শুক্রবার, ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এর সর্বশেষ সংবাদ

গোপালগঞ্জে ১৫০ একর জমিতে বীজ আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: গোপালগঞ্জে ১৫০ একর  জমিতে বীজ আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। বিএডিসির গোপালগঞ্জ বীজ আলু হিমাগারের তত্ত্ববধানে বীজ আলুর আবাদ করা হবে। সেই লক্ষ্যেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন  করেছে গোপালগঞ্জ বীজ আলু হিমাগার কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে তারা কৃষকের সাথে চুক্তি সম্পন্ন করেছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করেছে। কৃষক পর্যায়ে আলু বীজ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরাও মাঠে আলু বীজ রোপণের কাজ পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছেন।

গোপালগঞ্জ বীজ আলু হিমাগারের উপপরিচালক দীপংকর রায় বলেন,  এ বছর আমরা ১৫০ একর জমিতে বীজ আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। এরমধ্যে  গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ৪৮ একর, কোটালীপাড়ায় ১০ একর, কাশিয়ানীতে ১৩ একর, বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার কুনিয়া গ্রামে ৬ একর, নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার আমডাঙ্গা গ্রামে ৪৬ একর ও কালিয়া উপজেলার যোগানিয়া গ্রামের ২৭ একর জমিতে বীজ আলু চাষাবাদের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। এতে চাষাবাদের জন্য আমরা ১০০ মেট্রিকটন বীজ আলু  কৃষকের মধ্যে বিতরণ শুরু করেছি। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ ০০ মেট্রিক টন।

ওই কর্মকর্তা অরো বলেন, আমরা ইতিমধ্যে ৭৮ জন কৃষকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। তাদের বীজ আলু চাষাবাদের আধুনিক কলা কৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি। কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১০ টন বীজ আলু আবাদের জন্য সরবরাহ করা হয়েছে। বাদবাকী বীজ আলু বিতরণের অপেক্ষায় রয়েছে। গত ৮ বছর ধরে গোপালগঞ্জে বীজ আলুর আবাদ হয়ে আসছে। এ বীজ আলু আমরা চুক্তিবদ্ধ কৃষকের কাছ থেকে ক্রয় করে হিমাগারে সংরক্ষণ করি। পরে এসব বীজ আলু দিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় আলুর আবাদ করা হয়।
ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, প্রতি একরে বীজ আলু ৬ টন উৎপাদিত হয়। আমরা আলুর বাজার মূল্যের দেড়গুণ দামে বীজ আলু কৃষকরে কাছ থেকে সংগ্রহ করে হিমাগারে সংরক্ষণ করি। বীজ আলু আবাদ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী গ্রামের কৃষক মতিয়ার রহমান বলেন, বীজ আলু আবাদ থেকে শুরু করে সংগ্রহ পর্যন্ত সব ধরণের সহযোগিতা বীজ আলু হিমাগারের পক্ষ থেকে করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে বীজ,সার, ছত্রাকনাশক কৃষি ঋণের মাধ্যমে আমাদের দেওয়া হয়। আমরা এগুলো দিয়ে নভেম্বরের মাঝামাঝি চাষাবাদ শুরু করি। মার্চে ক্ষেত থেকে বীজ আলু সংগ্রহ করে হিমাগারে বিক্রি করি। এরমধ্যে বীজ আলু হিমাগারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মাঠে আসেন আমাদের পরামর্শ দেন। তাদের সার্বিক তত্ত্ববধানে আমার সফলভাবে বীজ আলু চাষ সম্পন্ন করতে পারি।   
নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার আমডাঙ্গা গ্রামের কৃষক মো. অহিদুজ্জামান বলেন, গত ৮ বছর ধরে বীজ আলু চাষাবাদ করে লাভবান হাচ্ছি। এ বছরও বীজ আলুর চাষাবাদ শুরু করেছি। আশা করছি এবারও লাভবান হব। হিমাগারে বীজ আলু জমা দেয়ার পর হিমাগার কর্তৃপক্ষ আমাদের চেকের মাধ্যমে টাকা দেন। চেক ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঋণের টাকা কেটে রেখে আমাদের লাভের টাকা ফেরত দেয়।

কাশিয়ানী উপজেলার চরভাটপাড়া গ্রামের কৃষক বাবার আলী বলেন, বীজ আলুর চাষাবাদ লাভজনক। ক্ষেতে বীজ আলু চাষাবাদে কোন খরচ নেই। ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে হিমাগার কর্তৃপক্ষ বীজ, সার, ছত্রাকনাশকের ব্যবস্থা করে দেয়। এরপর তাদের পরামর্শে আমরা প্রতি একরে আলুর ১০ টন ফলন পাই। এরমধ্যে বীজ আলু হিসেবে ৬ টন হিমাগারে জমা দেই। হিমাগার কর্তৃপক্ষ আমাদের বীজ আলুর টাকা পরিশোধ করে। এছাড়া বাড়তি ৪ টন আলু  খাবার আলু হিসেবে বাজারে বিক্রি করে নগদ টাকা হাতে পাই। এভাবে দু’ দফা আলু বিক্রি করে আমরা লাভবান হয়ে আসছি।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ