
রাজশাহী প্রতিনিধি : আরএমপির স্পেশাল ব্রাঞ্চের এসআই আব্দুল মোমেনকাণ্ডে চরম উৎকণ্ঠায় রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) অন্তত ৫ হাজার শিক্ষার্থী। তার ‘অপতৎপরতায়’ দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনিশ্চয়তায় পড়েছে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ। এমতাবস্থায় মোমেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা।
সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বয়ক আব্দুল আল ফাহিম রেজা এবং রামেবি অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষরিত স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে পাঠানো লিখিত অভিযোগে বলা হয়, এসআই মোমেনের বাসা জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায়। সেখানে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের বাসা। স্বপনের প্রভাবে ২০ বছর ধরে একই এলাকায় কর্মরত রয়েছেন তিনি। কনস্টেবল থেকে প্রমোশন নিয়ে হয়েছেন এসআই। রামেবির উপচার্যকে গোয়েন্দা রিপোর্টের ভয় দেখিয়ে এবং আওয়ামী লীগের ভূমিমন্ত্রীর ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য বিশ্বজিৎ চন্দ্রকে দিয়ে প্রভাব প্রভাব খাটিয়ে ছেলে জোবায়েরের ইলেকট্রিশিয়ান পদে চাকরি বাগিয়ে নিয়েছেন মোমেন। ২০১২ সালে ভাগ্নে মহসিনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অফিস সহায়ক পদে চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য খায়রুজ্জামান লিটনের একান্ত সচিব লিমনের হয়ে টেন্ডার বাণিজ্য করতেন তিনি। বিষয়টি প্রমাণিত হলে তাকে কাশিয়াডাঙ্গা থানার অধীনে বদলি করা হয়। পরবর্তীতে সংসদের হুইপ স্বপনের মাধ্যমে আবারও মেডিকেল এরিয়াতে আসেন। এছাড়া রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দিদারুলের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে এসআই মোমেন স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নিয়োগ বাণিজ্য ও বদলি বাণিজ্য করে আসছেন দীর্ঘদিন যাবৎ।
একটি গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের হয়ে বিভিন্ন অপকর্মের কারণে পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে এসআই মোমেনকে গত বুধবার দিনাজপুরের হিলিতে বদলি করা হয়। কিন্তু তিনি আরএমপি কমিশনারের প্রভাব খাটিয়ে বদলি ঠেকাতে তৎপরতা চালাচ্ছেন। ভোল পাল্টে নিজেকে বিএনপি-জামায়াতের পক্ষের দাবি করে রামেবির কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করছেন। এতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণ সহ দাপ্তরিক কার্যক্রম থমকে গেছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, এসআই মোমেনকাণ্ডে একাডেমিক কার্যক্রম থমকে যাওয়ায় রামেবির অন্তত ৫ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন উৎকণ্ঠায়। কর্মকর্তাদের অবশ্যই দায়িত্ব পালনের পরিবেশ করে দিতে হবে। এসআই মোমেন এতে বাধা সৃষ্টি করছেন। অবিলম্বে তাকে সরানো না হলে কর্মসূচিতে নামা হবে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিটিএসবির অভিযুক্ত এসআই আব্দুল মোমেন। আর পুলিশ হেডকোয়ার্টারের ডিআইজি (এডমিন) আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমলে নেয়া হয়েছে।











