সোমবার, ২৩শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আম ব্যবসা: এ লড়াই টিকে থাকার

ফজলে রাব্বি, নোবিপ্রবি : দেশব্যাপী খ্যাতি রয়েছে রংপুরের হাড়িভাঙা আমের। আর সাধারণত গ্রীষ্ম ও বর্ষা এই দুই ঋতুতে এই আমের প্রচুর ফলন হয়। কিন্তু আমগুলো ফরমালিনমুক্ত নাকি যুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকে অনেকের। তাছাড়া, বেশিরভাগ অসাধু ব্যবসায়ী ক্যালসিয়াম কার্বাইড দিয়ে আম পাকিয়ে অহরহ বাজারে বিক্রি করে।

তাই সারাদেশে ফরমালিনমুক্ত আম সরবরাহের উদ্যোগ নেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ উদ্যোক্তা মুজতাবা ফয়সাল নাঈম । উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প নিয়ে নোবিপ্রবির যায়যায়কাল প্রতিনিধির সাথে কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর আমি খুবই হতাশ হয়ে পড়ি। বাবা বেঁচে নেই। শুরুতে প্রচুর লড়াই করতে হয় নিজের সঙ্গে। এ লড়াই ছিল টিকে থাকার লড়াই। টিউশন করে যে টাকা পেতাম তা দিয়ে নিজের খরচ বহন করা অনেক কঠিন ছিল। একসময় ভাবতে থাকি, ঠিক এই মুহূর্তে কী করা যায়? পরে আমের ফেসবুকে মার্কেটিং করলাম। তবে সেই ফেসবুকের মার্কেটিং থেকে কিছু আম বিক্রি হত। যা থেকে কিছু লাভ হতো। এই লাভ থেকেই তহবিল গঠন করলাম। লাভের সম্পূর্ণ অংশ বিনিয়োগ করে দিনে দিনে বিজনেসের পরিধি বাড়িয়েছি। বর্তমানে আমার বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এবং সারাদেশের বেশকিছু সচেতন ক্রেতা আমাদের থেকে আম ক্রয় করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবসময় আমাদের নিজস্ব বাগানের বাছাইকৃত বিশুদ্ধ আম সরবরাহ করার চেষ্টা করেছি। এজন্য একজন ক্লায়েন্টের কাছ থেকে অনেকবার অর্ডার পেয়েছি। গতবার প্রায় ১৬০০ কেজি আম বিক্রি করেছি। বিগত বছরগুলোতে দেশের সব জেলায় আম পৌঁছে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। সেই সঙ্গে যারা আমাদের কাছ থেকে আম নিয়েছেন তারাও সন্তুষ্ট। সব মিলিয়ে আমাদের চমৎকার অভিজ্ঞতা। এখানে শেখার অনেক কিছু আছে। নিয়মিত শেখার চেষ্টা করছি।’

‘সবার আস্থা আর ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের প্রোডাক্টের মান ঠিক রেখে আমরা সামনের দিনগুলোতে আরও দৃঢ়ভাবে কাজ করতে চাই। আমি প্রত্যাশা করি যাতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আমাদের মতো তরুণ উদ্যোক্তাদের হাত ধরে হয়। গ্রামের মানুষ যাতে বসে না থাকে। কাজের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে আমরা আমাদের প্রয়াস চালিয়ে যেতে চাই।’

তরুণ উদ্যোক্তা মুজতবা ফয়সাল নাঈম বলেন, ‘আমাদের আমের নিজস্ব বাগান আছে। আর বর্তমান বাজারে যে আম বিক্রি হয় সেই আম ফরমালিন ও কার্বাইডমুক্ত নয়। অথচ প্রতি কেজি আম ১৩০-১৮০ টাকা পর্যন্ত তারা বিক্রি করছে। তাই আমি ভাবলাম, যদি নিজেদের বাগানের আম কাস্টমারকে খাওয়াতে পারি, তবে আমরা অনেক বেশি আম বিক্রি করতে পারবো। এছাড়া, সবচেয়ে বড় কথা আমরা ভোক্তার কথা ভেবেই আমের দাম নির্ধারণ করি যেহেতু আমাদের নিজস্ব আম বাগান আছে। আমরা আমাদের আমের কোয়ালিটি সবসময় ধরে রেখে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই।’

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ