
আবিদ হাসান, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) : গত কয়েকদিনে অব্যহত বৃষ্টি আর উজান থেকে বয়ে আসা বন্যার পানিতে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর পদ্মানদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রবল স্রোত আর ঢেউয়ের কারণে হরিরামপুর উপজেলার পদ্মানদী তীরবর্তী আন্ধারমানিক, খালপাড়, দাসকান্দি, ভাওয়ারডাঙি, দড়িকান্দিসহ উপজেলার বিভিন্ন নদী তীরবর্তি এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে গত দুই বছরে কোর্টকান্দি,মহম্মদপুর,বৌদ্ধকান্দিতে শত শত বিঘা জমি ও বাড়িঘড় পদ্মার তান্ডবে হারিয়ে গেছে। এছারাও গত কয়েকবছর ধরে অব্যাহত ভাঙনে কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ১৩টি মৌজার মধ্যে ১২টিই নদীগর্ভে চলে গেছে বলে জানা যায়।
উপজেলার বেশিরভাগ পদ্মা তীরবর্তী এলাকায় জিও ব্যাগ দ্বারা নদী শাসনের কাজ করলেও বিভিন্ন স্থানে জিও ব্যাগ ধ্বসে গেছে। বিশেষকরে আন্ধারমানিক,খালপাড় এলাকায় গত তিনদিনে প্রায় দুইশত মিটার এলাকায় জিও ব্যাগে ধ্বস নেমে নদীরপাড়ে চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। জিও ব্যাগ ছিদ্র করে নৌকা,বাল্কহেড, নোঙর করা আর জেলেদের জাল পাতার কারণেই এইসব এলাকা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।
ফলে পদ্মানদীর অতি নিকটে ১০০ মিটারের মধ্যে আন্ধারমানিক বাজার,মসজিদ,মাদ্রাসাসহ পাশেই প্রাথমিক বিদ্যালয়,উচ্চ বিদ্যালয়,হরিরামপুর থানা এবং উপজেলা সরকারি বেসরকারি অফিসগুলো হুমকির মুখে পড়েছে।
আন্ধারমানিক বাজার মুদি দোকানদার মহিদুর রহমান জানান, গত তিন চারদিনে অব্যাহত ঢল, নদীর স্রোত আর ঢেউয়ের কারণে দুই থেকে আড়াইশ মিটার এলাকা জিও ব্যাগসহ ধ্বসে নদীতে চলে গেছে। আন্ধারমানিক বাজার টি যে কোন সময় নদীর কড়াল গ্রাসে বিলীনের শঙ্কা রয়েছে।
খালপাড় এলাকার জয়নাল জানান, প্রতিবছর বন্যার সময় এই জায়গাটি ভাঙে। এখানে দু একদিনের বস্তা না ফেললে আমাদের পঁচিশটি পরিবারের বাড়িঘড় পদ্মায় নিয়ে যাবে। আমরা সরকার এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
ভাওয়ারডাঙি গ্রামের ইউসুব জানান, পুরো নদী তীরবর্তী এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে এই জায়গাটুকুর জন্য বৃহৎ এলাকার সুনাম নষ্ট হবে। দু একদিনের মধ্যে যদি বস্তা না ফেলে, তবে আমরা গ্রামবাসী আন্দোলনে নামবো, মানববন্ধন করবো, প্রয়োজনে উপজেলা ঘেরাও কর্মসুচি দিবো। তাই আমরা যেন সেই পরিস্থিতিতে যেন না যাই, কতৃপক্ষ সেদিকে সু দৃষ্টি দেবেন।
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈদ উদ্দিন বলেন, দু একদিনের মধ্যে ভাঙন ধ্বস ও কবলিত এলাকায় আপদকালীন কাজ শুরু হবে। এছারা, স্থানীয় জেলে,নৌকা,বাল্কহেড নোঙর করার জন্য এই জায়গাগুলোতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সেই বিষয়েও একটা ব্যবস্থা নেয়া দরকার।











