মঙ্গলবার, ২২শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কেন্দুয়ায় সরকারি গাছ কাটার মামলা: একমাত্র আসামি অধরা, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নেত্রকোণা প্রতিনিধি: নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় সরকারি সড়কের পাশে রোপণ করা মূল্যবান মেহগনি গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার একমাত্র এজাহারভুক্ত আসামিকে দীর্ঘদিনেও গ্রেপ্তার না করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আদালতে হাজিরা না দিয়েও আসামির প্রকাশ্য চলাফেরা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

জানা গেছে, কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের আলমপুর–দিঘলী এলজিইডি সড়কের দিঘলী মোড় থেকে জিলু মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার পাশে সরকারি জায়গায় রোপণ করা ৩১টি মেহগনি গাছ গত ১৮ নভেম্বর কেটে ফেলা হয়। স্থানীয়দের দাবি, এসব গাছের বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, দিনের বেলায় গাছগুলো কাটা হলেও রাতে গাড়িতে করে সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয়রা কয়েকটি যানবাহন ও কাটা গাছের অংশ আটক করেন। তারা জানান, কয়েক বছর আগে সরকারি উদ্যোগে এসব গাছ রোপণ করা হয়েছিল। গাছ বিক্রির ক্ষেত্রে স্থানীয়দের একটি অংশ দেওয়ার আশ্বাস থাকলেও কাউকে অবহিত না করেই গাছগুলো কেটে ফেলা হয়।

এ ঘটনায় মাসকা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান ভূঞা সুমনের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। সরকারি সম্পদের গাছ কাটতে হলে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের অনুমোদনসহ একাধিক আইনগত শর্ত পূরণ বাধ্যতামূলক হলেও এ ঘটনায় এসব বিধি অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদারের নির্দেশে মাসকা ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বাদী হয়ে গত ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে রেজাউল হাসান ভূঞা সুমনের বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে নেত্রকোণা আমলি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

তবে মামলার একমাত্র আসামি এখনো আদালতে হাজিরা দেননি। অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তার বা হাজিরার তোয়াক্কা না করেই তিনি প্রভাব খাটিয়ে থানা এলাকা ও আশপাশে অবাধে চলাফেরা করছেন। এমনকি থানায় নিয়মিত যাতায়াত ও পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের নিরপেক্ষতা ও আইন প্রয়োগের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রেজাউল হাসান ভূঞা সুমনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি ঢাকা যাচ্ছি, এ বিষয়ে পরে কথা বলবো।”

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি মাকসুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি অল্পদিন আগে এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ