
কাজী আল আমিন, বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের সাতগাঁও গ্রামের সাবেক যুবলীগের কাউছার মিয়ার চাঁদাবাজি ও অপকর্মের বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। প্রেসক্লাব বিজয়নগর কার্যালয়ে শুক্রবার বিকাল ৩ টায় সকল সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ভুক্তভোগীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আব্দুল্লাহ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বুধবার দুপুরে বিজয়নগর আমতলী বাজারে সাবেক যুবলীগ নেতা কাউছার মিয়ার কাছে পাওনা টাকা চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তার বাহিনীর ক্যাডার দিয়ে প্রকাশ্যে ফজল আলীর ২ ছেলে খোকন ও সুজনকে অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা দায়ের করেন। এদিকে মামলার পর কাউছার নিজেকে বাঁচানোর জন্য এবং ঘটনাকে অন্যখাতে নেয়ার জন্য কাউছার মিয়া নিজের অফিসের জিনিসপত্র নিজেই ভাঙচুর করেন। অফিসে থাকা প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভেঙে আমাদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর অপচেষ্টা ও মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনে লিপ্ত রয়েছেন। কাউছার ও তার ক্যাডার বাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতন এবং প্রভাবের বিরুদ্ধে আজকের এই সংবাদ সম্মেলন।
তিনি আরও বলেন, কাউছার যুবলীগের সাবেক উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক। তার এই দলীয় পদবীর অপব্যবহার করে এলাকাতে বিভিন্ন সময় ত্রাসের সৃষ্টি করেছেন। তার আতঙ্কে এলাকার মানুষ ভীত। সে মাদক কারবারিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কাউছার তার কিছু লাঠিয়াল বাহিনী গ্রামের নিরীহ জনসাধারণের ওপর নির্যাতন করে আসছিল। সে স্থানীয় আমতলী বাজারে প্রায়ই চাঁদাবাজি করে। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলে না।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি কাউছার মিয়া চান্দুরা-সিঙ্গারবিল সড়ক থেকে সরকারি গাছ জোরপূর্বক কেটে নিয়েছেন। চান্দুরা ইউনিয়নের কাউছার ও তার ক্যাডার বাহিনী দ্বারা অতিষ্ঠ। ফজর আলীর ছেলে সুজন মিয়া থেকে গত এক বছর আগে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিল কাউছার মিয়া। কথা ছিল বিজয়নগর থানা থেকে নিলামের মোটরসাইকেল কিনে দেবে। এক বছর যাবৎ মোটরসাইকেল ও টাকা কোনটাই ফেরত দিচ্ছে না। গত বুধবার অনুমান ১১টায় মোবাইল ফোনে টাকা চাইলে খোকনকে গালমন্দ করেন কাউছার। বাজারে এসে তার বড় ভাই খোকন ও সুজনকে জনসম্মুখে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন কাউছার ও তার দল। বর্তমানে আহত খোকন জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
আব্দুল্লাহ বলেন, অপরদিকে নিজ হাতে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর করে মিথ্যা মামলা দিয়ে ও স্থানীয় যুগান্তর অনলাইন পোর্টালে ভাঙচুরের মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে। উক্ত ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করে নিরীহ পরিবারটিকে অযথা হয়রানি করার চেষ্টা করতেছে। যা ঘটনার দিন পুলিশ প্রশাসন কাউছারকে তার অফিস থেকে বের করে আনেন। কাউছার বাহিনীর হাত থেকে বাঁচার জন্য, মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা মোকদ্দমা থেকে যেন রেহাই পাই তার জন্য এ সংবাদ সম্মেলন। কাউছার ও তার ক্যাডার বাহিনী থেকে আমরাসহ এলাকাবাসী মুক্তি চাই।










