
বি এম বাবলুর রহমান, তালা (সাতক্ষীরা): তালায় মৎস্য ঘেরের বেড়িবাঁধে মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষে যেন বিপ্লব সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে মাছ ও সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে শত শত পরিবার।
খুলনা- সাতক্ষীরা মহাসড়কে দু’পাশে তাকালে নয়নাভিরাম সবুজ দৃশ্য একদম মন জুড়িয়ে যায়। দেখা মিলে প্রতিটি মৎস্য ঘেরের বেড়িবাঁধের উপর মাছা পদ্ধতিতে লাউ, কুমড়া, করলা (উচ্ছে) কুশি, খিরা, বেগুন, পুঁই শাক, বরবটি, ধুন্দুল, ঝিঙে ও লালশাক চাষে বাম্পার ফলনের দেখা দিয়েছে। কয়েক বছর ধরে এই এলাকায় সফলতার নবদিগন্ত। এতে একই জমির বহু ব্যবহারে কৃষকদের আয় যেমন কয়েক গুণ বেড়েছে তেমনি দেশেরে সবজির চাহিদা মেটাতে ও দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি র্অজন করতে তালা উপজলোর কৃষকরা রাখছে গুরুত্বর্পূণ অবদান।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটা ইউনিয়নের মিঠাবাড়ি, নগরঘাটা, সাগদাহ বিলে দেখা গেছে হাজার হাজার হেক্টর মৎস্য ঘেরের বেড়িবাঁধে চারপাশে মাচা পদ্ধতিতে লাউ, কুমড়া ও করলা সহ নানা রকম সবজি চাষ করা হয়েছে। মাচায় ঝুলছে হাজার হাজার করলা, শত শত লাউ ও কুমড়া। একই সঙ্গে ঘেরের বেড়িবাঁধে লাগানো হয়েছে পুঁইশাক ও ঢেড়স।
উল্লেখযোগ্য কিছু মৎস্য ঘেরের বেড়িবাঁধের উপর তরমুজ চাষে সফলতা অর্জনের গল্প আছে।
পাটকেলঘাটা এলাকার কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি তার তিন বিঘা মৎস্য ঘেরে মাচা পদ্ধতিতে লাউ, কুমড়া ও করলা চাষ করেছেন। মাঘ মাস পর্যন্ত এভাবেই মাছের পাশাপাশি সবজি উৎপাদন চলবে। পানি শুকিয়ে গেলে ধান রোপণ করা হবে।
তিনি আরো জানান, তার তিন বিঘা জমির ঘেরে নেট, বাঁশ ও কট সুতা দিয়ে মাচা তৈরিতে ছয় হাজার টাকা খরচ হয়ছে।এখানে উৎপাদতি সবজি বিক্রিতে আয় লাখ লাখ টাকা ছাড়িয়েছে।
কয়েক বছর ধরে মাচা পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদনকারী প্রতাপ কুমার বলনে, মাচা তৈরতে খরচ প্রতিবছর হয় না দুই-তিন বছর পরপর মাচা তৈরি করতে হয়। এতে লাভের পরিমাণ কয়েক গুণ বাড়ে।
এছাড়া পার্শ্ববর্তী সফল মৎস্য চাষি তরিকুল ইসলাম, ভূবনেশ্বর, স্বপন, মইতোষ, অসিত কুমার মন্ডল, তবিবুর রহমান, আমান উল্লাহ এর ঘের সহ যতদূর দু’চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজের সমারোহ প্রকৃতিকে যেন মনোরম দৃশ্য। প্রত্যেকের ঘেরের মাচায় ঝুলছে করলা, লাউ ও কুমড়া।
সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার কৃষকরা ঘেরে মাচা পদ্ধতিতে চাষাবাদে কৃষিতে বিপ্লব সৃষ্টি করছে।
এ প্রসঙ্গে তালা উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ সূত্র থেকে জানা গেছে, উপজেলায় নগরঘাটা ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নসমূহ ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে। এই সবজি সম্পূর্ণ ভেজাল মুক্ত। মৎস্য ঘেরের বেড়িবাঁধের উপর এমন সবজি চাষ খুব লাভজনক।











