষ্টি হয়নি। স্বাস্থ্য বিভাগের জরাজীর্ণ ঘরে জোড়া তালি দিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে ১ যুগেরও বেশি সময়।
পৌর শহরের ব্যবসায়ী মোঃ সিরাজ মিয়া বলেন, পৌরসভার এমন কোন রাস্তা নেই, যেটা ভাঙ্গাচুরা নয়। এখনো কয়েকটি
রাস্তা মাটির, পাকা করা হয়নি। সোনাইমুড়ী বাজারের মেইন সড়কের দু’পাশে অবৈধভাবে দোকানপাট করণে রাস্তায় যানজট লেগেই থাকে। এসব নিরসনে কোন পদক্ষেপ নেই। যার ফলে এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ হাজারো পথচারীর প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হয়। যেন কেউ শুনছেনা কারো কথা।
পৌর নাগরিক এটিএম জহিরুল ইসলামসহ কয়েকজন পৌরবাসী বলেন, সরকার দলীয় ভিপি নুরুল হক চৌধুরীকে গত ১৪ ফেব্র“য়ারি নৌকা প্রতীকে মেয়র হিসেবে জয়যুক্ত করার পর পৌরবাসী কিছু পাওয়ার আশা করে। কিন্তু প্রায় ২ বছর যাবত পৌরসভার উন্নয়ন না দেখে তারা এখন হতাশ।
সরেজমিনে গিয়ে সোনাইমুড়ী পৌরসভা এলাকার ভানুয়াই ভুঁইয়া বাড়ীর দক্ষিণ পাশ থেকে পাপুয়া পর্যন্ত এবং একই গ্রামের জব্বর সেরাং এর বাড়ী সংলগ্ন পাপুয়া সংযোগ সড়ক, চন্দ্রপুর, কৌশল্যারবাগ, সোনাইমুড়ী পূর্ব-পশ্চিম পাড়া, কাশারপাড়া, বরলাসহ বিভিন্ন গ্রামের রাস্তাগুলো বেহাল দশায়! ভাঙ্গাচুরা, খানাখন্দকে ভরা, জনচলাচলের অনুপযোগী রাস্তা-ঘাটের সংস্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোশতাক আহমেদ তালুকদার বলেন, কোভিড পরবর্তী বিশ্ব মন্দা অর্থনীতির কারণে উন্নয়ন খাতে ব্যয় ও রাস্তা-ঘাট সংস্কারের উদ্যোগ থাকলেও পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে তা করা যাচ্ছেনা। পৌর নাগরিক সেবা দানে আমাদের জনবলের ঘাটতি নেই। ইতিমধ্যে পৌর এলাকাধীন বিভিন্ন রাস্তা সংস্কারের প্রায় ৩ কোটি টাকার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। তন্মধ্যে টেন্ডার শেষে কয়েকটি কাজ শুরু হয়েছে। পৌর নাগরিকদের মধ্যে কর প্রদানের বিষয়ে যথেষ্ট অনুপযোগী মনোভাব থাকার কারণে কর আদায় শতভাগ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। নিম্ন ও মধ্য বিত্তের নাগরিকরা কর পরিশোধ করলেও বিত্তবান ও ধনাঢ্যরা পৌর কর পরিশোধ না করায় আর্থিক অনটনের কারণে পৌরবাসী অনেক নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সোনাইমুড়ী পৌর মেয়র ভিপি নুরুল হক চৌধুরী’র দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, করোনা মহামারীতে বিশ্ব অর্থনীতি স্থবিরতার প্রভাবে উন্নয়নে কিছুটা ভাটা পড়ায় সোনাইমুড়ী পৌরসভার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু না হলেও বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে পৌরবাসী তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা ও উন্নয়ন ভোগ করবে।











