শনিবার, ২৪শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এর সর্বশেষ সংবাদ

গুচ্ছঃ প্রায় অর্ধেক আসন ফাঁকা নিয়ে চলছে কুবির প্রত্নত্তত্ব বিভাগ, অন্য বিভাগেরও বেহাল দশা

আবু শামা, কুবি প্রতিনিধি: গুচ্ছ ভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বারো তম মেধা তালিকা প্রকাশ করেও শতভাগ আসন পূরণ হচ্ছে না। এরমধ্যে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫৩ সিটের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ২৮ জন শিক্ষার্থী। ফাঁকা রয়েছে ২৫ টি। যা মোট আসনের ৪৭ শতাংশ।

বি ইউনিটের অধীনে সামাজিক বিজ্ঞান ও কলা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখা যায়, বাংলা বিভাগের ৬৩টি আসনের মধ্যে খলি আছে ১৯টি। অর্থনীতি বিভাগের ৬৩ আসনের মধ্যে খালি আছে ৭ টি। লোক প্রশাসন বিভাগের আসন খালি ৬টি । গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৫৩ আসনের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৪২ জন। এখনো ৯ টি আসন ফাঁকা আছে।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৬৩ টি আসনের মধ্যে ২১ টি আসন খালি আছে। ইংরেজি বিভাগের খালি আছে ৩টি।

এছাড়াও ‘এ’ ইউনিটের ৫১৫ আসনের মধ্যে এখনও ৭৪ টি আসন ফাঁকা আছে। তবে এখানে বিজ্ঞানের আছে ২০টি অন্যগুলো বি ইউনিট এবং সি ইউনিটের। তবে ‘সি’ ইউনিটের কয়টি সিট ফাঁকা আছে সেটি ১২ তম মেধাতালিকা প্রকাশের পর জানা যাবে।

গুচ্ছভর্তি পরিক্ষা টেকনিক্যাল কমিটির আহবায়ক ড. মো. সাইফুর রহমান বলেন, আমরা এখনো ‘সি’ ইউনিটের কাগজপত্র হাতে পায় নি। তবে মাইগ্রেশনের সুযোগ থাকায় শিক্ষার্থীরা পছন্দমতো সাবজেক্ট পাওয়া পর্যন্ত স্থানান্তরের চেষ্টা করে। আবার এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরেক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত হবার ফলে বারবার আসন পাকা হয়ে যায়।

এদিকে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও রয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী জিসান জানান, গুচ্ছ সৃষ্টি করা হয়েছিল শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য কিন্তু তাতে হিতে বিপরীত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে এক সেমিস্টার শেষ পর্যায়ে সেখানে গুচ্ছের অধীনে আমাদের এখনো ভর্তি পরিক্ষা চলমান রেখেছে। এতে আমাদের সেশনজটে পড়তে হচ্ছে। এই পদ্ধতি অবিলম্বে পরিবর্তন করা হোক।

মার্কেটিং বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী সুমাইয়া বলেন, গুচ্ছ প্রক্রিয়ায় একসাথে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা দেওয়ার কারণে আমাদের অনেক সময় বাঁচে এবং অনেক উপকার হয়। কিন্তু গুচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন করার কারণে এবং মাইগ্রেশন এর অপশন অন থাকার কারণে মানুষ ভর্তি হওয়ার পরও নিশ্চিতথাকে না কোন জায়গায় সে ভর্তি হবে এবং কোনটা তার জন্য ভালো হবে। দিনশেষে যেকোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হতে পারলেও তার মনের মধ্যে আক্ষেপ থেকে যায় যে সে অন্যগুলোই পাওয়ার যোগ্যতা কি রাখেনি?? এভাবে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন বিভিন্ন অনিশ্চয়তা এবং অসন্তুষ্টিতে ভরে ওঠে।

গুচ্ছ পদ্ধতি নিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জি এম মনিরুজ্জামান বলেন, গুচ্ছে ভালোর চেয়ে খারাপই বেশব হচ্ছে। আমরা শিক্ষকরা গুচ্ছের জন্য প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু এখন হিতে বিপরীত হয়েছে, শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হচ্ছে বর্তমানে সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে গুচ্ছ নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। প্রয়োজন হলে আবারও স্বতন্ত্র পদ্ধতি চালু হোক।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, গুচ্ছে শিক্ষার্থীদের সমস্যা হচ্ছে তা আমাদের নজরে এসেছে। গুচ্ছ যারা নিয়ন্ত্রণ করে আমরা তাদেরকে গতবছরেও বিষয়টি অবহিত করেছি এবারও করবো। এখানে সমস্যা হচ্ছে গুচ্ছতে নিদিষ্ট সময়ে ভর্তি শেষ করার কোন নিয়ম নাই।

স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে বৈষম্য হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অসুবিধা হচ্ছে তবে আমরা শ্রীঘই তা লাঘব করার চেষ্টা করবো। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সতন্ত্র পদ্ধতিতে পরিক্ষা নেওয়ার কোন পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো এ ধরনের কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, যদি গুচ্ছে সমস্যা সমাধান না হয় তাহলে ভিন্ন চিন্তা করতে হবে।

গুচ্ছের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক, সদস্য সচিবকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ও তাদের পাওয়া যায় নাই।

প্রসঙ্গত, আজ বৃহস্পতিবার ৯ ফেব্রুয়ারী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ তম মেধা তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ