সোমবার, ১২ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,২৬শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দুই সন্তান, স্ত্রীকে মেরে বাবার আত্মহত্যা

‘আমরা মরে গেলাম ঋণের বোঝা নিয়ে, আর খাওয়ার অভাবে’

পাভেল ইসলাম মিমুল, উত্তরবঙ্গ: চিরদিনের জন্য চলে গেলাম। আমি চাই সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।’- এমনি একটি চিরকুট পাওয়া গেছে রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের বামুনশিখড় এলাকায় একই পরিবারের ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার হওয়া সেই বাড়ি থেকে।

শুক্রবার সকালে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন- মিনারুল ইসলাম (৩০), তার স্ত্রী মনিরা বেগম (২৮), ছেলে মাহিম (১৩) ও মেয়ে মিথিলা (১৮ মাস)। মাহিম খড়খড়ি উচ্চ বিদয়ালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতেন। তাদের মরদেহ দুটি ঘরে পাশাপাশি পড়ে ছিল। আর মিনারুলের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল।

উদ্ধারকৃত চিরকুটে লেখা ছিল, ‘আমি নিজ হাতে সবাইকে মারলাম। এই কারণে যে, আমি যদি মরে যাই, তাহলে আমার ছেলে-মেয়ে কার আশায় বেঁচে থাকবে। কষ্ট আর দুঃখ ছাড়া কিছুই পাবে না। আমরা মরে গেলাম ঋণের বোঝা নিয়ে আর খাওয়ার অভাবে। তাই আমরা বেঁচে থাকার চেয়ে মরে গেলাম, সেই ভালো। কারো কাছে কিছুই চাইতে হবে না। আমার জন্য কাউকে কারো কাছে ছোট হতে হবে না। আমার জন্য আমার বাবা অনেক লোকের কাছে ছোট হয়েছে। আর হতে হবে না। চিরদিনের জন্য চলে গেলাম। আমি চাই সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।’

পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজ তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন,ঘটনাটি শুনেছি। ত্রাণ বিতরণের জন্য এখন পদ্মার চরাঞ্চলে আছি। কী কারণে, কীভাবে, কী ঘটেছে বিস্তারিত জেনে বলা যাবে।’

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান,মিনারুল ইসলাম কৃষিকাজ করেন। জানা মতে তার ঋণ রয়েছে। তারা মাটির ঘরে বসবাস করেন। পরিবারে চারজন সদস্যই মারা গেছে। এর মধ্যে উত্তরের ঘরে মা ও মেয়ে,আর দক্ষিণের ঘরে ছেলে ও বাবা মিনারুল ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক বলেন, ‘স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে গলাটিপে হত্যা করে মিনারুল আত্মহত্যা করেছে বলে জেনেছি। আমরা ঘটনাস্থলে আছি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হবে।

মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে ওসি বলেন, ‘কারণ এখনও সঠিকভাবে বলা সম্ভব না। হয়তো পারিবারিক অশান্তির কারণে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার আবু সুফিয়ান বলেন, মরদেহের পাশে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে সেটা নিহত মিনারুলের লিখা।তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *