শুক্রবার, ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এর সর্বশেষ সংবাদ

এফসি ব্রাহ্মণবাড়িয়া’র ভীত শক্ত গড়তে চান যুবায়ের

বাংলাদেশের তৃণমূল ফুটবলে বেশ পরিচিত এক নাম মো. শাহাদাত হোসেন যুবায়ের। যিনি ফুটবল পাগল এক তৃণমূল সংগঠক। দেশের ফুটবলাঙ্গনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই রয়েছে তার সরব উপস্থিতি। মতিঝিল ক্লাব পাড়ায় গেলে দেখা যাবে কারো না কারো সঙ্গে লাল-সবুজের ফুটবল নিয়ে আলোচনায় মগ্ন যুবায়ের। ঢাকার তৃতীয় বিভাগের দল এফসি ব্রাহ্মণবাড়িয়া’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক তিনি। এছাড়া দেশের ফুটবল সমর্থকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ ফুটবল সাপোর্টার্স ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকও মো. শাহাদাত হোসেন যুবায়ের।
যুবায়ের জানান, ফুটবল খেলা ভালবাসেন বলে নানা প্রতিকূলতার মাঝেও ছুটে যান মাঠে। কাজ করেন তৃণমূল ফুটবল নিয়ে। তৃণমূলের ফুটবলার খুঁজতে ছুটে বেড়ান দেশের আনাচে-কানাচে। লাল-সবুজ পতাকা বুকে ধারন করে তিনি ভালবাসেন নিজ জেলা ব্রাহ্মণবাড়ীয়াকে। তাই তো ব্রাহ্মণবাড়িয়া নামে গড়ে তুলেন ফুটবল দল। যে ফুটবল দল নারী প্রিমিয়ার লিগের পাশাপাশি দাপটের সঙ্গে খেলছে ছেলেদের তৃতীয় বিভাগ লিগ।
তৃণমূলের এই ফুটবল সংগঠক বলেন,‘এক সময় আমাদের জাতীয় পর্যায়ের ফুটবলে রাজধানী ঢাকার বাইরের বেশ কয়েকটি ক্লাব অংশগ্রহণ করেছে। সিলেটের বিয়ানীবাজার, কক্সবাজারের কক্সসিটি, নায়ারণগঞ্জের শুকতারা, চট্টগ্রামের আবাহনী-মোহামেডান ছাড়াও আরও বেশ কিছু ক্লাব জাতীয় পর্যায়ে খেলার কারণে উক্ত জেলার পাশাপাশি সেখানকার ফুটবলের সার্বিক পরিচিতি লাভ করেছিল। এফসি ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে নিয়েও আমার স্বপ্ন তেমনই। আমি ফুটবল খেলার মাধ্যমে নিজ জেলার পরিচিতি সবার কাছে ছড়িয়ে দিতে চাই। আমাদের আশা ফুটবলের মাধ্যমে দেশের গন্ডি পেরিয়ে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার নাম সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়–ক।’
যুবায়ের যোগ করেন, ‘আমার বিশ্বাস ও আস্থা আছে যে, যদি আমাদের ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার মানুষ এটাকে ভালোভাবে গ্রহণ করে আপন করে নিতে পারে তাহলে একদিন এফসি ব্রাহ্মণবাড়িয়াই হতে পারে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার পরিচিতির জন্য অন্যতম মুখপাত্র। আমাদের ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রয়েছে। ফুটবলের এ প্রয়াসের মাধ্যমে আমার ইচ্ছা ও আকাঙ্খা এই যে, আমি ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার নামকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চাই- যেমনি ভাবে আজকে রিয়াল মাদ্রিদ বা বার্সেলোনাকে বিশ্ব ফুটবলপ্রেমীরা এক নামেই চেনে।
২০১৭ সালে ঢাকা পাইওনিয়ার ফুটবল লিগে প্রথমবারের মতো এফসি ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশ নেয়। এরপর ২০১৯ সালের ওই আসরে অংশ নিয়ে দলটি তৃতীয় স্থান পেয়ে ৩য় বিভাগ লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।
চলমান বসুন্ধরা গ্রুপ ঢাকা তৃতীয় বিভাগ ফুটবল লিগে অংশ নিচ্ছে এফসি ব্রাহ্মণবাড়িয়া। এছাড়াও নারী প্রিমিয়ার লিগে এই ক্লাবের নারী দল ২০২১ সালে তৃতীয় এবং ২০২২ সালে দশম স্থান অর্জন করে।
শাহাদাত হোসেন যুবায়ের নিজের ক্লাবের অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথা জানিয়ে আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘মূলত আমি এবং আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার হাতেগোনা কিছু ফুটবল পাগলদের নিয়ে কোনরকমে দলটি পরিচালনা করে আসছি। আমার নিজের জেলার নামে দলটি হলেও তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা পাচ্ছি না আমি। গুটিকয়েক ব্যক্তি এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বড় মাপের ফুটবল সংগঠকের বদ্যানতায় দলটি পরিচালনা করছি। ক্লাব চালাকে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়, যা জোগার করতে হিমশিম খাচ্ছি আমি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার একান্ত চাওয়া- এফসি ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাংলাদেশের ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হোক। এ লক্ষ্যে চেষ্টা করে যাচ্ছি, এজন্য মিডিয়ার দ্বারস্থ হয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। সমাজের ফুটবলপ্রেমী বিত্তবানদের আহবান জানাচ্ছি আমার পাশে এসে দাঁড়াতে। তাহলেই হয়তো এফসি ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে নিয়ে দেখা আমার স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হবে।’
শাহাদাত হোসেন যুবায়ের জন্ম ও বেড়ে উঠা ঢাকায়। তিনি ছোট-খাটো ব্যবসা করেন বলে আর্থিকভাবে তেমন স্বচ্ছল নন। ফলে দলটি পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে দারুণ আর্থিক সংকটে ভুগলেও ঠিকই তৃতীয় বিভাগ লিগে খেলছে এফসি ব্রাক্ষণবাড়িয়া। শাহাদাতের ভাষ্য একটি ক্লাব দল পরিচালনার জন্য যে ধরনের কাঠামো দরকার তা আমাদের ক্লাবের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতাও একটি বড় বিষয়। বিষয়টি খোলাসা করেন শাহাদাত, ‘দল পরিচালনার ক্ষেত্রে সব সিদ্ধান্ত আমাকে একাই নিতে হচ্ছে। আমাদের কমিটির বেশকিছু সদস্য দেশের বাইরে অবস্থান করেন এবং জেলাভিত্তিক দল হওয়ায় অনেকেই জেলাতেই বসবাস করেন। তাদেরকে আমরা ক্লাবের সাথে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছি মাত্র। আর বাকি যারা রাজধানী ঢাকায় রয়েছেন তাদের নিয়ে চেষ্টা করছি ক্লাবটি পরিচালনা করতে। হাতে গোনা কয়েকজন বাদে তেমন কেউই আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন না।’
শাহাদাত হোসেন যুবায়ের প্রত্যাশা সমাজের বিত্তবান ক্রীড়াপ্রেমীরা এফসি ব্রাক্ষণবাড়িয়া পরিচালনা করার জন্য আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ