
যায়যায়কাল প্রতিবেদক: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান দাবি করেছেন, যে পোস্টাল ব্যালট প্রবাসীদের কাছে পাঠানো হচ্ছে, তাতে খুব উদ্দেশ্যমূলকভাবে কয়েকটি রাজনৈতিক দল, তাদের নাম এবং প্রতীক প্রথম লাইনে রাখা হয়েছে।
তার ভাষ্য, ‘অথচ বিএনপির নাম ও প্রতীক ঠিক মাঝখানে দেওয়া হয়েছে। কাগজটা ভাজ করলে ভালো করে নজরেই পড়বে না।’
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাত শেষে এসব বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, তারা ইসির সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইসি তাদের জানিয়েছে তারা বিষয়টি খেয়াল করেননি।
পোস্টাল ব্যালটের বিন্যাস নিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, তিনটি বিশেষ রাজনৈতিক দল, তাদের নাম এবং প্রতীক প্রথম লাইনে এসে গেছে। ব্যালটে যদি পাঁচটা না হয় ছয়টা কলাম হতো বা চারটা কলাম হতো, তাহলে এভাবে সাজানোর সুযোগ ছিল না। কাজেই ব্যাপারটা ইচ্ছাকৃতভাবেই করা হয়েছে। যারা এই কাজটি করেছে, সম্ভবত তারা কোনো উদ্দেশ্য নিয়েই করেছে।’
এই কৌশলে ইসি যেন পোস্টাল ব্যালট না পাঠায় সে আহ্বান জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এই কৌশল যেন দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে কার্যকর করা না হয়। এটা সংশোধনের দাবি জানিয়ে আমরা বলেছি, যে পদ্ধতিতে বিতরণ করা হচ্ছে সেটা সঠিক হচ্ছে না। এতে কিছু ত্রুটি হচ্ছে।’
বিএনপির দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা প্রার্থীদের বিষয়ে ইসির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘দলেরও কিছু প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এই নির্বাচন কমিশনে যেখানে আপিল হচ্ছে সেখানে কিছু প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হচ্ছে। আমাদের দলের নাও হতে পারে, এটা অন্য কোনো দলের হতে পারে। কিন্তু আমরা মনে করি যে আইন সবার জন্যই সমান হবে।’
তিনি জানান, আমরা শুনেছি, ইতোমধ্যে দুইজন—একটা অন্য এবং জামায়াতে ইসলামের দুইজন প্রার্থী বাতিল করা হয়েছে। রিভিউ সবার জন্যই হওয়া উচিত।
‘এর মধ্যে অনেক প্রার্থী আছেন যাদের গত ১৫ থেকে ১৬ বছরে দুঃশাসনের আমলে দেশ ত্যাগ করতে হয়েছিল এবং সেসব জায়গায় তাদের বছরের পর বছর থাকতে হয়েছে। এটা করতে গিয়ে নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে হয়েছিল। আজকে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারা ফিরে এসেছেন,’ যোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, ‘তাদের যদি এ ধরনের কোনো অজুহাতে নির্বাচনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়, আমরা মনে করি এটা খুবই অন্যায় হবে।’
বিএনপি যথাসময়ে নির্বাচন চায় জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা আমরা বলেছি। বিএনপি চায়, এই নির্বাচন যেন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হয়। সবাই যেন এই নির্বাচনে অংশ নেয়। কেউ যেন কোনো কারণে কোনো সুযোগ না পায়, নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করতে না পারে। আমরা লেভেল প্লেইং ফিল্ড ঠিক রাখার জন্যরা ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, যদি কেউ এই ভোটে কোনো রকমের কারচুপির চেষ্টা করে, তাহলে তাদের এনআইডি কিংবা তাদের যে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ভোটার ব্লক করে দিতে। যারাই এই নির্বাচনকে বিঘ্নিত করার জন্য কারচুপি করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে যেন আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নজরুল ইসলাম খানের অভিযোগ, ‘একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল সারা দেশের ভোটারদের কাছে বিভিন্ন এলাকায় ভোটার আইডি কার্ড, এনআইডি কার্ড, মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করছে। এর উদ্দেশ্য পরিষ্কার যে, কেন তারা এটা করছে। আমরা বহু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। কিন্তু কখনো এই ঘটনা ঘটেনি। এটা তো কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে।’
গণভোট নিয়ে বিএনপির অবস্থান কী জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরাই সংস্কারের দাবি সবার আগে করেছি। আমাদেরই প্রস্তাব অনুযায়ী সব সংস্কারের বিষয় আলোচনায় এসেছে, কমিটি হয়েছে এবং সেখানে অংশ নিয়েছি, কন্ট্রিবিউট করেছি ও বহু বিষয়ে একমত হয়েছি। যেসব বিষয়ে একমত হতে পারিনি, সেগুলো আমরা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, ‘এখন ব্যাপার হচ্ছে, যে সংস্কারের বিপক্ষে আমরা নই। আমরা সেই সংস্কারের পক্ষে। অতএব আমরা হ্যাঁ ভোট দেব। এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।’











