
পাভেল ইসলাম মিমুল, উত্তরবঙ্গ: বাবার স্মৃতিতে: আমার আকাশ,আমার পৃথিবী ও এক অপূর্ণ স্বপ্ন সময় নাকি সব ক্ষত সারিয়ে দেয়—এই কথাটি হয়তো অনেকের জীবনে সত্য। কিন্তু কিছু শূন্যতা আছে,যা সময়ের সাথে সাথে আরও গভীর হয়, আরও ভারী হয়ে ওঠে। তেমনই এক শূন্যতার নাম সাংবাদিক মাসুদ রানা সুইট।
রাজশাহীর গণমাধ্যম অঙ্গনে এক সুপরিচিত ও সম্মানিত নাম ছিলেন মাসুদ রানা সুইট। ১৯৯৮ সাল থেকে বগুড়া ও রাজশাহীর সাংবাদিকতায় তাঁর পথচলা ছিল নিষ্ঠা, সততা ও সাহসিকতার প্রতীক। ৭ আগস্ট ২০২৫—এই একটি তারিখ তাঁর সুযোগ্য পুত্র, আবুল হাসনাত অমির জীবনের সব রঙ যেন কেড়ে নেয়। সেদিন তিনি হারান শুধু একজন বাবাকে নয়, হারান তাঁর শ্রেষ্ঠ বন্ধু, পথপ্রদর্শক ও জীবনের সবচেয়ে শক্ত আশ্রয়টিকে।
মাসুদ রানা সুইট কেবল একজন পেশাদার সাংবাদিকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন তাঁর সন্তানের জীবনের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। ছেলে অমিকে তিনি প্রায়ই বলতেন—
“সবসময় সৎ পথে চলবা। আর আমি যখন তোমার কাছে থাকবো না, তখন বুঝতে পারবা বাবা তোমার কাছে কী ছিল।”
আজ বাবার অবর্তমানে প্রতিটি মুহূর্তে সেই কথার গভীরতা উপলব্ধি করছেন আবুল হাসনাত অমি। জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে, প্রতিটি সংকটে তিনি খুঁজে ফেরেন বাবার সেই ছায়া, যে ছায়া একসময় ছিল শীতল বটবৃক্ষের মতো।
১৯৯৮ সালে বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক চাঁদনীবাজার পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে রাজশাহীতে কাজ শুরু করেন মাসুদ রানা সুইট। হয়তো তখন তিনি ভাবেননি, তাঁর এই পেশাগত নিষ্ঠা একদিন ছেলের জীবনের ধ্রুবতারা হয়ে উঠবে।
আজ ‘দৈনিক স্বপ্নের বাংলাদেশ’-এর প্রতিটি সংবাদ, প্রতিটি শিরোনামে অমি যেন বাবাকেই খুঁজে পান। পত্রিকা আছে, পাঠকের ভালোবাসা আছে, সাফল্য আছে—কিন্তু নেই সেই মানুষটি, যার একটি হাসিমাখা প্রশংসা সব ক্লান্তি দূর করে দিত।
১ জানুয়ারি ২০১৫ সালে রাজশাহীর মাটি থেকেই যাত্রা শুরু করে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘দৈনিক স্বপ্নের বাংলাদেশ’। বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী সাংবাদিকতার অঙ্গীকার নিয়ে আবুল হাসনাত অমি যখন এই পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন, তখন নীরব ছায়ার মতো পাশে ছিলেন বাবা মাসুদ রানা সুইট।
দীর্ঘ তিন দশকের সাংবাদিকতা-অভিজ্ঞতা আর ছেলের আধুনিক চিন্তার সমন্বয়ে অল্প সময়েই পাঠকের আস্থা অর্জন করে পত্রিকাটি। আজ এটি কেবল একটি সংবাদমাধ্যম নয়—এটি বাবা ও ছেলের যৌথ স্বপ্নের নাম।
বাবার চলে যাওয়াটা আজও অমির কাছে দুঃস্বপ্নের মতো। মাঝেমধ্যে মনে হয়, এই বুঝি বাবা ডাক দেবেন—“কিরে, আজকের পত্রিকার খবর কী?”
কিন্তু বাস্তবতা বড়ই নির্মম। বাবাকে হারানোর পর প্রতিটি কাজ, প্রতিটি সিদ্ধান্ত আরও ভারী হয়ে উঠেছে। যারা বাবাকে হারিয়েছেন, কেবল তারাই জানেন—মাথার ওপর থেকে সেই বিশাল বটবৃক্ষ সরে গেলে জীবনের রোদ কতটা তপ্ত হয়।
বাবা নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ রয়ে গেছে রক্তে-মাংসে মিশে। সততা,সাহস আর সত্যের পথে অবিচল থাকার শিক্ষা এখন ‘দৈনিক স্বপ্নের বাংলাদেশ’-এর মূল ভিত্তি।
আবুল হাসনাত অমি বলেন,“আমার জীবনে আমার বাবাই ছিলেন আমার সবকিছু। তাঁকে ছাড়া জীবনটা এখন খুব শূন্য লাগে। কিন্তু তাঁর সেই কথা—‘সৎ পথে চলবা’—আমাকে প্রতিদিন নতুন করে সাহস দেয়।”
আজ ২০২৬ সালেও বাবার শুরু করা ১৯৯৮ সালের সেই পথচলা অব্যাহত রয়েছে সন্তানের হাত ধরে। ‘দৈনিক স্বপ্নের বাংলাদেশ’ এখন কেবল একটি নাম নয়—এটি একজন বাবার আদর্শ এবং একজন সন্তানের ভালোবাসার অমর স্মারক।
শেষে একটি কথাই বারবার সত্য হয়ে ওঠে—“বাবার কাঁধের চেয়ে বড় কোনো পাহাড় নেই, আর তার দোয়ার চেয়ে বড় কোনো বর্ম নেই।”বাবা,যেখানেই থাকো ভালো থেকো। তোমার রেখে যাওয়া স্বপ্ন একদিন সত্যের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাবেই—এই সন্তানের অঙ্গীকার











