মঙ্গলবার, ১৩ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এর সর্বশেষ সংবাদ

এ লজ্জা কার ও দায়ী কে?

ডা. মো. সাইফুল ইসলাম: অনেক চাওয়া, অনেক প্রেম, অনেক আশা, অনেক ভালোবাসা যখনই নিরাশার ভেলায় ও দুরাশার স্বপ্নে ভাসতে থাকে আর তখনই হৃদয় সমুদ্রে তরঙ্গের তালে তালে কত কথা, কত দুঃখ কষ্ট ও না পাওয়ার যন্ত্রণা হৃদয়টাকে প্রতিনিয়ত কুরে কুরে নিঃশেষ করে দেয়, তা কথায় ভাষায় ও লেখায় প্রকাশ করা আদৌ সম্ভব নয়, তারপরও জীবন, কাব্যের হৃদয় পাতাগুলো খুললেই স্মৃতির আয়নায় ভেসে উঠে ঘটে যাওয়া কত ঘটনার প্রতিচ্ছবি।

প্রতিটি রাত, প্রতিটি দিন আসে যায় আর অকাল প্রয়াত মানুষের রুদ্ধশ্বাস গোঙ্গানী ছড়িয়ে পড়ে বাতাসে, আতংকে শিহরিত, সময় চমকে উঠে। অপমৃত্যুর অপচ্ছায়ায় ঢাকা পড়ে জনপদ। সহজ সরল মানুষের রক্তাক্ত আত্মার ক্রন্দন আজ চারদিকে। হায়রে, সোনার হরিণ তোমাকে ধরতে ঝরাতে হলো কত রক্ত, দিতে হলো কত না প্রাণ, হারাতে হলো কত মা, বোনের ইজ্জত। তারপরও সোনার হরিণ তুমি ধরা ছোঁয়ার বাহিরেই রয়ে গেলে? এই না পাওয়ার যন্ত্রণা আর নিত্যদিনের ঘটে যাওয়া তান্ডবলিলায় সকল চাওয়া পাওয়া ও আশার প্রদীপ নিভু নিভু প্রায়। মৃত প্রায় সিংহের মতো অশ্রæসজল নয়নে তাকিয়ে থাকার মতো অবস্থা আজ বিরাজ করছে সবখানে, সর্বত্র ও সবার মাঝে। কথা বলতেও ভয়, পথ চলতেও নিরাপত্তার অভাব, অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎকা, বাসস্থান ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত, অনিশ্চিত মৌলিক অধিকার। কার খাদ্য কে খাচ্ছে, কার অধিকার কে ভোগ করছে, কার পাওনা কে নিচ্ছে, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ভাগাড়ে পড়ে থাকা মরা গরু, টেনে হেঁচড়ে খাচ্ছে। হায়রে সোনার দেশ গড়ার স্বপ্ন, তুমি ‘স্বপ্নই’ থেকে গেলে?

সোনার ছেলেরা তোমরা আজ কোথায়? তোমাদের সেই মধুর কণ্ঠ, সুর, তাল ও ছন্দ কোথায় হারিয়ে গেল? হিংসা, প্রতিহিংসা, ক্ষমতা ও স্বার্থের মোহে নৈতিকতা, মানবতা, মানসিক মূল্যবোধ ও সুপ্রবৃত্তির মতো অমূল্য সম্পদ অনৈতিকতা অমানবিকতা ও কুপ্রবৃত্তির খাঁচায় কি বন্দি করে রেখেছে? অনুভূতি, অনুভাব ও অনুশোচনার মতো স্পর্শকাতর উপাদানগুলোর বোধশক্তি কি একেবারেই লোভ পেয়েছে? নাকি প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত রোগীর মতো বোধহীন অচল, অসাড় ও বিকলাঙ্গ হয়ে পড়েছে? এ আমার অন্তহীন জিজ্ঞাসা। জিজ্ঞাসা করা বোধ হয় আমার ঠিক হবে না। কারণ, কাকে জিজ্ঞাসা করবো? শোনার বোঝার, অনুশোচনার ও আত্মসমালোচনার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির মানুষ পাওয়া এদেশে দূর্লভ নয় কি?

সম্প্রতি জাতি আজ দূর্নীতি ও সন্ত্রাস নামক ব্যাধিতে চরমভাবে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। কেড়ে নিয়েছে মানুষের সুখ-শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তা। এছাড়াও অতীতের শ্রেষ্ঠ অর্জনগুলোও দূর্নীতি ও সন্ত্রাসের করালগ্রাসে ¤øান হতে চলছে। দেশের এহেন করুণ অবস্থার জন্য দায়ী কে? কেউ এর দায়-দায়িত্ব স্বীকার করছে না। সমস্ত ভুলত্রæটি বিবেচনায় নিয়ে আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আত্মবিশ্বাসে একাগ্রতার ফ্রেমে নিজেকে কেউ বেঁধে ফেলতেও চাচ্ছে না। বরং পরস্পর পরস্পরকে দায়ী করে যুক্তি পাল্টা যুক্তি, বক্তব্য ও বিবৃতির মাধ্যমে আত্মপক্ষকে সমর্থন ও প্রতিপক্ষকে দোষারূপ বা দায়ী করা আজকাল বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের স্বভাবে পরিণত হয়েছে। অথচ দূর্নীতি ও সন্ত্রাস রাতারাতি সৃষ্টি হয়েই হঠাৎ করে দেশের সর্বত্র অর্থাৎ রন্ধে, রন্ধে ছড়িয়ে পড়েনি। এ এক দীর্ঘ ধারাবাহিক প্রক্রিয়ারই ফসল। দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা হিংসা, প্রতিহিংসা, ক্ষমতা দখলের রাজনীতি, অন্যায় অসত্য ও নিয়ম নীতির অপব্যবহারের কারণে দূর্নীতি ও সন্ত্রাস দাবানলের মতো ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। গোটা জাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বললে ভূল হবে। ধ্বংস করেই ফেলেছে।

এ লজ্জা কার? এ লজ্জা সমগ্র জাতির।দায়ী কিন্তু গুটিকতক লোভী, লুটেরা, স্বার্থপর ও ক্ষমতা লিপ্সুর দল। হায়রে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব। তুমি ৫০ বছরেও বন্দি জীবন থেকে মুক্ত হয়ে বেরিয়ে আসতে আজও পারলে না?

(চলমান)

লেখক: ডা. মো. সাইফুল ইসলাম
কবি, সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক
চিলাহাটি, ডোমার, নীলফামারী।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ