সোমবার, ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এর সর্বশেষ সংবাদ

ফেলানী নয়, ফজিলাতুন্নেছা জোহা হবে মাভাবিপ্রবি ছাত্রী হলের নাম

সমাপ্তী খান, মাভাবিপ্রবি: শহীদ ফেলানী নয়, নিখিল বঙ্গের প্রথম মুসলিম নারী গ্র্যাজুয়েট ও টাঙ্গাইলের কৃতী সন্তান বেগম ফজিলতুন্নেছা জোহা’র নামে নামকরণ হতে যাচ্ছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল।

গত ২০ ডিসেম্বর হলটির আবাসিক নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ–এর এক মতবিনিময় সভা শেষে ভোটাভুটির মাধ্যমে এই নামটি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়। সভায় অংশ নেওয়া সাধারণ নারী শিক্ষার্থীদের অধিকাংশের ভোটে বেগম ফজিলতুন্নেছা জোহা নামটি সর্বাধিক সমর্থন পায়।

বেগম ফজিলতুন্নেছা জোহা ১৮৯৯ সালে টাঙ্গাইল জেলার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার নামদার কুমুল্লী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশবের একটি বড় অংশ কেটেছে করোটিয়ার জমিদার বাড়িতে, যেখানে তাঁর পিতা ওয়াজেদ আলী খাঁ কর্মরত ছিলেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন অগ্রণী শিক্ষাবিদ, সমাজসেবী ও লেখিকা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম নারী ছাত্রী, নিখিল বঙ্গের প্রথম মুসলিম নারী গ্র্যাজুয়েট, দেশের প্রথম মুসলিম নারী অধ্যক্ষ (ইডেন কলেজ) এবং উচ্চশিক্ষার জন্য বৃত্তি নিয়ে বিদেশে গমনকারী প্রথম বাঙালি মুসলমান নারী হিসেবে পরিচিত। নারী শিক্ষা ও নারী জাগরণে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র উসমান হাদী’র মৃত্যুর ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ মিছিল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ পরিবারের নামে থাকা তিনটি হলের নাম পরিবর্তনের দাবি জানান শিক্ষার্থীদের একাংশ।সেই দাবিতে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলতুন্নেছা মুজিব হলকে “শহীদ ফেলানী হল” নামে পরিবর্তনের দাবি তুলেছিলেন তারা

তবে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের আবাসিক নারী শিক্ষার্থীরা এই দাবিতে আপত্তি জানিয়ে বলেন, তাদের মতামত ছাড়াই এই নাম ঘোষণা করা হয়েছে এবং তারা নিজেদের হলের নাম নিজেরাই নির্ধারণ করতে চায়।

শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা কয়েক মাস আগে থেকে বিভিন্ন নাম প্রস্তাব করেছিলাম এবং অনলাইন ভোটিং করেছি। সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিল সুফিয়া কামাল হল, কিন্তু পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি স্যারের সাথে আলোচনার পর বেগম ফজিলতুন্নেছা জোহা নামটি সর্বোচ্চ ভোট পায়। তাই আমরা চাই এই নামটি হলের নামে রাখা হোক।”

জান্নাতি আক্তার নামের অন্য একজন শিক্ষার্থী জানায়, “সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে বারবার হলের নাম পরিবর্তন করলে তা স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে না। একজন ব্যক্তিত্বের নামে স্থায়ী হলের নাম হওয়া উচিত, যিনি রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বড় অবদান রেখেছেন। সেই দিক দিয়ে “ফজিলতুন্নেছা জোহা”নামই সবচেয়ে যথার্থ।”

হলেটির প্রোভোস্ট ফারহানা আক্তার বলেন,”শহীদ ফেলানী হল” নাম নিয়ে হলের শিক্ষার্থীদের আলাদা কোনো অভিযোগ ছিল না।তারা কেবল বলেছে তাদের হলের নাম তারাই যেন নির্ধারণ করতে পারে। শিক্ষার্থীদের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পরই ২০ ডিসেম্বর হলের নাম হিসেবে বেগম ফজিলতুন্নেছা জোহা’র নাম নির্বাচন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, “যেহেতু মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় টাঙ্গাইলের মাটিতে অবস্থিত, তাই আমরা মনে করেছি এই অঞ্চলের এমন একজন মহীয়সী নারীর নামেই হলটির নামকরণ হওয়া সবচেয়ে যৌক্তিক।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ ইমাম হোসেন বলেন, “ছাত্রদের দাবি এবং প্রশাসনিক নির্দেশনা অনুযায়ী হলগুলোর নাম পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নতুন নামগুলো শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হচ্ছে এবং শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর তা কার্যকর হবে।”

 

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Tumblr
Telegram

বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *