
ছাতক(সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সূফি আলম সোহেলের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গত ৮ জুলাই উপজেলার ইসলামপুর ইউপির গনেশপুর নোয়াগাও গ্রামের মৃত হাজী ফরিদ উদ্দিনের ছেলে বাবুল আহমদ বাদী হয়ে চেয়ারম্যান সুফি আলম সোহেলসহ ২২ জন ও অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়। গত বুধবার রাতে জামায়াত নেতা সুফি আলম সোহেলকে প্রধান করে চাঁদাবাজির মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার পৌর শহরের মন্ডলীভোগ এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ১৩ নং আসামি ইব্রাহিম আলীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সে উপজেলার ইসলামপুর ইউপির গনেশপুর ছড়ারপাড় গ্রামে তেরা মিয়ার ছেলে গত শুক্রবার সকালে সুনামগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুলাই রাতে ছাতক বাজার পুরাতন কাস্টম রোডস্থ মোসার্স জে আলম এন্ড ব্রাদার্সের বেআইনিভাবে প্রবেশ করে দাবিকৃত ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় চেয়াম্যান সুফি আলম সোহেলের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও তার ক্যাশ বক্স ভেঙে প্রায় ৩ লাখ হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ হামলায় রাহাত ও মুক্তাদিরকে মারপিট করে গুরুতর আহত করে চেয়ারম্যানের লোকজন। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রকাশ্যে চেলা নদী ফুলফুলি বিলে পাথরবাহী এমবি শুভ সম্রাট বাল্কহেড চালক আব্দুল গফ্ফারকে আটক করে তার কাছে এক লাখ টাকার চাদা দাবি করে করেন চেয়ারম্যান সুফি আলম সোহেল। তার কথামতো চাঁদা না দেয়ায় নির্যাতন করে মোবাইল ফোনসহ নৌকায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। এই ঘটনাটি প্রতিবাদ করেন ব্যবসায়ী বাবুল আহমদ।
এই বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি চেয়ারম্যান জানতে পেয়ে বাবুলের ওপর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তার বিরুদ্ধে ৬টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছেন।
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান সুফি আলম সুহেল তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। তারপরও আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হওয়া দুঃখজনক। এটা মিথ্যা-বানোয়াট বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শফিকুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকালে এজহারভুক্ত ইব্রাহিম আলী নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম এ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চেয়ারম্যান সূফি আলম সোহেলের বিরুদ্ধে থানায় হামলাসহ ৬টি মামলা রয়েছে। তবে চাঁদাবাজি মামলায় একজন আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে গত ১২ জুলাই সকালে সুনামগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।











