বুধবার, ২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দিনাজপুর আদালতে ৮ জনকে আসামি করে মামলা, অভিযুক্তদের খুঁজছে পুলিশ

দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় স্ত্রী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দুই কন্যা সন্তান অপহরণ, নগদ অর্থ, স্বর্ণ-রূপাসহ কোটি টাকার সম্পদ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র আত্মসাৎ এবং প্রাণনাশের হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ আঃ মজিদ খাঁ (৬৪) বোচাগঞ্জ থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, মোঃ আঃ মজিদ খাঁ (৬৪), পিতা মহির উদ্দীন খাঁ, মাতা ফুলজান বেওয়া, সাং মুর্শিদহাট মালিপাড়া, থানা বোচাগঞ্জ, জেলা দিনাজপুর। অভিযোগের বিবাদীরা হলেন— ১) মোছাঃ আশা আক্তার (২৬), পিতা মোঃ লাইচুর রহমান, ২) মোঃ লাইছুর রহমান, পিতা মৃত মফির উদ্দিন, ৩) মোঃ দেলোয়ার হোসেন, পিতা মৃত হামিদুল (মমিন), ৪) নয়ন মিয়া, পিতা লাইছুর রহমান, ৫) মোছাঃ রাশিদা আক্তার, স্বামী দেলোয়ার হোসেন, ৬) মোছাঃ লিপি আক্তার, স্বামী লাইছুর রহমান, ৭) মোঃ আশরাফুল, পিতা আব্দুস সামাদ, বর্তমান ঠিকানা পুরাতন গুচ্ছগ্রাম আবাসন, ১ ইউপি নাফানগর, বড় সুলতানপুর, বোচাগঞ্জ এবং স্থায়ী ঠিকানা জালগাও, ৩ নং মুর্শিদাহাট, বোচাগঞ্জ, ৮) মোঃ শাহ আলম, পিতা অজ্ঞাত, সাং উপজেলারোড, থানা মির্জাপুর, জেলা টাঙ্গাইল।

অভিযোগে বলা হয়, ১নং বিবাদী মোছাঃ আশা আক্তার একজন একাধিক স্বামী পরিত্যক্তা ব্যক্তি। তিনি আবাসিক হোটেল, ছাত্রাবাস, ছাত্রনিবাস ও ভাড়া বাসায় অবস্থান করে অনৈতিক কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি শিশু পাচার ও মাদক বহনের সঙ্গেও সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তার পরিবার—মাদক সেবনকারী পিতা লাইছুর রহমান ও মাতা লিপি আক্তার—এই কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ভুক্তভোগী জানান, বিবাদীদের বিরুদ্ধে তিনি পূর্বেও একাধিক মামলা দায়ের করেছেন। এর মধ্যে ১) বোচাগঞ্জ থানার মামলা নং ৪/২৩ (দিনাজপুর আদালতের বিচারাধীন মামলা নং ১২৯/২৩), ২) দিনাজপুর কোর্ট সিআর মামলা নং ৯০১/২৪, ৩) সিআর মামলা নং ২৪৩/২৪, ৪) সিআর মামলা নং ২৫৪/২৪, ৫) বোচাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল তদন্তাধীন সিআর মামলা নং ২৬৬/২৫ এবং দিনাজপুর নির্বাহী আদালতের মামলা নং পি২৪/২৬ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় জিডি নং ২১৯৫/২৪ (নিখোঁজ ডায়েরি) এবং বোচাগঞ্জ থানায় জিডি নং ৩৩৩/২৪ (নগদ টাকা ও অলংকার চুরি সংক্রান্ত) দায়ের রয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে বোচাগঞ্জ থানার পুলিশ টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার হাঁটুভাঙ্গা এলাকা থেকে লাইছুর রহমান, লিপি আক্তার ও আশা আক্তারকে গ্রেফতার করে। পরদিন ২৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখে তাদের দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হলে পাঁচটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হওয়ায় মামলা নং ২৪৩/২৪ ও ২৫৪/২৪-এর অযোগ্য ধারায় আশা আক্তারকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। তিনি প্রায় ২৪ দিন কারাভোগ করেন। পরবর্তীতে বাদী তার তিন কন্যা সন্তানের বিষয় বিবেচনায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে আশা আক্তারকে মুক্ত করেন। জামিনে মুক্তির পর প্রায় সাড়ে তিন মাস সংসার চলাকালীন ধনতলা মাস্টারপাড়া রোড তিনমাথা মোড় এলাকায় মোঃ লিলুর ছোট ভাই ফাহিমের ভাড়াবাড়িতে বসবাস করছিলেন।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মোছাঃ আশা আক্তার বাদীর স্ত্রী হওয়ায় তিনি তার সঙ্গে বসবাস করছিলেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, আশা আক্তার ইতিপূর্বে ০৭ বার তাকে ছেড়ে পালিয়ে গেছেন এবং প্রতিবারই ০৩ টি কন্যা সন্তান রেখে চলে যান। বাদী জানান, তিনি সাড়ে তিন বছর একাই সন্তানদের লালন-পালন করেন এবং সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বিবাদীর বারবার অন্যায় ক্ষমা করে দেন। কিন্তু গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাদী বাড়িতে না থাকার সুযোগে ১নং অভিযুক্ত আশা আক্তার অন্যান্য ২ থেকে ৮নং বিবাদীদের যোগসাজশে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৭/০১/২০১৬ ইং আনুমানিক সন্ধ্যা ৬:০০ ঘটিকার সময় মোঃ লিলু ও তার ছোট ভাই মোঃ নাঈম-এর ভাড়া বাড়ি থেকে গচ্ছিত ড্রয়ার ভেঙে নগদ ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা, ০২ (দুই)টি কন্যা সন্তান মোছাঃ জান্নাতি আক্তার (০৫) ও মোছাঃ মিম আক্তার (সাড়ে ৩ বছর), কোটি টাকার সম্পদ সংক্রান্ত জরুরি ফাইল, ২০ (বিশ) সেট ৬০ (ষাট) পাতা স্ট্যাম্প দলিল, ০৪ (চার)টি ব্যাংকের চেকের পাতা, ০২ (দুই)টি চেক বই, ০৭ (সাত)টি জন্ম নিবন্ধন সনদ, ০৪ (চার)টি নাগরিক সার্টিফিকেট, ০২ (দুই)টি ওয়ারিশন সার্টিফিকেট, ০৪ (চার)টি মৃত্যু সনদপত্র, ০৭ (সাত)টি দিনাজপুর আদালতে মামলার ফাইল, ০২ (দুই)টি জমির দলিল যার একটি ৯৬ শতক ও অপরটি ১৮০ শতক জমি, তিনটি বাড়ির তিনটি খারিজনামা, সেতাবগঞ্জ পৌরসভার প্রত্যয়পত্র, সাড়ে ০৬ (সাড়ে ছয়) ভরি স্বর্ণের রশিদ মেমো, সাড়ে ১৭ (সাড়ে সতেরো) ভরি রূপার মেমো, ঘরের মালামালের ১৩ (তেরোটি) রশিদ, ৬ (ছয়টি) জাতীয় পরিচয়পত্র, বাদীর এসএসসি পাশের সার্টিফিকেটসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় বাদী দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ থানায় দুইটি সাধারণ ডায়েরি ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি বর্তমানে পুলিশের তদন্তাধীন রয়েছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে ১৭ জানুয়ারি বোচাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমানের নির্দেশে ডিউটি অফিসার সাজুর মাধ্যমে ঘটনাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসআই শামীম আকতারকে।

বোচাগঞ্জ থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি নং ৮১৭/২৬ এবং কোটি টাকার সম্পদ জরুরী ফাইল সংক্রান্ত ১০১৫/২৬ রুজু করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২৪/০১/২০২৬ ইংরেজি তারিখে রাত আনুমানিক ৯:০০ টার দিকে বোচাগঞ্জ থানার পুলিশের সামনে এএসআই শামীম ও কনস্টেবল মোসলেমের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত আসামিরা বাদীকে সরাসরি হুমকি প্রদান করে।

তারা বলেন, বাদী যদি তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো তুলে না নেন, তাহলে তার কোটি টাকার সম্পদ সংক্রান্ত জরুরি ফাইল ফেরত দেওয়া হবে না।

বাদীর অভিযোগ, বিবাদীগণ বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। তারা আরও হুমকি দিয়েছে যে, মামলা প্রত্যাহার না করলে তার দুই কন্যা সন্তানকে জিম্মি করে হত্যা করা হবে এবং সকল গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি ও মূল্যবান কাগজপত্র ধ্বংস করে ফেলা হবে।

এমতাবস্থায় ভুক্তভোগী মোঃ আঃ মজিদ খাঁ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট তার দুইটি কন্যা সন্তানসহ সকল মূল্যবান জরুরি কাগজপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র দ্রুত উদ্ধারের জন্য যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

, বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যায়যায়কাল এর সর্বশেষ সংবাদ