
পাভেল ইসলাম মিমুল, উত্তরবঙ্গ: ইমারত বিধিমালা (বিল্ডিং কোড) লঙ্ঘনে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) দফতরে প্রায় প্রতিদিন অভিযোগপত্র জমা পড়ছে।
নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের কারণে আশপাশের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় একটার পর একটা অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মিলছে না। ফলে নগরীতে নকশাবহির্ভূত বহুতল ভবনের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ৫ তলার অনুমোদন নিয়ে ৭ তলা ও ৭ তলার অনুমোদন নিয়ে ১০ তলা ভবনও বানানো হচ্ছে। তবে ইমারত বিধিমালা উপেক্ষা করে সড়ক ঘেঁষে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ভবনের উচ্চতা অনুযায়ী রাস্তা ও ফাঁকা জায়গা ছাড়ার নির্দিষ্ট বিধি থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না।
ঠিক এমন ভাবেই রাজশাহী নগরীর মতিহার থানার কাজলা সুইটের মোড় এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে মোসা: শামসুল নাহার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে।
শামসুল নাহার রাজশাহী নগরীর কাজলা সুইটের মোড় এলাকার গোলাম মুস্তফার স্ত্রী।
এলাকার মোসা: মমেনা বেগম ও পাভেল ইসলাম মিমুলের জমির পাশে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। তবে এই নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
নিয়ম বহির্ভূত বিল্ডিং নির্মান কাজ বন্ধে গত ২৬ জানুয়ারি মো: টুটুল শেখ এর ছেলে পাভেল ইসলাম মিমুল রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন করেন।
ভুক্তভোগী মো: পাভেল ইসলাম মিমুল বলেন, শামসুল নাহারের মেয়ে জামাই নাহিদ হাসানকে একাধিকবার অনুরোধ করেও কাজ হয়নি। তার দাম্ভিকতা হলো তিনি একজন বিত্তবান মানুষ। প্রভাবশালী মহল ও থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে পুলিশের ভয় দেখাচ্ছেন। কাজ বন্ধ হলে দেখে নেওয়ার হুমকি এবং টাকা দিয়ে সবাইকে ম্যানেজ করেই প্রকাশ্যে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, কাজলা মৌজায়,আর এস ১৬৩৮ কোন অনুমোদিত নকশাঁ পাশ নেই। ১৬৩৮ নং দাগের জায়গায় ইমারত নির্মানের আরডিএ কর্তৃক কোন অনুমতিও নেই।
জমির সীমানা সংক্রান্ত সমস্যা নিয়েও আরডিএর বিধি না মেনে, নকশা ও নিয়মের কোন তোয়াক্কা না করে মোসা: শামসুল নাহার ৫ তলা বিশিষ্ট ইমারত নির্মাণ করছেন। এই অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কেনো ব্যবস্থা নেয়া হবে না ?
আরডিএ’কে কাজ বন্ধ জানালেও কাজ চলমান রেখেছেন মোসা শামসুল নাহার, আজ আবারো মিস্ত্রি দিয়ে কাজ চলমান রেখেছেন তিনি । তাহলে আমি বিচার পাবো কোথায় ? আমি কি একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে ন্যায় বিচার পাবো না ?
আরডিএর বিধি না মেনে বহুতল ভবন নির্মাণের বিষয়ে মোসা শামসুল নাহার প্রতিবেদক’কে বলেন, আমরা এখন আর কাজ করবো না। নির্বাচনের পরে কাজ করবো।
জানতে চাইলে মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি আরডিএ অফিস থেকে চিঠি পেয়েছি। যার প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে কাজ আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে। কোন বিল্ডিং হবে, কোন বিল্ডিং হবেনা এটা আরডিএ এর দায়িত্ব। আরডিএ অফিস তাদের নিয়ম মেনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। জনগণের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আমাদের পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা ২৪ ঘন্টা কাজ করে যাচ্ছে এবং আমরা সব সময় নিয়োজিত আছি।
এ বিষয়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অথরাইজড অফিসার মো: আব্দুল্লাহ আল তারিক বলেন, কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।নোটিশ দেয়া হয়েছে। তারপরও যদি তিনি কাজ চলমান রাখেন তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।











