সোমবার, ১৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,৩০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে শিশুদের হাম সংক্রমণ

যায়যায়কাল ডেস্ক: দেশে হাম সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। কয়েকটি জেলায় রোগটি বড় আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।

ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, পাবনাসহ কয়েকটি জেলার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতি বছরই শিশুরা হামে আক্রান্ত হলেও এ বছর সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ১২ দিনে ১০৬ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে রোববার পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

ময়মনসিংহ জেলা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাম আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে সন্দেহভাজন হাম আক্রান্ত ৬৬ শিশু চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত ৮৫টি নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে ৪৭টি পজিটিভ এসেছে। অনেক শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ২৪ মার্চ হাম রোগীদের চিকিৎসায় পৃথক তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এখনো হাসপাতালে শিশু আইসিইউ চালু করা যায়নি। এ কারণে ছয় বেডের একটি কক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোনো রোগীর আইসিইউ প্রয়োজন হলে তাকে ঢাকায় পাঠানো হবে।

এদিকে নোয়াখালীতে গত ১৫ দিনে প্রায় তিনশ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে রোববার পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

নোয়াখালী সিভিল সার্জন কার্যালয় ও নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মাহমুদে কায়নাত জানান, রোববার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে নতুন করে ১৪–১৫ শিশু ভর্তি হয়েছে। সাধারণ এক থেকে বছর বয়সী শিশুরা এই রোগী বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

কুমিল্লায় হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৫২ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। এদের মধ্যে চারজনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া রুবেলা শনাক্ত হয়েছে আরেক শিশুর।

জেলার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর বাশার জানান, বর্তমানে চারটি শিশু একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সন্দেহভাজন হামের চিকিৎসা নিচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রতিদিন গড়ে চার থেকে পাঁচ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তবে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হওয়া রোগীদের ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত জেলায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. জাভেদ আহমেদ বলেন, বর্তমানে সেখানে ১৩ শিশুটি ভর্তি রয়েছে। রোগীদের জন্য দুটি আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে, যার মধ্যে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের ব্যবস্থাই রয়েছে। তবে বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক আইসোলেশন ইউনিট খালি রয়েছে।

পাবনায় চলতি বছরের তিন মাসে ৩৩ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পাবনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র পরিসংখ্যান কর্মকর্তা অংশুপতি বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, এ সময়ে ১০৪টি সন্দেহভাজন ঘটনার মধ্যে ৬৬টির ল্যাব পরীক্ষায় ৩৩টিতে হাম পজিটিভ পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু গত এক সপ্তাহেই নতুন তিনটি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু।

পাবনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খাইরুল কবির বলেন, প্রতি বছরই হাম দেখা যায়, তবে এ বছর সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এদিকে, গাজীপুরেও হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

জেলার সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, গাজীপুরের হাসপাতালগুলোতে আগের চেয়ে হাম আক্রান্ত রোগী তুলনামূলকভাবে বেশি।

তিনি আরও বলেন, পুরো জেলায় আক্রান্তের সঠিক সংখ্যা সোমবার সকালে জানানো হবে।

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসিফ উর রহমান বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে হাম আক্রান্ত ছয় শিশু চিকিৎসাধীন।

তিনি বলেন, প্রতিদিন গড়ে হাম নিয়ে ভর্তি হচ্ছে চার থেকে ছয় শিশু। যাদের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে, তাদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

‘এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি’, যোগ করেন তিনি।

বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. খুরশিদ আলম বলেন, গত এক মাসে উপজেলা পর্যায়ে ৩৬টি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ধুনট উপজেলার এক শিশুর শরীরে হাম পজিটিভ পাওয়া গেছে। চিকিৎসা নিয়ে সে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

তিনি আরও বলেন, হাম আক্রান্ত আরও দুই শিশু বর্তমানে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অন্যদিকে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু বলেন, আজ পর্যন্ত জেলায় হামে আক্রান্ত কোনো শিশু মৃত্যুর খবর নেই। টিকার মজুত সম্পর্কে জেলার ইপিআই সুপার বলতে পারবেন।

টাঙ্গাইলের ইপিআই সুপার আব্দুল হামিদ বলেন, জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে যে পরিমাণ হামের টিকা রয়েছে, তা দিয়ে আগামী মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলতে পারে।

সূত্র: ডেইলি স্টারেজেলা
যায়যায়কাল প্রতিবেদক: দেশে হাম সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। কয়েকটি জেলায় রোগটি বড় আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।

ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, পাবনাসহ কয়েকটি জেলার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতি বছরই শিশুরা হামে আক্রান্ত হলেও এ বছর সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ১২ দিনে ১০৬ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে রোববার পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

ময়মনসিংহ জেলা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাম আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে সন্দেহভাজন হাম আক্রান্ত ৬৬ শিশু চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত ৮৫টি নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে ৪৭টি পজিটিভ এসেছে। অনেক শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ২৪ মার্চ হাম রোগীদের চিকিৎসায় পৃথক তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এখনো হাসপাতালে শিশু আইসিইউ চালু করা যায়নি। এ কারণে ছয় বেডের একটি কক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোনো রোগীর আইসিইউ প্রয়োজন হলে তাকে ঢাকায় পাঠানো হবে।

এদিকে নোয়াখালীতে গত ১৫ দিনে প্রায় তিনশ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে রোববার পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

নোয়াখালী সিভিল সার্জন কার্যালয় ও নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মাহমুদে কায়নাত জানান, রোববার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে নতুন করে ১৪–১৫ শিশু ভর্তি হয়েছে। সাধারণ এক থেকে বছর বয়সী শিশুরা এই রোগী বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

কুমিল্লায় হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৫২ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। এদের মধ্যে চারজনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া রুবেলা শনাক্ত হয়েছে আরেক শিশুর।

জেলার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর বাশার জানান, বর্তমানে চারটি শিশু একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সন্দেহভাজন হামের চিকিৎসা নিচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রতিদিন গড়ে চার থেকে পাঁচ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তবে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হওয়া রোগীদের ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত জেলায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. জাভেদ আহমেদ বলেন, বর্তমানে সেখানে ১৩ শিশুটি ভর্তি রয়েছে। রোগীদের জন্য দুটি আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে, যার মধ্যে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের ব্যবস্থাই রয়েছে। তবে বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক আইসোলেশন ইউনিট খালি রয়েছে।

পাবনায় চলতি বছরের তিন মাসে ৩৩ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পাবনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র পরিসংখ্যান কর্মকর্তা অংশুপতি বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, এ সময়ে ১০৪টি সন্দেহভাজন ঘটনার মধ্যে ৬৬টির ল্যাব পরীক্ষায় ৩৩টিতে হাম পজিটিভ পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু গত এক সপ্তাহেই নতুন তিনটি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু।

পাবনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খাইরুল কবির বলেন, প্রতি বছরই হাম দেখা যায়, তবে এ বছর সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এদিকে, গাজীপুরেও হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

জেলার সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, গাজীপুরের হাসপাতালগুলোতে আগের চেয়ে হাম আক্রান্ত রোগী তুলনামূলকভাবে বেশি।

তিনি আরও বলেন, পুরো জেলায় আক্রান্তের সঠিক সংখ্যা সোমবার সকালে জানানো হবে।

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসিফ উর রহমান বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে হাম আক্রান্ত ছয় শিশু চিকিৎসাধীন।

তিনি বলেন, প্রতিদিন গড়ে হাম নিয়ে ভর্তি হচ্ছে চার থেকে ছয় শিশু। যাদের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে, তাদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

‘এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি’, যোগ করেন তিনি।

বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. খুরশিদ আলম বলেন, গত এক মাসে উপজেলা পর্যায়ে ৩৬টি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ধুনট উপজেলার এক শিশুর শরীরে হাম পজিটিভ পাওয়া গেছে। চিকিৎসা নিয়ে সে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

তিনি আরও বলেন, হাম আক্রান্ত আরও দুই শিশু বর্তমানে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অন্যদিকে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু বলেন, আজ পর্যন্ত জেলায় হামে আক্রান্ত কোনো শিশু মৃত্যুর খবর নেই। টিকার মজুত সম্পর্কে জেলার ইপিআই সুপার বলতে পারবেন।

টাঙ্গাইলের ইপিআই সুপার আব্দুল হামিদ বলেন, জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে যে পরিমাণ হামের টিকা রয়েছে, তা দিয়ে আগামী মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলতে পারে।

সূত্র: ডেইলি স্টার

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, , বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ